নতুন সড়ক আইন

চট্টগ্রাম বিআরটিএ অফিসে লাইসেন্স নিতে ভিড়

হিমশিম খাচ্ছেন কর্মকর্তা-কর্মচারীরা * প্রতিদিন বাতিল হচ্ছে অর্ধেক আবেদন

  নাসির উদ্দিন রকি, চট্টগ্রাম ব্যুরো ০৯ নভেম্বর ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

রাউজান উপজেলার পাহাড়তলীর বাসিন্দা সিএনজি অটোরিকশাচালক জয়নাল আবেদীন দুই বছর ধরে গাড়ি চালিয়ে আসছেন। নতুন সড়ক আইন কার্যকর হওয়ার পর বৃহস্পতিবার তিনি লাইসেন্সের জন্য চট্টগ্রাম বিআরটিএতে আবেদন জমা দেন। শিক্ষাগত যোগ্যতা অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত না থাকায় তার আবেদন বাতিল করে দেন কর্মকর্তারা।

বিআরটিএ চট্টগ্রাম মেট্রো সার্কেল-২ এর সহকারী পরিচালক (ইঞ্জি.) উসমান সরওয়ার আলম যুগান্তরকে বলেন, নতুন সড়ক আইনে ড্রাইভিং লাইসেন্স পেতে ন্যূনতম অষ্টম শ্রেণি পাস হতে হবে। ১ নভেম্বর থেকে শিক্ষাগত যোগ্যতা অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত না থাকলে তাদের আবেদন বাতিল করে দেয়া হচ্ছে। চট্টগ্রামে প্রতিদিন আড়াইশ’ থেকে ৩শ’ পর্যন্ত লাইসেন্সের জন্য আবেদন জমা পড়ছে। এর মধ্যে অর্ধেক আবেদনই বাতিল হয়ে যাচ্ছে। তিনি বলেন, নতুন সড়ক আইন কার্যকর হওয়ার পর থেকে ফিটনেস এবং রেজিস্ট্রেশনের জন্য ভিড় বেড়েছে। আগে যেখানে ফিটনেসের জন্য ৩৫০টি আবেদন জমা পড়ত, বর্তমানে সেখানে জমা পড়ছে ৭০০টি। রেজিস্ট্রেশনের জন্য আগে যেখানে আবেদন জমা পড়ত গড়ে ৮০টি, বর্তমানে জমা পড়ছে ১২৫টি।

বৃহস্পতিবার চট্টগ্রাম বিআরটিএ কার্যালয় ঘুরে দেখা গেছে, বিআরটিএ মাঠে শত শত গাড়ির জটলা। সংশ্লিষ্টরা জানান, এসব গাড়ির ফিটনেস সনদ পেতে আনা হয়েছে। পরিদর্শকরা এসব গাড়ি পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে দেখছেন। সর্বশেষ এসব গাড়ি এবং ইঞ্জিনের ছবিও তুলে রাখা হচ্ছে। সবচেয়ে বেশি ভিড় দেখা গেছে আবেদনের টাকা জমা দেয়ার স্থলে। ড্রাইভিং লাইসেন্সের জন্য আবেদন করতে আসা সাইফুদ্দিন নামে এক ছাত্র জানান, ওইদিন (বৃহস্পতিবার) সকাল ১০টায় তিনি আবেদনের টাকা জমা দিতে লাইনে দাঁড়ান। সাড়ে তিন ঘণ্টা পর তিনি আবেদনের টাকা জমা দিতে পেরেছেন। তবে এনআরবি কমার্শিয়াল ব্যাংকের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, হঠাৎ করে আবেদনকারীর সংখ্যা বেড়ে যাওয়ায় চাপ সামলানো কঠিন হয়ে যাচ্ছে। বিআরটিএ কর্মকর্তারা জানান, ১ নভেম্বর থেকে নতুন সড়ক আইন কার্যকরের পর থেকে বিআরটিএতে আগের চেয়ে কয়েক গুণ বেশি ভিড় বেড়েছে। বৃহস্পতিবার ৭ নভেম্বর পর্যন্ত শুধু ড্রাইভিং লাইসেন্সের জন্য (রোববার থেকে বৃহস্পতিবার পর্যন্ত) পাঁচ দিনে ফিটনেসের আবেদন জমা পড়ে প্রায় সাড়ে ৩ হাজার। শিক্ষাগত সনদ না থাকায় অর্ধেকের বেশি আবেদন বাতিল করা হয়। একই সময়ে রেজিস্ট্রেশনের জন্য সাড়ে ৬শ’ আবেদন জমা পড়েছে। চট্টগ্রামে নতুন সড়ক আইন প্রয়োগ শুরু হচ্ছে চলতি সপ্তাহ থেকে। এ লক্ষ্যে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশে চলছে প্রস্তুতিও। ট্রাফিক বিভাগে কর্মরত ট্রাফিক ইন্সপেক্টর (টিআই) ও সার্জেন্টসহ সংশ্লিষ্টদের দেয়া হয়েছে প্রশিক্ষণ। নতুন আইনের আলোকে তৈরি করা হচ্ছে প্রসিকিউশন (কেস) বই, রেজিস্ট্রার পত্রসহ আপডেট করা হচ্ছে সফটওয়্যার। নতুন সড়ক আইন বাতিল করে আধুনিক ভারসাম্যমূলক বিজ্ঞান ও বাস্তবসম্মত আইন প্রণয়নের দাবি জানিয়েছেন বাংলাদেশ জাতীয় সড়ক শ্রমিক ফেডারেশনের কর্মকর্তারা। সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক আনোয়ার হোসেন যুগান্তরকে বলেন, নতুন আইনে জরিমানার অর্থ আগের চেয়ে ১২ গুণ থেকে এক হাজার গুণ বাড়ানো হয়েছে। একইভাবে ২ থেকে ৬ গুণ বেশি জেল-জরিমানার বিধান রাখা হয়েছে নতুন আইনে। নগর ট্রাফিক পুলিশের উপকমিশনার (বন্দর) তারেক আহমেদ যুগান্তরকে বলেন, নতুন সড়ক আইনের গেজেট প্রকাশ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই ট্রাফিক পুলিশের সদস্যদের নতুন এ আইনের বিষয়ে ২৮ অক্টোবর থেকে প্রশিক্ষণ দেয়া হয়েছে।

আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×