খুলনার সেফ গ্রুপ

গ্রাহকের ৫০ কোটি টাকা নিয়ে লাপাত্তা কর্মকর্তারা

  খুলনা ব্যুরো ০৯ নভেম্বর ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

গ্রাহকের প্রায় ৫০ কোটি টাকা নিয়ে পালিয়েছেন খুলনার সেফ ইসলামী ব্যবসায়ী কো-অপারেটিভ সোসাইটি লিমিটেড ও সেফ গ্রুপ লিমিটেডের কর্মকর্তারা। গত মাসের মাঝামাঝি থেকে নগরীর বয়রা এলাকায় গ্রুপের অফিসে আসছেন না চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালকসহ অন্য কর্মকর্তারা। ফলে মহাউৎকণ্ঠায় রয়েছেন প্রায় ১০ হাজার গ্রাহক ও ৫ শতাধিক কর্মী।

গ্রাহকরা জানান, ২০১২ সালে নগরীর মজিদ সরণির খান টাওয়ারের ৫ম ও ষষ্ঠ তলায় সেফ গ্রুপ কার্যক্রম শুরু করে। গ্রুপের আওতায় সেফ ইসলামী ব্যবসায়ী কো-অপারেটিভ সোসাইটির মাধ্যমে ডিপিএস ও এফডিআর করানো হয় গ্রাহকদের। এছাড়া জমি, ফ্ল্যাট, সয়াবিন তেল ও বোতলজাত পানি বিক্রি প্রকল্পের নামেও টাকা জমা নেয়া হয় গ্রাহকদের কাছ থেকে। গত মাসের প্রথম দিকে ভাড়া অফিস ছেড়ে বয়রা এলাকায় নির্মাণাধীন নিজস্ব ৪ তলা গ্রিন টাওয়ারের নিচতলায় অফিস স্থানান্তর করা হয়। এর কিছুদিন পরই থেকেই গ্রুপটির কর্মকর্তারা লাপাত্তা।

গ্রাহকদের অভিযোগ, সেফ গ্রুপের চেয়ারম্যান ডা. মোখতার হোসাইন, তার ছেলে ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক আবদুল্লাহ আল মামুন, ভাইস চেয়ারম্যান ইসমাইল হোসেন, পরিচালক আবদুল্লাহ মাহমুদ ফয়সাল, ম্যানেজার রিপন বাবু ও প্রশাসনিক কর্মকর্তা হাবিবুর রহমান আত্মগোপন করেছেন। তাদের সবার মোবাইল ফোনও বন্ধ।

সরেজমিনে সেফ গ্রুপের অফিসে গিয়ে দেখা যায়, গ্রাহকরা এসে কর্মকর্তাদের বিষয় এবং জমা রাখা টাকা ফেরত পাবেন কিনা সে সম্পর্কে খোঁজখবর নিচ্ছেন। কিন্তু হতাশ হয়ে ফিরে যাচ্ছেন। অফিসে আজাদ নামে একজন জুনিয়র অফিসার ও আরেকজন নারী কর্মচারী ছাড়া আর কাউকে পাওয়া যায়নি। জুনিয়র অফিসার আজাদ বলেন, কর্মকর্তারা সবাই ভারতে চিকিৎসার জন্য গেছেন বলে শুনেছি। এরপর কেউ আর ফোনেও যোগাযোগ করেননি। কর্মকর্তারা কেউ না থাকায় টাকা গ্রহণ ও প্রদান বন্ধ রয়েছে। সবাই কি একসঙ্গে অসুস্থ হয়েছেন এবং সবাই কি একসঙ্গে ভারতে গেছেন- এ প্রশ্নের কোনো উত্তর দিতে পারেননি আজাদ। একপর্যায়ে তিনি বলেন, আমি নিজেও এখানে টাকা জমা রেখে দুশ্চিন্তায় রয়েছি। গ্রাহক সাতক্ষীরা জেলার আশাশুনির গৈরামপুর গ্রামের ওসমান গণি বলেন, ২০১৭ সালের জুনে আমি এখানে ৫০ হাজার টাকা জমা রাখি। প্রতি মাসে ৭শ’ টাকা করে লভ্যাংশ দেয়া হতো। কিন্তু গত মাসে লভ্যাংশ পাইনি। এখন মূল টাকা ফেরত পাওয়া নিয়ে দুশ্চিন্তায় পড়েছি।

সেফ গ্রুপের মার্কেটিং অফিসার মুফতি হেলাল উদ্দিন শিকারী বলেন, আমি ৩২ জন গ্রাহকের কাছ থেকে নিয়ে ডিপিএস বাবদ ১২ লাখ ও এফডিআর বাবদ ৩ লাখ টাকা নিয়ে জমা রেখেছি। এখন কর্মকর্তারা পালিয়ে যাওয়ায় গ্রাহকরা টাকা ফেরত দেয়ার জন্য তাকে চাপ দিচ্ছে। আরেক মার্কেটিং অফিসার কামরুজ্জামান বলেন, আমি ৭০ জন গ্রাহকের কাছ থেকে দেড় কোটি টাকা নিয়ে জমা রেখেছি। এখন টাকাও পাচ্ছি না, চেয়ারম্যান মোখতার ও তার পরিবারের কাউকেও খুঁজে পাচ্ছি না। জানতে চাইলে সোনাডাঙ্গা থানার ওসি মমতাজুল হক বলেন, গ্রাহকদের উত্তেজনার খবর পেয়ে গত শনিবার পুলিশ সেফ গ্রুপের অফিসে গিয়েছিল। তবে এখনও কোনো গ্রাহক মামলা করেনি। মামলা করলে আইনগত পদক্ষেপ নেয়া হবে। এ ব্যাপারে জেলা ভারপ্রাপ্ত সমবায় কর্মকর্তা গৌর হরি মল্লিক বলেন, সংস্থাটি সমবায় অধিদফতর থেকে নিবন্ধন নিয়েছিল। কিন্তু নিয়মবহির্ভূতভাবে ডিপিএস ও এফডিআর খাতে টাকা জমা রাখত। এখন তাদের কর্মকর্তারা পালিয়েছে বলে শুনেছি।

আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×