সড়ক প্রশস্তকরণ প্রকল্প

২ কোটি টাকায় বাংলো নির্মাণের প্রস্তাব!

বিদেশ ভ্রমণে ৩ কোটি ও পরামর্শক খাতে রাখা হয়েছে ১ কোটি টাকা * পিইসি সভায় বাতিল হতে পারে বাংলো নির্মাণের প্রস্তাব

  হামিদ-উজ-জামান ২৩ অক্টোবর ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

প্রকল্পের আওতায় মূল কাজের বাইরে কত কিছুই না করতে ইচ্ছে করে সংশ্লিষ্টদের। এবার সড়ক প্রশস্তকরণ প্রকল্পে পরিদর্শন বাংলো নির্মাণের প্রস্তাব করেছে সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগ। এ খাতে বরাদ্দ রাখা হয়েছে ২ কোটি টাকা। সেই সঙ্গে প্রশিক্ষণের নামে বিদেশ সফরের জন্য রাখা হয়েছে ৩ কোটি টাকা। আছে পরামর্শক ব্যয়সহ নানা খাতে অতিরিক্ত ব্যয় প্রস্তাবও। তবে পরিকল্পনা কমিশন বাংলো নির্মাণের অংশ বাতিল করতে যাচ্ছে। অন্য খাতের ব্যয়ও কমিয়ে যৌক্তিক পর্যায়ে নামিয়ে আনতে বলা হবে। ‘বারৈয়ারহাট-হেঁয়াকো-রামগড় সড়ক প্রশস্তকরণ’- নামের প্রকল্পের ক্ষেত্রে ঘটেছে এমন ঘটনা। ২৭ অক্টোবর প্রকল্প মূল্যায়ন কমিটির (পিইসি) সভা হবে। সেখানে এসব বিষয়ে প্রশ্ন তুলে সুপারিশ দিতে যাচ্ছে কমিশন।

জানতে চাইলে সড়ক পরিহন ও মহাসড়ক বিভাগের সচিব মো. নজরুল ইসলাম যুগান্তরকে বলেন, ‘এসব প্রস্তাব অপ্রয়োজনীয় মনে হলে পরিকল্পনা কমিশন ব্যবস্থা নেবে। এটাই স্বাভাবিক। তবে আমি মনে করি বাংলোর প্রয়োজন রয়েছে। কেননা ওখানে যখন কাজ হবে লোকজন তো পরিদর্শনে যাবে, তখন তো সমস্যা হবে। তাছাড়া পানি উন্নয়ন বোর্ডসহ সরকারের অন্যান্য সংস্থার তো বাংলা রয়েছেই।’

বিদেশ সফরে ব্যয় প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘এক্ষেত্রে বরাদ্দ যদি বেশি মনে হয় তাহলে কমানোর সুপারিশ দেবে পরিকল্পনা কমিশন। এটা তাদের দায়িত্ব।’

মন্ত্রণালয় বা বিভাগ পর্যায়ে এসব ব্যয় দেখা হয় না কেন এমন প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, ‘আমাদের কাছে মনে হয়েছে প্রয়োজন রয়েছে, তাই প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে।’

সূত্র জানায়,‘বারৈয়ারহাট-হেঁয়াকো-রামগড় সড়ক প্রশস্তকরণ’ প্রকল্পটি বাস্তবায়নে মোট ব্যয় ধরা হয়েছে ৮৯৯ কোটি ৭৯ লাখ ৩৫ হাজার টাকা। এর মধ্যে সরকারের নিজস্ব তহবিল থেকে ২৭৫ কোটি ৬ লাখ টাকা এবং ভারতীয় ঋণ থেকে ৬২৪ কোটি ৭৩ লাখ টাকা ব্যয় করা হবে। প্রকল্পের আওতায় ৩৮ কিলোমিটা দীর্ঘ এ সড়কটির প্রশস্ততা সাড়ে ৫ মিটার থেকে বাড়িয়ে ৭ দশমিক ৩ মিটার করার কথা। এটি বাস্তবায়িত হলে সাবরাম/রামগড় স্থলবন্দর দিয়ে বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে ব্যবসা, বণিজ্য সম্প্রসারণের দ্বার খুলবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

