এনআরবি গ্লোবাল ব্যাংকের সাবেক এমডি প্রশান্তকে দুদকে তলব

শত কোটি টাকা বিদেশে পাচার

  যুগান্তর রিপোর্ট ০৮ নভেম্বর ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

অন্তত ৩শ’ কোটি টাকা আত্মসাৎ করে বিদেশে পাচারের অভিযোগে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য এনআরবি গ্লোবাল ব্যাংক ও রিলায়েন্স ফাইন্যান্সের সাবেক এমডি প্রশান্ত কুমার হালদারকে তলব করেছে দুদক। আগামী ১৪ নভেম্বর অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য দেয়ার জন্য হাজির হতে দুদকের উপপরিচালক গুলশান আনোয়ার প্রধান বৃহস্পতিবার নোটিশ জারি করেন। এছাড়া পৃথক চিঠিতে সুষ্ঠু অনুসন্ধানের স্বার্থে রিলায়েন্স ফাইন্যান্সের বেশকিছু কাগজপত্রও চেয়েছেন দুদকের কর্মকর্তা।

দুদকের একজন কর্মকর্তা অভিযোগের বিষয় উল্লেখ করে জানান, প্রশান্ত কুমার হালদার রিলায়েন্স ফাইন্যান্সসহ অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের এমডি থাকা অবস্থায় তার আত্মীয়স্বজনকে আরও বেশ কয়েকটি লিজিং কোম্পানির ইনডিপেন্ডেন্ট পরিচালক বানান। একক কর্তৃত্বে অদৃশ্য শক্তির মাধ্যমে পিপলস লিজিংসহ বেশ কয়েকটি লিজিং কোম্পানির টাকা বিভিন্ন কৌশলে বের করে আত্মসাৎ করেন তিনি। পিপলস লিজিংয়ে আমানতকারীদের অন্তত ৩ হাজার কোটি টাকা বিভিন্ন কৌশলে আত্মসাৎ করেন। এর মাধ্যমে তিনি ওই কোম্পানিকে পথে বসিয়েছেন। এসব কোম্পানির স্থাবর সম্পদ বিক্রি করে দেন এবং আমানতকারীদের শেয়ার পোর্টফোলিও থেকে শেয়ার বিক্রি করে সমুদয় টাকা আত্মসাৎ করেন তিনি।

১৩ নভেম্বর সকাল ১০টার মধ্যে ওই রেকর্ডপত্র সরবরাহ করতে বলা হয়েছে। রেকর্ডপত্রের মধ্যে রয়েছে- পিপলস লিজিং অ্যান্ড ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসেসের বোর্ড অব ডিরেক্টরদের নাম ও বিস্তারিত তথ্য, ২০১৫ থেকে ২০১৯ সাল পর্যন্ত কত টাকা আমানতকারীদের কাছ থেকে উত্তোলন করা হয়েছে এবং কত টাকা বিনিয়োগ করা হয়েছে সেই তথ্য দিতে বলা হয়েছে। এ ছাড়া বর্তমানে প্রতিষ্ঠানের কাছে কত টাকা রক্ষিত রয়েছে তার তথ্য এবং ওই প্রতিষ্ঠানের নামে কোন কোন ব্যাংকে অ্যাকাউন্ট রয়েছে সেই অ্যাকাউন্টের স্টেটমেন্ট চেয়েছে দুদক। দুদকের চিঠিতে ২০১৫ থেকে ২০১৯ সাল পর্যন্ত ওই কোম্পানির কত টাকা মূল্যের স্থাবর সম্পদ বিক্রয় করা হয়েছে এবং কোম্পানির শেয়ার পোর্টফোলিও থেকে গ্রাহকদের মার্জিন লোনের বিপরীতে কত টাকার শেয়ার বিক্রয় করা হয়েছে তার তথ্য চাওয়া হয়েছে। এ ছাড়া ওই অর্থ দিয়ে কী করা হয়েছে বা কোথায় বিনিয়োগ করা হয়েছে, অ্যাকাউন্ট স্টেটমেন্টসহ প্রয়োজনীয় তথ্য ও রেকর্ড দিতে বলা হয় চিঠিতে। একই সঙ্গে গ্রাহক ছাড়া আর কোন কোন প্রতিষ্ঠানের কত টাকা আমানত হিসেবে নেয়া হয়েছিল বা কোন কোন প্রতিষ্ঠানের কত টাকা ফেরত দেয়া হয়েছে, তার বিস্তারিত তথ্য, ইন্টারন্যাশনাল লিজিং অ্যান্ড ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসেসের কাছ থেকে কত টাকা আমানত হিসেবে নেয়া হয়েছিল বা কত টাকা ফেরত দেয়া হয়েছে সে বিষয়ে পূর্ণাঙ্গ তথ্য দিতে বলা হয়। এ ছাড়া রিলায়েন্স ফাইন্যান্সের বোর্ড অব ডিরেক্টরের নাম ও বিস্তারিত তথ্য, ২০১৫ থেকে ২০১৯ সাল পর্যন্ত কত টাকা আমানতকারীদের কাছ থেকে উত্তোলন করা হয়েছে এবং কত টাকা বিনিয়োগ করা হয়েছে, বর্তমানে প্রতিষ্ঠানের কাছে কত টাকা রক্ষিত রয়েছে তার তথ্য চাওয়া হয়েছে। এছাড়া ওই প্রতিষ্ঠানের নামে কোন কোন ব্যাংকে অ্যাকাউন্ট রয়েছে তার তথ্য দিতে বলা হয়েছে। দুদক থেকে রিলায়েন্স ফাইন্যান্স ছাড়াও পিপলস লিজিংয়ের ব্যবস্থাপনা পরিচালককেও চিঠি দেয়া হয়েছে।

আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×