রাজশাহীর গুদামে ওজন কারচুপি

বস্তায় ৫ কেজি ইউরিয়া কম পাচ্ছে কৃষক

  আনু মোস্তফা, রাজশাহী ব্যুরো ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০১৮, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

রাজশাহীসহ উত্তরাঞ্চলের বিভিন্ন জেলায় কৃষকের মাঝে ইউরিয়া সার ওজনে কম দেয়ার অভিযোগ উঠেছে। রাজশাহীসহ উত্তরাঞ্চলের ডিলাররা বাংলাদেশ ফার্টিলাইজার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিএফএ) কাছে এ ব্যাপারে লিখিত অভিযোগ করেছেন। প্রতি বস্তায় ৪-৫ কেজি সার কম দেয়ায় কৃষকের মাঝে ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। এদিকে পরিবহন সিন্ডিকেটের কারণে পর্যাপ্ত সার সরবরাহ নিয়েও শঙ্কা দেখা দিয়েছে।

ডিলারদের অভিযোগ, আমদানি করা এসব সার চট্টগ্রাম ও মোংলা বন্দর থেকে জাহাজে করে বাঘাবাড়ি বন্দরে নিয়ে রিপ্যাকিং করা হয়। কিছু জমাট বাঁধা সারও রিপ্যাকিং হচ্ছে রাজশাহীসহ উত্তরাঞ্চলের কয়েকটি বাফার গুদামে। এ সময়ই ৫০ কেজির বস্তায় ৪-৫ কেজি কম দেয়া হচ্ছে। ডিলাররা বলছেন, তারা উত্তরাঞ্চলের রাজশাহী, সান্তাহারসহ কয়েকটি বাফার গুদাম থেকে বস্তা হিসেবে সার নিয়ে থাকেন। কিন্তু কৃষক পর্যায়ে সারের বস্তা বিক্রির পাশাপাশি খুচরা হিসেবেও বিক্রি করতে হয়। কৃষক প্রায়ই অভিযোগ করছেন, বস্তা হিসেবে মাপে কম পাওয়া যাচ্ছে। ডিলাররা বিএফএ’র পাশাপাশি জেলা প্রশাসকদেরও কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। রাজশাহী বাফার গুদাম কর্তৃপক্ষ অভিযোগ পাওয়ার কথা স্বীকার করেছেন। বেশ কিছু দিন এ নিয়ে হইচইয়ের পর পরিস্থিতি এখন কিছুটা স্বাভাবিক হয়েছে। বিএফএ রাজশাহী জেলা শাখার নেতারা জানিয়েছেন, বিসিআইসির রাজশাহীর ৮৯ জন এবং চাঁপাইনবাবগঞ্জের ৫৭ জন সার ডিলারই মূলত ইউরিয়া সার বিপণনে নিয়োজিত। রাজশাহীর পাশাপাশি উত্তরের একাধিক জেলার সার ডিলার সমিতির নেতারা সম্প্রতি ঢাকায় তাদের এক সভায়ও বস্তাপ্রতি ৪-৫ কেজি করে সার কম দেয়ার অভিযোগ করেছেন। ফলে কৃষক প্রতি বস্তায় ৬০ থেকে ৭০ টাকা করে আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ছেন।

রাজশাহীর কয়েকজন সার ডিলার জানিয়েছেন, রাজশাহী বাফার গুদামে বিপুল পরিমাণ জমাট ইউরিয়া সার রয়েছে। সেগুলো পুনরায় বস্তাবন্দি করতে গিয়েই ওজনে কম দেয়া হচ্ছে। এছাড়া নগরবাড়ি-বাঘাবাড়ি নৌবন্দরে সার বস্তাবন্দি করতে গিয়েও একই কর্ম করা হচ্ছে। এ কায়দায় চক্রটি কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে। কথা হয় বিএফএ’র রাজশাহী শাখার সভাপতি ওছমান আলীর সঙ্গে। তিনি যুগান্তরকে বলেন, অভিযোগের বিষয়টি বাফার গুদাম কর্তৃপক্ষকে মৌখিকভাবে জানানো হয়েছে। এখন আর কোনো অভিযোগ নেই।

ডিলাররা জানান, বাফারগুদামে সার কম দেয়ার অভিযোগ নতুন কিছু নয়। মুখ দেখে দেখে তারা জমাট বাঁধা সার ডিলারদের গছিয়ে দিচ্ছে। আখেরে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন কৃষক।

রাজশাহীর ডিলার সমিতির সভাপতি ওছমান আলী বলেন, ওজন কম দেয়ার পাশাপাশি সার পরিবহন নিয়েও তারা সিন্ডিকেটের হাতে জিম্মি। তারা ইচ্ছেমতো সার পরিবহন করেন। পর্যাপ্ত সার মজুদ না থাকায় ভরা মৌসুমে ঘাটতির আশঙ্কাও রয়েছে কারও কারও মধ্যে।

রিপ্যাকিংয়ের সময় ওজনে কম দেয়ার অভিযোগ স্বীকার করে রাজশাহী বাফারের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আবু বকর সিদ্দিক জানান, ১৫ দিন আগে তারা কিছু ইউরিয়া রিপ্যাক করেছেন। স্কেল জটিলতায় ওজনে কিছুটা কমবেশি হয়ে থাকতে পারে। ডিলারদের কাছ থেকে অভিযোগ পাওয়ার পর তারা ওজন ঠিক করেছেন। আর বাঘাবাড়িতে রিপ্যাকিংয়ে ওজন কম দেয়ার বিষয়টি তাদের জানা নেই। সারের সংকট নেই জানিয়ে তিনি বলেন, চলতি ফেব্রুয়ারিতে রাজশাহী জেলায় ৮ হাজার ৮২৯ টন ইউরিয়া সার বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। চাঁপাইনবাবগঞ্জে বরাদ্দ দেয়া হয়েছে ৫ হাজার ৩৫৪ টন। এর আগে জানুয়ারিতে রাজশাহী জেলায় ৮ হাজার ২৬৯ টন এবং চাঁপাইনবাবগঞ্জে ৪ হাজার ৬০৫ টন ইউরিয়া বরাদ্দ দেয়া হয়।

 

 

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৮

converter