মিজানের সম্পদের খোঁজে সিআইডি ও দুদক

লেনদেনের তথ্য পেতে পাঁচ ব্যাংককে চিঠি দেয়া হবে * বিদেশে পাচার করা অর্থের বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদ

  যুগান্তর রিপোর্ট ১৪ অক্টোবর ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের (ডিএনসিসি) ৩২ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর হাবিবুর রহমান মিজানের অবৈধ সম্পদের খোঁজে মাঠে নেমেছে একাধিক সংস্থা। পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) এবং দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) একাধিক টিম এ বিষয়ে অনুসন্ধান শুরু করেছে। এদিকে দেশে-বিদেশে মিজানের অবৈধ সম্পদের তথ্য এবং অর্থের উৎস সম্পর্কে জানতে রিমান্ডে এনে জিজ্ঞাসাবাদ করছে সিআইডি। বিশেষ করে বিদেশে পাচার করা অর্থের পরিমাণ এবং অর্থের উৎস সম্পর্কে বিস্তারিত জানার চেষ্টা চলছে। মোহাম্মদপুর থানায় র‌্যাবের দায়ের করা মানি লন্ডারিং আইনের মামলায় শনিবার মিজানকে ৭ দিনের রিমান্ডে নেয় সিআইডি। রোববার ছিল রিমান্ডের প্রথম দিন।

দায়িত্বশীল সূত্র জানায়, পাঁচটি ব্যাংকে একাধিক অ্যাকাউন্ট থেকে তিনি বিপুল পরিমাণ অর্থ লেনদেন করেছেন। এসব ব্যাংকে চিঠি দিয়ে তার লেনদেনের বিস্তারিত তথ্য চাওয়া হবে। ব্যাংকগুলো হল- প্রিমিয়ার ব্যাংক, বেসিক ব্যাংক, সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক, পূবালী ব্যাংক এবং ডাচ-বাংলা ব্যাংক। এর মধ্যে প্রিমিয়ার ব্যাংকে সবচেয়ে বেশি লেনদেন করেছেন তিনি। প্রয়োজনীয় তথ্য পাওয়া গেলে তার লেনদেনের বিষয়ে নিশ্চিত করে বলা সম্ভব হবে। এর বাইরে তিনি আরও কোনো ব্যাংকের মাধ্যমে লেনদেন করেছেন কিনা বা কোনো ব্যাংকে তার সম্পদ গচ্ছিত আছে কিনা তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তিনি বিদেশে অর্থ পাচার করেছেন হুন্ডির মাধ্যমে।

সিআইডির এক কর্মকর্তা জানান, মিজান খুবই ধূর্ত। কোনো বিষয়ে মুখ খুলতে চান না। গত বুধ ও বৃহস্পতিবার ব্যাংক থেকে নগদ ৬৮ লাখ টাকা উঠিয়েছেন তিনি। তবে এই টাকা তিনি কোথায় রেখেছেন এখন পর্যন্ত মুখ খোলেননি। তার সম্পদের বিষয়ে যতটুকু তথ্য-প্রমাণ পাওয়া গেছে শুধু ততটুকুই স্বীকার করছেন।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা সিআইডির পরিদর্শক মো. গিয়াস উদ্দিন যুগান্তরকে বলেন, ‘মিজানকে হেফাজতে এনে এরই মধ্যে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করেছি আমরা। তিনি রিমান্ডে যেসব তথ্য দিচ্ছেন এগুলো যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে।’ সিআইডির একটি সূত্র জানায়, ষাটের দশকে ঝালকাঠি থেকে ঢাকায় এসে হোটেলে কর্মচারীর কাজ করতেন তিনি। এখন তার অঢেল সম্পত্তি। অনেক সম্পত্তি তার স্ত্রী এবং সন্তানদের নামে। এগুলোর বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে।

র‌্যাব জানায়, চলমান অভিযানে তিনি গ্রেফতার হবেন- এটা ভাবতেই পারেননি। যখন বিষয়টি তিনি বুঝতে পেরেছেন ততক্ষণে অনেক দেরি হয়ে গেছে। তার ওপর নজরদারি চলছে, এটা বুঝতে পেরেই তিনি ভারতে পালানোর পরিকল্পনা করেন। বিষয়টি আগে বুঝতে পারলে তিনি যুক্তরাষ্ট্রে পালিয়ে যেতেন। যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে তার একটি বাড়ি আছে এ বিষয়ে এরই মধ্যে নিশ্চিত হওয়া গেছে। ১৯৮৯ সালে বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে হত্যাচেষ্টার অন্যতম পরিকল্পনাকারী তিনি। ওই মামলার চার্জশিটে তাকে অভিযুক্ত করা হয়।

উল্লেখ্য, শুক্রবার ভোরে শ্রীমঙ্গলের একটি বাড়িতে অভিযান চালিয়ে মিজানকে গ্রেফতার করে র‌্যাব। এ সময় একটি অবৈধ পিস্তল, চার রাউন্ড গুলি ও নগদ দুই লাখ টাকা উদ্ধার করা হয়। পরে মিজানের বিরুদ্ধে অস্ত্র আইনে শ্রীমঙ্গল থানায় এবং মানি লন্ডারিং আইনে মোহাম্মদপুর থানায় দুটি মামলা করে র‌্যাব।

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×