পরিকল্পনামন্ত্রীকে অর্থমন্ত্রীর চিঠি

প্রকল্প বাস্তবায়ন পদ্ধতির সুরাহা একনেকেই

  উবায়দুল্লাহ বাদল ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০১৮, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

সরাসরি ক্রয় পদ্ধতির (ডিপিএম) মাধ্যমে সরকারের বিভিন্ন প্রকল্প বাস্তবায়ন প্রস্তাবে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত। সরকারের যে কোনো প্রকল্প ডিপিএমের বদলে উন্মুক্ত দরপত্র পদ্ধতিতে (ওটিএম) বাস্তবায়ন চান তিনি। এছাড়া তিনি আরও চান প্রকল্প অনুমোদনকালেই এর বাস্তবায়ন পদ্ধতি চূড়ান্ত করে দেবে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি (একনেক)। এসব বিষয় উল্লেখ করে সম্প্রতি পরিকল্পনামন্ত্রী আ.হ.ম. মুস্তফা কামালকে একটি চিঠি দিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত। ওই চিঠির অনুলিপি ইতিমধ্যে মন্ত্রিসভার সদস্যদের দেয়া হয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে এসব তথ্য।

পরিকল্পনামন্ত্রীকে লেখা ১৮ ফেব্রুয়ারির ওই চিঠিতে অর্থমন্ত্রী বলেন, বর্তমানে আমরা মোটামুটিভাবে কোনো প্রকল্প একনেকে অনুমোদিত হওয়ার পরই তার জন্য ক্রয় প্রস্তাব অনুমোদন করছি। অনেক ক্ষেত্রে কীভাবে প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হবে সে বিষয়ে নির্দেশনা দেয়া হয়। তারাই সচরাচর বলে যে উন্মুক্ত টেন্ডারের মাধ্যমে প্রকল্প বাস্তবায়নের ব্যবস্থা নিতে হবে। কিন্তু আমরা দেখছি, সে রকম নির্দেশনা থাকলেও অনেক মন্ত্রণালয় কয়েকদিনের মধ্যেই ডিপিএম পদ্ধতিতে নানা ক্রয় প্রস্তাব নিয়ে আসে এবং আমরাও তাদের প্রস্তাব অনবরতই অনুমোদন করে যাচ্ছি। আমার মনে হয়, এই একটি দুঃখজনক ঐতিহ্য আমরা উত্তরাধিকার হিসেবে রেখে যাচ্ছি। এই ঐতিহ্যের পরিবর্তন সত্বরই করা দরকার।

এই পরিবর্তনের প্রক্রিয়া তুলে ধরে অর্থমন্ত্রী চিঠিতে বলেন, যখন একনেকে অনুমোদনের জন্য কোনো প্রকল্প যাবে তখনই বলে দেয়ার দরকার প্রকল্পটি কোন পদ্ধতিতে বাস্তবায়ন হবে। যদি কোনো মন্ত্রণালয় চায় যে তাদের প্রকল্পটি দ্রুত বাস্তবায়নের খাতিরে বা যথাযথভাবে বাস্তবায়নের জন্য ডিপিএম পদ্ধতি অনুসরণ করবে তাহলে তারা সেই সিদ্ধান্তটি একনেকের কাছেই চাইবেন। অর্থাৎ পরিকল্পনা মন্ত্রণালয় একনেকে কোনো প্রকল্প অনুমোদনের জন্য উপস্থাপন করলে সেখানেই যে মন্ত্রণালয় সে প্রকল্প বাস্তবায়ন করবে তাদের মতামত বিবেচনা করে প্রকল্পটি কী প্রক্রিয়ায় বাস্তবায়িত হবে সে বিষয়ে একনেকের সিদ্ধান্ত নেবে। এই নিয়ম প্রতিষ্ঠা করতে ৩-৪ মাসই যথেষ্ট। অর্থাৎ ৩-৪ মাস পরেই কোনো প্রকল্পের বাস্তবায়ন পদ্ধতি কী হবে সে বিষয়ে সিদ্ধান্ত দেবে একনেক। পরিকল্পননা মন্ত্রণালয় এ ধরনের একটি সিদ্ধান্ত দিলে বর্তমানে যে ব্যাপকভাবে ডিপিএম পদ্ধতি ব্যবহার করা হচ্ছে তা হ্রাস করা সম্ভব হবে বলে চিঠিতে মন্তব্য করেন অর্থমন্ত্রী।

জানা গেছে, দেশের আইনেও সরকারি কেনাকাটার ক্ষেত্রে ডিপিএম পদ্ধতি নিরুৎসাহিত করা হয়েছে। পাশাপাশি বর্তমানে সরকারি সংস্থা ও প্রতিষ্ঠানগুলোর ক্ষেত্রে অর্থের সাশ্রয় ও উন্মুক্ত প্রতিযোগিতার সুযোগ করে দিতে ওটিএম পদ্ধতিতে ক্রয় কার্যক্রম বাস্তবায়নে উৎসাহিত করা হচ্ছে। পাবলিক প্রকিউরমেন্ট আইন-২০০৬ ও পাবলিক প্রকিউরমেন্ট বিধিমালা-২০০৮ এর ভাষ্য অনুযায়ী, সরাসরি ক্রয় পদ্ধতিতে অবাধ প্রতিযোগিতার সুফল পাওয়া যায় না। কারণ এতে স্বচ্ছতার অভাব অনেক বেশি। পাশাপাশি এর মাধ্যমে অগ্রহণযোগ্য ও প্রতারণামূলক তৎপরতাকে উৎসাহিত করার আশঙ্কাও রয়েছে। তারপরও বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও বিভাগের নানা প্রকল্প বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে ডিপিএম পদ্ধতির প্রস্তাব করা হচ্ছে। আর এ ধরনের প্রস্তাবের সংখ্যা দিন দিনই বাড়ছে। বিশেষ করে পানিসম্পদ মন্ত্রণালয় ও নৌপরিবহন মন্ত্রণালয় এ ধরনের প্রস্তাবে এগিয়ে রয়েছে।

এ প্রসঙ্গে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের একজন পদস্থ কর্মকর্তা যুগান্তরকে বলেন, চট্টগ্রাম বন্দরের কেনাকাটার ক্ষেত্রে ডিপিএম পদ্ধতির প্রয়োগ বেড়েছে জ্যামিতিক হারে। ২০১৪-১৫ অর্থবছরে ডিপিএম পদ্ধতিতে কেনাকাটা হয়েছে প্রায় ১৩ কোটি ৭০ লাখ ৬৭ হাজার টাকার। পরের অর্থবছর তা বেড়ে দাঁড়ায় ৩২ কোটি ২ লাখ টাকায়। সেখান থেকে ২০১৬-১৭ অর্থবছরে ডিপিএম পদ্ধতিতে বন্দরের কেনাকাটার পরিমাণ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২৩৪ কোটি ১ লাখ টাকায়। এ চিত্র শুধু নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের নয়, অধিকাংশ মন্ত্রণালয়েরই এ চিত্র। বিশেষ করে বড় বড় কেনাকাটার ক্ষেত্রে ডিপিএম পদ্ধতি প্রয়োগের প্রস্তাব করা হয় সংশ্লিষ্টদের পক্ষ থেকে।

 

 

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৮

converter
.