ফায়দা লুটছে দালালচক্র

ভ্যাট নিবন্ধনে খুলনায় ব্যবসায়ীদের ভোগান্তি

  নূর ইসলাম রকি, খুলনা ব্যুরো ২২ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

সম্প্রতি অনলাইনের ১৩ ডিজিটের ভ্যাট নিবন্ধন প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। ফলে আগের ৯ ও ১১ ডিজিটের সব ‘বিন সার্টিফিকেট’ পর্যায়ক্রমে বাতিল হবে। কিন্তু এই ভ্যাট নিবন্ধন করতে গিয়ে ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন ব্যবসায়ীরা। এতে ফায়দা লুটছে দালালচক্র। সরকারের পক্ষ থেকে অনলাইনে ফ্রি ভ্যাট নিবন্ধনের ব্যবস্থা থাকলেও দালালচক্র এক হাজার থেকে পাঁচ হাজার টাকার বিনিময়ে সার্টিফিকেটের ব্যবস্থা করছে। অবশ্য অনেক ব্যবসায়ী স্বীকার করেছেন, হেল্প ডেস্ক না থাকায় দ্রুত সার্টিফিকেট পাওয়ার জন্য তারা দালালের কাছে যাচ্ছেন।

অনুসন্ধানে জানা যায়, ২০১৭ সালে ভ্যাট সম্পর্কিত সব সার্ভিস ও তথ্য দিয়ে সহযোগিতার জন্য খুলনায় হেল্প ডেস্ক চালু হয়। তখন ব্যবসায়ীরা সহজেই ভ্যাট সার্টিফিকেট সংগ্রহ করতে পারতেন। কিন্তু ২০১৯ সালের ৩০ মে হেল্প ডেস্ক বন্ধ হয়ে যায়। কারণ হিসেবে জানা যায়, এই সার্ভিস যে প্রজেক্টের আওতায় ছিল, তার মেয়াদ শেষ হয়ে গেছে। তবে কর্তৃপক্ষের দাবি, দ্রুত সর্ভিসটি পুনরায় চালু হবে। এ কারণে বিভিন্ন শ্রেণির ব্যবসায়ীরা ভ্যাট অফিস থেকে কোনো সহযোগিতা না পেয়ে চলে যাচ্ছেন দালালের কাছে। যার বড় একটা অংশ নগরীর কেসিসি সুপার মার্কেট, বায়তুন নূর শপিং কমপ্লেক্স, খালিশপুর ও দৌলতপুর এলাকায় অবস্থান করছে। এক হাজার থেকে পাঁচ হাজার টাকা নেয়া হচ্ছে ১৩ ডিজিটের ভ্যাট নিবন্ধন সনদের জন্য।

এর কারণ হিসেবে ব্যবসায়ীরা জানান, অনলাইনের অনেক বিষয় ব্যবসায়ীরা সাধারণত বোঝেন না, তারপরও ভ্যাট অফিসে তদবির ছাড়া সার্টিফিকেট পাওয়া যায়, এটি এখনও সবাই বিশ্বাস করে না। তাই অনেকটা নিরুপায় হয়েই অন্যের সহযোগিতা নিচ্ছেন ব্যবসায়ীরা।

এদিকে অনলাইনে ভ্যাট নিবন্ধনের জন্য তিন থেকে সাতদিন লাগার কথা, কিন্তু লাগছে দু’সপ্তাহ বা তারও বেশি। দালালদের একটি চক্র তদবির করে অল্প সময়ে সনদ বের করতে পারে বলে অনেকে বলে থাকে।

কাস্টমস এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেট, খুলনার সহকারী প্রোগ্রামার মো. আরিফুর রহমান বলেন, হেল্প ডেস্ক না থাকায় ব্যবসায়ীরা বিপাকে পড়েছেন। যতদূর সম্ভব, সবাইকে সাহায্য করা হচ্ছে। অফিসের বাইরে ভ্যাট সার্টিফিকেট নিবন্ধন নিয়ে দালালরা কী করছে, তা দেখার বিষয় নয়। অনলাইনে আবেদন করার পর সবাইকে পর্যায়ক্রমে সার্টিফিকেট তাদের মেইলে দেয়া হচ্ছে। অনেকে মেইল চেক না করেই মনে করছেন সার্টিফিকেট পেতে অনেক সময় লাগছে।

তিনি আরও বলেন, খুলনা, বাগেরহাট, সাতক্ষীরা, পিরোজপুর, মাদারীপুর, শরীয়তপুর, ঝালকাঠি, ভোলা, বরগুনা, পটুয়াখালী, বরিশালসহ ১১টি ডিভিশনে ভ্যাট নিবন্ধনের জন্য রি-রুটিং অফিসার ১ জন এবং প্রত্যেক ডিভিশনে ১ জন করে ইন্সপেক্টর রয়েছেন। অনলাইনে ব্যবসায়ীদের আবেদন জমা পড়ার পর থেকে দুটি ধাপ শেষে ১৩ ডিজিটের ‘বিন সার্টিফিকেট’ দেয়া হয়।

এ ব্যাপারে কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেট খুলনার বিভাগীয় কর্মকর্তা সুমন দাশ যুগান্তরকে বলেন, অনলাইনে ভ্যাট নিবন্ধন প্রক্রিয়া খুবই সহজ। ভোগান্তির কোনো বিষয় নেই। তবে অফিসের বাইরে দালালদের বিষয়ে কোনো মন্তব্য করব না। তিনি বলেন, কিছু ক্ষেত্রে ব্যবসায়ীদের সার্টিফিকেট পেতে বিলম্ব হতে পারে। কারণ আমরা সার্টিফিকেট দেয়ার আগে মাঝেমধ্যে যাচাই-বাছাই ও স্পটে সরেজমিন টিম পাঠাই। তাছাড়া স্বাভাবিকভাবে ব্যবসায়ীদের আবেদনের তিন থেকে সাতদিনের মধ্যে ১৩ ডিজিটের বিন সার্টিফিকেট পাঠিয়ে দেই। তিনি স্বীকার করেন, ১১টি ডিভিশনের ভ্যাট সার্টিফিকেট প্রদানের জন্য রি-রুটিং অফিসার হিসেবে তিনি দায়িত্ব পালন করছেন। তবে জনবল সংকটের বিষয়ে কোনো কথা বলতে রাজি হননি।

আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×