আবরার হত্যায় জড়িতদের সর্বোচ্চ শাস্তি চায় ছাত্রলীগ

প্রকাশ : ১০ অক্টোবর ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

  যুগান্তর রিপোর্ট

আবরার ফাহাদ হত্যায় জড়িতদের ‘দ্রুত বিচার আইনে’ বিচারের মাধ্যমে সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিতের দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ ছাত্রলীগ। বুধবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মধুর ক্যান্টিনে এক সংবাদ সম্মেলনে এ দাবি জানানো হয়। সংবাদ সম্মেলনে ছাত্রলীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি আল-নাহিয়ান খান জয় ও ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক লেখক ভট্টাচার্য লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন।

আবরার হত্যাকাণ্ডের পরিপ্রেক্ষিতে সংগঠনের দাবি ও গৃহীত পদক্ষেপ তুলে ধরেন সভাপতি জয়। তিনি বলেন, আবরার হত্যা মামলাটি দ্রুত বিচার আইনের আওতায় এনে এবং হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত প্রত্যেকের যেন সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করা সম্ভব হয়। এ সময় সংগঠনের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক শোক প্রকাশ ও নিন্দা

জানানো হয়েছে। দুই সদস্য বিশিষ্ট একটি সাংগঠনিক তদন্ত কমিটি গঠন এবং কমিটিকে ২৪ ঘণ্টার ভেতর রিপোর্ট জমাদানের নির্দেশ দেয়া হয়েছে। ২৪ ঘণ্টার পূর্বেই তদন্ত কমিটির রিপোর্ট প্রাপ্তির প্রেক্ষিতে বুয়েট শাখা ছাত্রলীগের ১১ জনকে ছাত্রলীগ থেকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কার করা হয়েছে। জয় বলেন, আমরা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে দাবি জানাই, পলাতক অপর অভিযুক্তদের গ্রেফতার এবং এজাহারভুক্ত ১৯ জনের বাইরে আরও যদি কেউ এ থাকে তাদেরও আইনের আওতায় আনা হোক। এ বিষয়ে ছাত্রলীগের পক্ষ থেকে সব ধরনের সহযোগিতা দেয়ারও আশ্বাস দেন তিনি।

আবরার হত্যাকাণ্ডের পর বুয়েটে ছাত্র রাজনীতি বন্ধের দাবি উঠেছে। এ দাবিসহ ১০ দফা বাস্তবায়নের দাবিতে সময় বেঁধে দিয়ে আন্দোলন করছে বুয়েটের শিক্ষার্থীরা। সংবাদ সম্মেলনে জয় বলেন, ছাত্র রাজনীতি নিষিদ্ধের ষড়যন্ত্র মোকাবেলা করা হবে।

নিজ নিজ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সব ধরনের ষড়যন্ত্র মোকাবেলায় প্রত্যেককে সর্বোচ্চ সতর্ক থাকার আহ্বান জানান ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক লেখক ভট্টচার্য। তিনি বলেন, আবরার হত্যাকাণ্ডের অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনাটিকে পুঁজি করে কেউ যেন দলীয় রাজনীতি চাঙ্গা করার নামে আন্দোলন-আন্দোলন খেলায় মেতে উঠতে না পারে। সাম্প্রদায়িক উসকানি ছড়িয়ে মহান স্বাধীনতা সংগ্রামের মাধ্যমে অর্জিত সম্প্রীতির বাংলাদেশকে কলঙ্কিত করতে না পারে, হীন স্বার্থসিদ্ধির জন্য পরিকল্পিত লাশ ফেলে সন্ত্রাস কায়েম করতে না পারে। শিক্ষার সুষ্ঠু পরিবেশ বিনষ্ট করতে না পারে সে বিষয়ে সজাগ থাকা ছাত্রসমাজের নৈতিক দায়িত্ব।