আবরার হত্যায় বুয়েটের ২৬ শিক্ষার্থী স্থায়ী বহিষ্কার

বাকি দাবি মানলেই ক্লাসে ফিরবেন শিক্ষার্থীরা

  ঢাবি প্রতিনিধি ২৩ নভেম্বর ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) ছাত্র আবরার ফাহাদ হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২৬ শিক্ষার্থীকে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্থায়ী বহিষ্কার করা হয়েছে।

এছাড়া ছয়জনকে বিভিন্ন মেয়াদে শাস্তি দিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। এর মাধ্যমে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের তিন দাবির একটি পূরণ হয়েছে।

তবে আন্দোলনকারীরা বলছেন, বাকি দুটি দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত তারা ক্লাস-পরীক্ষায় ফিরবেন না।

আবরার ফাহাদ হত্যার ঘটনায় গঠিত তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনের ভিত্তিতে বুধবার রাতে বুয়েটের বোর্ড অব রেসিডেন্স অ্যান্ড ডিসিপ্লিন অভিযুক্তদের বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত নেয়।

বৃহস্পতিবার রাতে আনুষ্ঠানিকভাবে এ সিদ্ধান্ত জানানো হয়। এর আগে ১৪ নভেম্বর সংবাদ সম্মেলন করে তিনটি দাবি জানান শিক্ষার্থীরা।

দাবিগুলো হল- মামলার অভিযোগপত্রের ভিত্তিতে অভিযুক্ত ব্যক্তিদের বুয়েট থেকে স্থায়ী বহিষ্কার, আহসানউল্লাহ, তিতুমীর ও সোহরাওয়ার্দী হলে আগে ঘটে যাওয়া র‌্যাগিংয়ের ঘটনাগুলোয় অভিযুক্ত ব্যক্তিদের অপরাধের মাত্রা অনুযায়ী শাস্তি, সাংগঠনিক ছাত্র রাজনীতি এবং র‌্যাগিংয়ের জন্য সুস্পষ্টভাবে বিভিন্ন ক্যাটাগরি ভাগ করে শাস্তির নীতিমালা প্রণয়ন করা এবং একাডেমিক কাউন্সিল ও সিন্ডিকেটের অনুমোদন নেয়া।

এরপর বুয়েটের অধ্যাদেশে সংযোজনের জন্য পরবর্তী ধাপগুলোয় পাঠানোর ব্যবস্থা করা।

এ বিষয়ে বুয়েটের মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী অন্তরা মাধুরী তিথি যুগান্তরকে বলেন, বৃহস্পতিবার মাঝরাতে আমরা বহিষ্কারের সংবাদটি দেখেছি।

ফলে এ বিষয়ে সবাই বসে আলোচনার সুযোগ হয়নি। আন্দোলনের ব্যাপারে সব ব্যাচের শিক্ষার্থীরা বসে সিদ্ধান্ত নেয়া হয়, তাই একসঙ্গে বসে আমাদের অবস্থান আনুষ্ঠানিকভাবে জানাব।

তিনি আরও বলেন, স্থায়ী বহিষ্কারের দাবিটা অনেক ক্ষেত্রে চার্জশিটের ওপর নির্ভর করে। কিন্তু অন্য দুটি দাবি সম্পূর্ণভাবে প্রশাসনের হাতে ছিল।

কিন্তু তারা তা পূরণ করেননি। তারা কেন এ দুটি দাবি পূরণে সময় নিচ্ছেন তা আমাদের বোধগম্য নয়। এক্ষেত্রে এক ধরনের গাফিলতি আছে বলে মনে হয়েছে।

তিনি বলেন, সব দফা দাবি মানলে আমরা পরীক্ষায় বসব। আমরা ক্লাস-পরীক্ষায় ফিরতে চাই।

বুয়েটের ছাত্রকল্যাণ পরিচালক অধ্যাপক ড. মিজানুর রহমান যুগান্তরকে বলেন, প্রশাসন অত্যন্ত আন্তরিকতার সঙ্গে কাজ করছে।

ইতিমধ্যে হত্যার ঘটনায় জড়িতদের শাস্তি দেয়া হয়েছে। আবরার হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ছাড়া অন্য র‌্যাগিংয়ের ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে তদন্ত প্রক্রিয়া শেষ পর্যায়ে।

আশা করি, আগামী সপ্তাহে সেসব বিষয়েও সিদ্ধান্ত নেয়া যাবে। শিগগিরই ক্যাম্পাসে শিক্ষার পরিবেশ স্বাভাবিক হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

কুষ্টিয়া প্রতিনিধি জানান, আবরার ফাহাদের হত্যার ঘটনায় বুয়েট থেকে ২৬ শিক্ষার্থীকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কার করায় আবরারের পরিবার সন্তোষ প্রকাশ করেছে।

শুক্রবার বিকালে আবরারের ভাই আবরার ফাইয়াজ বলেন, দেরিতে হলেও বুয়েট প্রশাসন খুনিদের ছাত্রত্ব চিরতরে বাতিল করেছে। এতে আমরা সন্তুষ্ট।

প্রতিক্রিয়া জানাতে গিয়ে আবরারের মা রোকেয়া খাতুন বলেন, এসব করে তো আমার ছেলে আর ফিরে আসবে না।

তবে খুনিদের আজীবন বহিষ্কার করায় কিছুটা সান্ত্বনা খুঁজে পেয়েছি। মামলাটি যেন দ্রুত শেষ করে রায় কার্যকর করা হয়।

আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×