আধুনিক মডেল শহর উপহার দিতে চাই

  তোজাম্মেল আযম, মেহেরপুর ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০১৮, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

নানা সমস্যায় জর্জরিত মেহেরপুর পৌরসভা। নাগরিক সুবিধা নেই বললেই চলে। ড্রেনেজ ও পানি সরবরাহের বেহাল দশা। প্রশস্ত রাস্তা না থাকায় শহরে জানজট লেগেই আছে। সংস্কার না করায় বড়বাজার মসজিদের সামনের রাস্তা, শহীদ আরজ সড়ক, তাঁতীপাড়া সড়ক, ক্যাশ্বব পাড়া সড়ক, নগর উদ্যানের সামনে মালো পাড়ায় প্রবেশের রাস্তার অবস্থা করুণ। পানি নিষ্কাশনের ড্রেনগুলো উন্মুক্ত থাকায় মাঝে-মধ্যেই দুর্ঘটনা ঘটছে। শহরে বিনোদনের জন্য কোনো পার্ক নেই। অটোরিকশার জন্য কোনো আলাদা স্টেশন নেই। শহরের ভেতরে বাস স্ট্যান্ড হওয়ায় শহরের চুয়াডাঙ্গা সড়কে পথচারীদের দুর্ভোগ পোহাতে হয়। কিন্তু এসব সমস্যা সমাধান না করে পৌরবাসীর কর বাড়ানো হয়েছে। এ নিয়ে পৌরবাসীর মাঝে ক্ষোভ বিরাজ করেছে।

পৌরসভার নানাবিধ সমস্যা সম্পর্কে জানতে চাইলে বর্তমান মেয়র মাহফুজুর রহমান রিটন যুগান্তরকে বলেন, ‘আমি মেয়রের দায়িত্ব নিয়েছি মাত্র কয়েক মাস হল। দায়িত্ব নিয়েছি ১৫ কোটি টাকার দেনা মাথায় নিয়ে। সাবেক মেয়র ১৫ কোটি টাকা বকেয়া করে গেছেন। এত অল্প সময়ের মধ্যে বিশাল সমস্যা সমাধান করা সম্ভব না। তারপরও ১০ মাসে ২৯ কোটি টাকার কাজ করেছি। এটা দিয়ে ড্রেন, রাস্তা নির্মাণ ও পৌর কমিউনিটি সেন্টার আধুনিকায়ন করেছি। ইউজিআইআইপি-৩ প্রকল্পের আওতায় ১ কোটি টাকা ব্যয়ে রাস্তা ও ড্রেনের কাজ শুরু হতে যাচ্ছে। ২৬ লাখ টাকা ব্যয়ে উৎপাদক নলকূপ নির্মাণ করা হচ্ছে। পৌরবাসীকে সুপেয় পানি সরবরাহে ওয়াটার ট্রিটমেন্ট প্লান্টের কাজ চলছে। নির্বাচনী প্রতিশ্র“তির অংশ হিসেবে মাদকমুক্ত পৌর এলাকা গড়ার চেষ্টা করছি। পৌর গড় পুকুরটিকে সাবেক মেয়র মৎস্য চাষীদের কাছে লিজ দিয়েছিলেন। তাতে পুকুরের সৌন্দর্য নষ্ট হয়েছে। চুক্তি বাতিল করে সে পুকুর ঘিরে বিনোদন কেন্দ্র করা হচ্ছে। প্রতিটি ওয়ার্ডে কাউন্সিলরদের জন্য অফিস নির্মাণের পরিকল্পনা হাতে নেয়া হয়েছে, যাতে পৌরবাসী সেখানে গিয়ে তাদের অভাব অভিযোগের কথা জানাতে পারেন। শহরের বিভিন্ন স্থানে স্থায়ী ডাস্টবিন করা হবে যাতে কেউ ময়লা-আবর্জনা যত্রতত্র না ফেলে। মাত্র ১০ মাসে অনেক কাজে হাত দিয়েছি, যা চলমান আছে। বাকি সময়ে অনেক কাজ হবে। এরপর আর সমস্যা থাকবে না।’

মেয়র বলেন, ‘পৗরবাসীকে মডেল শহর উপহার দিতে চাই। টেকসই শহর উন্নয়নে মাস্টার প্লান করা হচ্ছে। কাজের ক্ষেত্রে কোনো প্রতিবন্ধকতা নেই। নির্বাচনের প্রতিশ্রুতি হিসেবে রাস্তা, ড্রেন সমস্যার সমাধান এবং মাদকমুক্ত পৌরসভা করার কথা ছিল। অনেক পরিকল্পনা আছে। মাত্র ১০ মাসে বাস্তবায়ন সম্ভব না। পৌরসভার পানি ও ড্রেন ব্যবস্থার সমস্যা রয়েছে। সাড়ে ৯ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত ওয়াটার ট্রিটমেন্ট প্লান্ট আগামী জুনের আগেই চালু করা সম্ভব হবে।’

তিনি বলেন, ‘শুধু মেয়র কিংবা কাউন্সিলরদের পক্ষে মাদকমুক্ত পৌরসভা গড়া সম্ভব নয়। এ জন্য জেলা প্রশাসন, পুলিশ প্রশাসন, জনপ্রতিনিধি ও সাধারণ মানুষকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। বেকার যুবকদের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করতে হবে।’

১৯৯৩ থেকে ২০১৭ সালের ২৫ এপ্রিল পর্যন্ত পৌরসভার মেয়র ছিলেন মোতাছিম বিল্লাহ মতু। শেষের ৫ বছর দৃশ্যমান কোনো উন্নয়নমূলক কাজ করতে পারেননি তিনি। বরঞ্চ দেনায় ডুবিয়েছেন পৌরসভাকে। গত বছরের ২৫ এপ্রিল অনুষ্ঠিত পৌর নির্বাচনে জেলা যুবলীগের আহ্বায়ক মাহফুজুর রহমান রিটন ব্যাপক ভোটে মেয়র নির্বাচিত হন।

মেহেরপুর পৌরসভা স্থাপিত হয় অবিভক্ত বাংলায় ১৮৬৯ সালের ১৫ এপ্রিল। বর্তমানে পৌরসভার লোক সংখ্যা ১ লাখ ৭ হাজার ৮৩৪ জন। পৌরসভাটি ১৯৯১ সালে দ্বিতীয় শ্রেণী এবং ২০০১ সালে প্রথম শ্রেণীতে উন্নীত হয়।

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৮

converter