এদিকে ২৭ অক্টোবর অনুষ্ঠেয় প্রকল্প মূল্যায়ন কমিটির (পিইসি) সভার কার্যপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে, ২০১৭ সালের ৫ এপ্রিল ভারতের নয়াদিল্লিতে তৃতীয় লাইন অব ক্রেডিটের জন্য একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়। সেখানে সড়কটি প্রশস্তকরণের বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। এ প্রকল্প বাস্তায়নের সুবিধার্থে সরকারি তহবিলের নিজস্ব অর্থে ২ কোটি টাকা ব্যয়ে ১ হাজার ৫৫০ বর্গমিটারের বাংলো নির্মাণের প্রস্তাব করা হয়েছে। এক্ষেত্রে পরিকল্পনা কমিশন বলছে সড়ক উন্নয়ন প্রকল্প পরিদর্শনে বাংলো নির্মাণের দরকার নেই। এটা বাদ দিতে হবে। এছাড়া বিদেশে প্রশিক্ষণ বা স্টাডি ট্যুরের জন্য বরাদ্দ চাওয়া হয়েছে ৩ কোটি টাকা। কিন্তু এ খাতের ব্যয় ৬০ লাখ টাকা নির্ধারণ করা যায়। প্রকল্পে নির্মাণ, তত্ত্বাবধান ও ক্রয় সহায়তার জন্য পরামর্শকের জন্য ব্যয় প্রস্তাব করা হয়েছে সরকারি খাতে ১১ কোটি ৯১ লাখ টাকা। এ অংশের ব্যয় প্রাক্কলনের যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। এছাড়া পরামর্শকদের বয়স, শিক্ষাগত যোগ্যতা, অভিজ্ঞতা এবং টিওআরসহ এ খাতের বিভাজন উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাবে (ডিপিপি) যুক্ত করার সুপারিশ করা হবে।

পিইসি সভার কার্যপত্রে আরও বলা হয়, প্রকল্পের আওতায় একটি জিপ গাড়ি, ৩টি ডাবল কেবিন পিকআপ এবং ৯টি মোটরসাইকেলের জন্য ৩ কোটি ১৯ লাখ টাকার বরাদ্দ চাওয়া হয়েছে। কিন্তু এর আগে অনুমোদন পাওয়া ‘জেলা মহাসড়কসমূহ যথাযথ মান ও প্রশস্ততায় উন্নীতকরণ (চট্টগ্রাম জোন)’- প্রকল্পে একটি জিপ, ৩টি ডাবল কেবিন পিকআপ এবং ৩টি মোটরসাইকেল কেনার সংস্থান রয়েছে। তাই প্রস্তাবিত প্রকল্পটিতে এত কিছুর কেনার প্রয়োজন নেই। এক্ষেত্রে একটি জিপ গাড়ির প্রস্তাব বাদ দিয়ে চার লাখ টাকা ব্যয়ে দুটি মোটরসাইকেল এবং অর্থ বিভাগের সার্কুলার অনুযায়ী একটি ডাবল কেবিন পিকআপ কেনার সংস্থান রাখা যেতে পারে।

কার্যপত্রে বলা হয়, প্রস্তাবিত প্রকল্পের আওতায় ২৩ লাখ ঘনমিটার সড়ক বাঁধে মাটির কাজের জন্য ভারতীয় ঋণ থেকে ৯১ কোটি ৩৫ লাখ টাকার সংস্থান রাখা হয়েছে। কিন্তু সড়ক ও জনপথ অধিদফতরের পরিকল্পনা ও রক্ষণাবেক্ষণ উইংয়ের মাধ্যমে মাটির কাজের পরিমাণ ও ব্যয় যৌক্তিকভাবে নির্ধারণ করা যেতে পারে। এছাড়া জেনারেল অ্যান্ড সাইট ফ্যাসিলিটিস খাতে ৩৫ লাখ ৩৭ হাজার টাকা এবং নির্মাণকালীন রক্ষণাবেক্ষণ খাতে ১ কোটি ৯০ লাখ টাকার ব্যয় প্রাক্কলন করা হয়েছে। এ খাতের ব্যয় যৌক্তিকভাবে পুনর্নির্ধারণ করা যেতে পারে। প্রস্তাবিত ডিপিপিতে এ কাজের জন্য সিসি ব্লক প্রসেসিং খাতে ১ কোটি ৬৯ লাথ টাকা, টো-ওয়াল নির্মাণে ১২ কোটি ৬৭ লাখ টাকা, আরসিসি রিটেইনিং ওয়াল নির্মাণ খাতে ৪২ কোটি ৯৫ লাখ ৫২ হাজা টাকা, এমএস পাইপ প্যালাসাইডিং খাতে ৬ কোটি টাকাসহ ৫৭ কোটি ১ লাখ টাকার ব্যয় প্রাক্কলন করা হয়েছে। এসব খাতের ব্যয় যৌক্তিকভাবে পুনর্নির্ধারণ করা যেতে পারে। প্রকল্পের আওতায় ক্ষতিপূরণ (এনজিও দিয়ে) দেড় কোটি টাকা ব্যয় প্রাক্কলন করা হয়েছে। এ খাতের যৌক্তিকতাসহ ব্যয় প্রাক্কলনের ভিত্তির বিষয়ে সভায় আলোচনা করা যেতে পারে। প্রকল্পে ২৩৮ কোটি ৪৯ লাখ টাকা ব্যয়ে ৬৮ দশমিক ৬১ হেক্টর ভূমি অধিগ্রহণের সংস্থান রাখা হয়েছে। কিন্তু ভূমি অধিগ্রহণে জেলা প্রশাসনের ব্যয় প্রাক্কলন সংযুক্ত করা হয়নি। এক্ষেত্রে ভূমি অধিগ্রহণের যৌক্তিকতা, পরিমাণ ও প্রাক্কলিত ব্যয় নিয়ে সভায় আলোচনা করা যেতে পারে।

আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×