বিমানের ডিএফও থেকেও বাদ ক্যাপ্টেন জামিল

নতুন ডিএফও ক্যাপ্টেন এবিএম ইসমাইল

  যুগান্তর রিপোর্ট ২১ অক্টোবর ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

মন্ত্রণালয়ের তদন্তে পাইলট নিয়োগ কেলেংকারির অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় বাংলাদেশ বিমানের পরিচালক ফ্লাইট অপারেশন (ডিএফও) থেকে বাদ পড়েছেন ক্যাপ্টেন ফারহাত হাসান জামিল। রোববার তাকে ওই পদ থেকে সরিয়ে দেয়া হয়। আর ওই পদে দায়িত্ব দেয়া হয়েছে বিমানের সিনিয়র ক্যাপ্টেন ও বোয়িং ৭৭৭-৩০০ ইআর এয়ারক্রাফটের সিমুলেটর ইন্সট্রাকটর এবিএম ইসমাইলকে। এর আগে গত মাসে জামিলকে বিমানের ভারপ্রাপ্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও সিইও থেকে সরিয়ে দেয়া হয়। এদিকে পরিচালক প্রকৌশল বিভাগ থেকেও ক্যাপ্টেন জামিলকে সরিয়ে দেয়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। এ বিভাগের জন্য একজন উইং কমান্ডার পদের কর্মকর্তাকে প্রেষণে নিয়োগ দেয়ার জন্য বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর কাছে চিঠি পাঠিয়েছে বিমান কর্তৃপক্ষ। এটি চূড়ান্ত হলে পরিচালক প্রকৌশল হিসেবে তিনি আর থাকতে পারবেন না। বর্তমানে জামিল লাইন পাইলট হিসেবে কাজ করবেন। একই সঙ্গে বিমানের সিকিউরিটি বিভাগের প্রধান হিসেবেও একজন মেজর পদের কর্মকর্তা চেয়ে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর কাছে চিঠি পাঠানো হয়েছে বলে বিমান সূত্রে জানা গেছে।

বেসামরিক বিমান চলাচল মন্ত্রণালয়ের একজন কর্মকর্তা যুগান্তরকে বলেন, প্রায় দুই মাস আগে বিমানের পরিচালনা পর্যদ সভায় ডিএফও নিয়োগসহ বিমানের শীর্ষ পদগুলোতে বিশেষায়িত জনবল নিয়োগের বিষয়ে সিদ্ধান্ত হয়। এরপর নতুন ডিএফও হিসেবে ক্যাপ্টেন এবিএম ইসমাইলের নাম অনুমোদনের জন্য বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (বেবিচক) কাছে পাঠানো হয়। কিন্তু অভিযোগ আছে বেবিচকের একজন এফওআই (ফ্লাইট অপারেশন ইন্সপেক্টর) ইসমাইলের ফাইলটি দীর্ঘদিন আটকে রাখেন। ওই এফওআই বিমানের বিএনপি-জামায়াতপন্থী একজন পাইলটের আত্মীয় বলে জানা গেছে। ধারণা করা হচ্ছে বিমানের ওই পাইলটের ইন্ধনে সংশ্লিস্ট এফওআই ক্যাপ্টেন ইসমাইলের ফাইলটি আটকে রাখেন। শেষপর্যন্ত মন্ত্রণালয় ও বেবিচকের শীর্ষ কর্মকর্তাদের হস্তক্ষেপে ইসমাইলের ফাইলটি অনুমোদন করা হয়।

বিমানের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে ক্যাপ্টেন ইসমাইল একজন দক্ষ ও জ্যেষ্ঠ পাইলট। বর্তমানে তিনি বিমানের বোয়িং ৭৭৭-৩০০ ইআর এয়ারক্রাফটের ইন্সট্রাকটর। রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর ফ্লাইট পরিচালনাকারী পাইলটদের মধ্যে তিনি অন্যতম। এর আগে দুই দফায় তিনি বিমানের চিফ অব সেফটি পদে সুনামের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেন। তিনি ১৯৯১ সাল থেকে এফ-২৮, ডিসি-১০, এয়ারবাস ও বোয়িং ৭৭৭ উড়োজাহাজের ট্রেনিং ক্যাপ্টেন ও সিমুলেটর ইন্সট্রাকটর হিসেবে সুমানের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেন। তার বাবাও বিমানের প্রকৌশল বিভাগে দক্ষ প্রকৌশলী হিসেবে কর্মরত ছিলেন।

বিমানের চাঞ্চল্যকর পাইলট নিয়োগ কেলেংকারির ঘটনার তদন্ত শেষপর্যায়ে বলে জানা গেছে। দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) এ ঘটনার সঙ্গে বিমানের সাবেক দুই এমডি ক্যাপ্টেন মোসাদ্দিক আহম্মেদ ও ক্যাপ্টেন ফারহাত জামিলের জড়িত থাকার প্রমাণ পেয়েছে। ইতিমধ্যে তাদের দুজনকে দুদক কার্যালয়ে ডেকে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদও করা হয়েছে। মোসাদ্দিক আহম্মেদকে বিমানের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের পদ থেকে সরিয়ে বিমানে তার চুক্তি বাতিল করা হয়েছে। ফারহাত জামিলকেও ভারপ্রাপ্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও ডিএফও পদ থেকে সরিয়ে দেয়া হয়েছে। বিমানবাহিনী থেকে একজন উইং কমান্ডার পদের কর্মকর্তা পাওয়া গেলে প্রকৌশল বিভাগের ভারপ্রাপ্ত পরিচালক পদ থেকেও শিগগিরই জামিলকে সরিয়ে দেয়া হবে। দুদক সূত্রে জানা যায়, তাদের দুজনের বিরুদ্ধে মামলার প্রস্তুতি চলছে। মামলা দায়েরের সঙ্গে সঙ্গে জামিলকে লাইন পাইলট পদ থেকেও সরিয়ে দেয়া হতে পারে।

আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×