বিইউবিটির সমাবর্তনে শিক্ষামন্ত্রী

র‌্যাগিংয়ের বিরুদ্ধে সামাজিক আন্দোলন করতে হবে

বুয়েট শিক্ষকরা আগের ঘটনায় কোথায় ছিলেন * গ্লোবাল এডুকেশন মনিটরিং রিপোর্ট প্রকাশ

  যুগান্তর রিপোর্ট ও শেকৃবি প্রতিনিধি ১১ অক্টোবর ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি বলেছেন, দেশের সর্বোচ্চ বিদ্যাপীঠ বুয়েটে আবরার হত্যা সত্যিই দুঃখজনক। বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে এসব র‌্যাগিং বা বুলিংয়ের নামে অনেকে ক্ষতিগ্রস্ত হয়, অনেকে প্রাণ হারায়। এসবের বিরুদ্ধে সবার এগিয়ে আসতে হবে। র‌্যাগিংয়ের বিরুদ্ধে সামাজিক আন্দোলন গড়ে তুলতে হবে।

বৃহস্পতিবার বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব বিজনেস অ্যান্ড টেকনোলজির (বিইউবিটি) ৪র্থ সমাবর্তনে তিনি এসব কথা বলেন। এদিন আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইন্সটিটিউটে ‘গ্লোবাল এডুকেশন মনিটরিং রিপোর্ট-২০১৯’ প্রকাশ অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, বুয়েটে আবরার হত্যাকাণ্ড ছাড়াও এর আগে নানা ঘটনা ঘটেছে। তখন শিক্ষক ও অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশন কোথায় ছিলেন? তখন কেন তারা আন্দোলনে নামেননি? কেন এখন সবাই মিলে আন্দোলনে যোগ দিয়েছেন? এটি আমার কাছে রহস্যজনক।

তিনি আরও বলেন, বুয়েটের চলমান অস্থিরতা প্রশাসনের (বুয়েট) মাধ্যমে নিরসন করতে হবে। সরকারের পক্ষ থেকে কোনো কিছু চাপিয়ে দেয়া হবে না। আর ভিসির পদত্যাগ করা, না-করা শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের ওপর নির্ভর করে না। এটি সরকারের উচ্চপর্যায়ের সিদ্ধান্ত।

সমাবর্তনে রাষ্ট্রপতি ও চ্যান্সেলরের প্রতিনিধি হিসেবে শিক্ষামন্ত্রী বিইউবিটির ৩ হাজার ১৯২ শিক্ষার্থীকে গ্র্যাজুয়েশন ও পোস্ট-গ্র্যাজুয়েশন ডিগ্রির সনদ প্রদান এবং কৃতিত্বপূর্ণ ফলের জন্য ৫ জনকে স্বর্ণপদক তুলে দেন।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে ইউজিসি চেয়ারম্যান অধ্যাপক কাজী শহিদুল্লাহ বলেন, আজ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে শিক্ষাজীবন শেষ হলেও কর্মজীবন আজ থেকে শুরু হল। শুধু চাকরির পেছনে না ছুটে উদ্যোক্তা হতে হবে।

সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটি অস্ট্রেলিয়ার সিনিয়র ডেপুটি ভাইস চ্যান্সেলর মি. এলাস্টেইর ডসন, বিইউবিটি ট্রাস্টের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. সফিক আহমেদ সিদ্দিক, ভিসি অধ্যাপক মো. আবু সালেহ, ট্রাস্টের সদস্য, সিন্ডিকেট ও একাডেমিক কাউন্সিলের সদস্য, শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও কর্মকর্তা-কর্মচারীরা অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন। সনদ ও পদক বিতরণ শেষে মনমাতানো সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে সমাবর্তনের সমাপ্তি ঘটে।

গ্লোবাল এডুকেশন মনিটরিং রিপোর্ট : ‘গ্লোবাল এডুকেশন মনিটরিং রিপোর্ট-২০১৯’-এ বলা হয়েছে, আগামী ২০৩০ সালের টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্য (এসডিজি)-এর ১৭ নম্বর এজেন্ডা বাস্তবায়নে প্রধান দুটি চ্যালেঞ্জ রয়েছে। এর একটি হল গুণগত মানের শিক্ষা নিশ্চিত করা। অপরটি সবার জন্য শিক্ষা। কারণ বিশ্বব্যাপী অভিবাসীর সংখ্যা বাড়ছে। যে কারণে উচ্চ আয়ের দেশগুলোতে ১৫ শতাংশ শিক্ষার্থীই হচ্ছে অভিবাসী। আর অভিবাসীর কারণে সবার শিক্ষা নিশ্চিত করা কঠিন হয়ে পড়ছে। এ জন্য প্রত্যেক দেশের শিক্ষানীতিতে অভিবাসীদের জন্য সুনির্দিষ্ট নীতিমালা থাকার সুপারিশ করা হয় রিপোর্টে।

রিপোর্ট প্রকাশ অনুষ্ঠান শেষে বেরিয়ে যাওয়ার সময় সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, বুয়েটের ছাত্ররা যেসব দাবি-দাওয়া নিয়ে আন্দোলন করছে তাতে আমাদের কিছু করার নেই। বুয়েটের ছাত্র সংগঠন থাকবে কি থাকবে-না সেটি বুয়েট প্রশাসনকে সিদ্ধান্ত নিতে হবে। সরকারের পক্ষ থেকে কোনো কিছু চাপিয়ে দেয়া হবে না।

মন্ত্রী বলেন, আবরারের ঘটনায় আমি লজ্জিত। মেধাবী এমন একজন শিক্ষার্থীকে পিটিয়ে মারায় দেশের মানুষ মর্মাহত। দ্রুততার সঙ্গে আবরার হত্যা মামলার তদন্ত চলছে। অপরাধীদের কোনো ছাড় নেই। তাদের বিচারের মুখোমুখি হতে হবে।

এ সময় শিক্ষামন্ত্রীর সঙ্গে শিক্ষা উপমন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সিনিয়র সচিব মো. সোহরাব হোসাইন প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

এদিকে গ্লোবাল এডুকেশন মনিটরিং রিপোর্টে উঠে আসে প্রতিবন্ধকতা ও চ্যালেঞ্জের কথা। সেখানে বলা হয়, বিশ্বব্যাপী মাইগ্রেশন বাড়ছে। ১৯৬০ সালে বিশ্বব্যাপী অভিবাসীর সংখ্যা ছিল ৯ কোটি ৩০ লাখ। যা ২০১৭ সালে এসে পৌঁছেছে ২৫ কোটি ৮০ লাখ। শতাংশ হিসাবে ৩ দশমিক ১ থেকে বেড়ে ৩ দশমিক ৩৪ শতাংশে গেছে। এসব অভিবাসীর মধ্যে ৪০ শতাংশই ৭ বছরের শিশু। যারা মাধ্যমিক স্কুল শেষ করার আগেই অভিবাসী হয়েছে। আর ১৪ বছরের শিশু ৭০ শতাংশ। ফলে এসব অভিবাসীর মধ্যে শিক্ষার ঘাটতি সৃষ্টি হচ্ছে।

আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×