পূর্বাচল নতুন শহর প্রকল্প: ৩২০ কিমি. পানি সরবরাহ লাইন করবে রাজউক

খরচ হবে ৫৯৩ কোটি টাকা

  মতিন আব্দুল্লাহ ০৮ নভেম্বর ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

পূর্বাচল

পূর্বাচল নতুন শহর প্রকল্পকে বসবাস উপযোগী করতে ৩২০ কিলোমিটার পানি সরবরাহ লাইন স্থাপনের উদ্যোগ নিয়েছে রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (রাজউক)। প্রকল্পের রোড এলাইনমেন্ট বরাবর পাইপলাইন নেটওয়ার্ক ও ১৫টি গভীর নলকূপ স্থাপনে খরচ হবে ৫৯২ কোটি ৩৯ লাখ টাকা।

এ প্রকল্পের অবকাঠামো উন্নয়ন কাজের সময়কাল নির্ধারণ করা হয়েছে ২০১৯-২০২৩ সাল। আর পরিচালন ও রক্ষণাবেক্ষণের সময়কাল নির্ধারণ করা হয়েছে ২০২০-২০৩৩ সাল পর্যন্ত। প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে পূর্বাচল প্রকল্পে বসবাসের ক্ষেত্রে আর কোনো বাধা থাকবে না। কেননা ইতিমধ্যে প্রকল্পের অবকাঠামো, সড়ক ও বিদ্যুৎ সেবার উল্লেখ্যযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে।

জানতে চাইলে রাজউকের নির্বাহী প্রকৌশলী ও প্রকল্প পরিচালক ড. সাবের সুলতান বলেন, ‘পূর্বাচল নতুন শহর প্রকল্পের পানি সুবিধা নিশ্চিত করতে প্রাইভেট পাবলিক পার্টনারশিপ (পিপিপি) ভিত্তিক একটি প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছে। শিগগিরই এ প্রকল্পের কার্যক্রম শুরু হবে।’

সংশ্লিষ্টরা জানান, অর্থনৈতিক বিষয়ক কেবিনেট কমিটি (সিসিইএ) পূর্বাচল নতুন শহর প্রকল্পের পানি সরবরাহ, পয়ঃনিষ্কাশন, ড্রেনেজ সিস্টেম ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনা- কার্যক্রম গ্রহণের অনুমতি দেয় ২০১৬ সালের ৪ মে। এরপর কারিগরি ও আইনগত বিষয় বিশ্লেষণ করে সেখান থেকে পানি সরবরাহের জন্য আলাদা একটি প্রকল্প গ্রহণ করতে ২০১৭ সালের ৮ অক্টোবর সিদ্ধান্ত দেয় গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়। সেই সিদ্ধান্তের আলোকে ২০১৮ সালের ১১ জুন পূর্বাচলের পানি সরবরাহ ও ডিপ টিউবওয়েল স্থাপনের দরপত্র গ্রহণ করা হয়। যথাযথ প্রক্রিয়া অনুসরণ করে আগ্রহী প্রতিষ্ঠান বাছাই করেছে রাজউক। আর প্রকল্পের পিপিপি কন্ট্রাকসংক্রান্ত ভেটিং করতে আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের লিগ্যাল ভেটিংয়ে পাঠানো হয়। এরপর ২০ ফেব্রুয়ারি গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের চাহিদার প্রেক্ষিতে পিপিপি কন্ট্রাক প্রেরণ করা হয়; যেটা সিসিইএ ২২ মে অনুমোদন করে। এরপর রাজউক বাছাইকৃত প্রতিষ্ঠানকে ১১ জুলাই চিঠি দিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে জানায়। ১১ নভেম্বর ওই প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে রাজউকের চুক্তি স্বাক্ষর হওয়ার কথা রয়েছে।

‘পূর্বাচল নতুন শহর’ প্রকল্প ১৯৯৫ সালে বাস্তবায়ন কাজ শুরু করে রাজউক। ঢাকা শহরের পার্শ্ববর্তী এলাকায় সব ধরনের আধুনিক সুযোগ-সুবিধাসহ স্বয়ংসম্পন্ন নতুন টাউনশিপ গড়ে তুলে ঢাকার ওপর আবাসন চাপ কমানোর লক্ষ্যে এ প্রকল্প গ্রহণ করা হয়। প্রকল্পের আওতায় ৬ হাজার ২৭৭ দশমিক ৩৬ একর জমি অধিগ্রহণ করা হয়েছে। এর মধ্যে নারায়ণগঞ্জ অংশে রয়েছে ৪ হাজার ৫৭৭ দশমিক ৩৬ একর জমি। গাজীপুর অংশে ১৫শ’ একর জমি; যা ৩০টি সেক্টরে ভাগ করা হয়েছে। বাকি ১৫০ একর জমি ঢাকা জেলার খিলক্ষেত থানায় কুড়িল ফ্লাইওভার এবং লিংক রোড নির্মাণে ব্যবহার করা হয়েছে। এ প্রকল্পে বিভিন্ন আকারের ২৭ হাজার ৮টি প্লট তৈরি করা হয়েছে। প্রাতিষ্ঠানিক ৪২৩টি, ডিপ্লোম্যাটিক ৬৩টি, বাণিজ্যিক ১ হাজার ৩০টি, প্রশাসনিক ৪৭৩টি, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ১৬৬টি। প্রকল্পের প্লটগুলোর মধ্যে ৩ কাঠার প্লট রয়েছে ১০ হাজার ১২টি, ৫ কাঠার প্লট রয়েছে ১ হাজার ৩৬১টি, সাড়ে ৭ কাঠার প্লট রয়েছে ২ হাজার ৬১৮টি, ১০ কাঠার প্লট রয়েছে ২ হাজার ২৫টি। শুরুতে প্রকল্প ব্যয় নির্ধারণ করা হয়েছিল ৩ হাজার ৩১১ কোটি ৭৪ লাখ টাকা। সংশোধিত প্রাক্কলিত ব্যয় নির্ধারণ করা হয়েছে ৭ হাজার ৭৮২ কোটি ১৪ লাখ টাকা, যার সম্পূর্ণ রাজউকের নিজস্ব অর্থ। প্রকল্পটির বাস্তবায়নকাল ১৯৯৫ থেকে ২০১০ সাল পর্যন্ত ছিল। যা পরে সংশোধন করে ২০১৮ সালের জুন পর্যন্ত বর্ধিত করা হয়। পরে আবারও বৃদ্ধি করে চলতি বছরের মধ্যে সমাপ্ত করার ঘোষণা দিয়েছে সরকার। এভাবে কেটে গেছে প্রায় ২৪ বছর।

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×