না’গঞ্জে মৃত্যু ঝুঁকিতে বসবাস: টানবাজারে আবাসিক ভবনে কেমিক্যাল গোডাউন

  রাজু আহমেদ, নারায়ণগঞ্জ ১০ জানুয়ারি ২০২০, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

গোডাউন

নারায়ণগঞ্জ শহরের টানবাজার এলাকায় আবাসিক ভবন থেকে কেমিক্যালের গোডাউন সরিয়ে নিতে নির্দেশ দিয়েছিল প্রশাসন। এ জন্য ১০ দিন সময় চেয়েছিলেন ব্যবসায়ীরা।

কিন্তু প্রায় এক বছর হতে চলল, প্রতিশ্রুতি আর সিদ্ধান্ত কোনোটিরই প্রতিফলন ঘটেনি। ফলে ভয়ানক ঝুঁকিতে রয়েছেন কয়েক হাজার মানুষ। একদিকে বিষয়টি নিয়ে প্রশাসনের মনিটরিং বন্ধ রয়েছে, অন্যদিকে নীরবতা পালন করছেন ব্যবসায়ীরাও। স্বাধীনতা পরবর্তী সময় থেকে দেশের কেমিক্যাল ব্যবসার অন্যতম কেন্দ্র হয়ে ওঠে শহরের টানবাজার এলাকা।

শতশত আবাসিক ভবনে গড়ে ওঠে রং, সুতা আর নানা দাহ্য কেমিক্যালের গোডাউন। গত বছর রাজধানীর চকবাজারের চুড়িহাট্টায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনার পর নড়েচড়ে বসেছিল নারায়ণগঞ্জের প্রশাসন। আবাসিক বাড়িতে দাহ্য কেমিক্যালের গোডাউন থাকতে পারবে না, এমনটিই সিদ্ধান্ত নিয়েছিল। গত বছরের ২৫ ফেব্রুয়ারি প্রশাসনের সেই সিদ্ধান্তের পরিপ্রেক্ষিতে কেমিক্যালের গোডাউন সরিয়ে নিতে ব্যবসায়ীরা ১০ দিনের সময় চেয়ে নিলেও প্রায় ১ বছর হতে চলল। এখনও দেদারসে চলছে কেমিক্যাল বিক্রি ও মজুদ।

অধিকাংশ দোকানেই নেই পর্যাপ্ত অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা। সরজমিনে দেখা গেছে, নারায়ণগঞ্জের পুরনো ও ঐতিহ্যবাহী টানবাজারে কেমিক্যাল ব্যবসার পাইকারি ও খুচরা মিলিয়ে প্রায় দেড় শতাধিক দোকান রয়েছে। এ ছাড়া আছে বড় বড় কেমিক্যাল গোডাউন। সময়ের সঙ্গে এই ব্যবসায়িক কেন্দ্রকে ঘিরে এখন তৈরি হয়েছে সুউচ্চ আবাসিক ভবন। টানবাজারের পদ্ম সিটি প্লাজা, খালেক প্লাজাসহ আশপাশের সব সুউচ্চ আবাসিক ভবনের নিচতলা থেকে ভবনগুলোর তৃতীয়তলা পর্যন্ত কেমিক্যালের দোকান ও গোডাউন রয়েছে। এসব দোকান ও গোডাউনে মজুদ করে রাখা হচ্ছে সফেনার, এসিড, নাইট্রেট, ডাইস কেমিক্যাল, প্রিন্টিং কেমিক্যালসহ আরও কয়েক ধরনের পদার্থ। যার মধ্যে এসিড, নাইট্রেট, পার-অক্সাইড দাহ্য পদার্থ। লাইসেন্স ছাড়া এসব দাহ্য পদার্থ বিক্রি করার অনুমতি না থাকলেও আইনের তোয়াক্কা না করেই ব্যবসায়ীরা এসব দাহ্য কেমিক্যাল বিক্রি চালিয়ে যাচ্ছে। অপরদিকে ঝুঁকি নিয়েই এসব ভবনে বছরের পর বছর বসবাস করছে মানুষ। অথচ এখানে ব্যবসায় করার জন্য সিটি কর্পোরেশন থেকে ব্যবসায়ীরা নিয়েছে রং বিক্রির ট্রেড লাইসেন্স। অথচ জানা গেছে, সিটি কর্পোরেশনের নিয়ম অনুযায়ী, কেমিক্যাল ব্যবসায়ের ট্রেড লাইসেন্স নেয়ার জন্য প্রতিষ্ঠানের অবস্থান, পরিবেশ অধিদফতরের লাইসেন্স, ফায়ার সার্ভিসের অগ্নিনির্বাপণ লাইসেন্সসহ জেলা প্রশাসকের অনুমতি বাধ্যতামূলক। এগুলো ছাড়া ট্রেড লাইসেন্স প্রদান করে না সিটি কর্পোরেশন। অথচ টানবাজারের অধিকাংশ দোকানেই নেই এসব সনদপত্র। শুধু নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশন প্রদত্ত রং বিক্রির ট্রেড লাইসেন্স দিয়েই এখানে চলছে কেমিক্যালের মতো ঝুঁকিপূর্ণ দাহ্য পদার্থের মজুদ ও বিক্রি। তবে লাইসেন্স বা ছাড়পত্র নিয়ে ব্যবসায়ীদেরও অভিযোগের শেষ নেই। ব্যবসায়ীদের দাবি এক জায়গা থেকে সব লাইসেন্স সংগ্রহ করা যায় না। আলাদা জায়গা থেকে লাইসেন্স সংগ্রহ করতে প্রচুর সময় লাগে। কখনও কখনও একটা লাইসেন্স সংগ্রহ করতেই বছর পার হয়ে যায়। লাইসেন্সের জন্য চক্কর দিতে দিতে ক্লান্ত হয়েই অনেকে লাইসেন্স করার সিদ্ধান্তই পাল্টে ফেলেন বলে জানান তারা। এ ব্যাপারে বাংলাদেশ ইয়ার্ন মার্চেন্ট অ্যাসোসিয়েশন সভাপতি লিটন সাহা যুগান্তরকে জানান, প্রশাসনের সিদ্ধান্তের পর অনেকেই গোডাউন সরিয়ে নিয়েছেন বলে আমি জানি। তবে সব কেমিক্যালই দাহ্য নয়। যেগুলো দাহ্য সেগুলো সরিয়ে নিতে আমরা ব্যবসায়ীদের তাগিদ দিচ্ছি। কারণ যদি দুর্ঘটনা ঘটে আবাসিক ও বাণিজ্যিক সব ভবনই ক্ষতিগ্রস্ত হবে।

এ ব্যাপারে নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসক জসীম উদ্দিন বিষয়টি উত্থাপনের জন্য যুগান্তরকে ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, এ ব্যাপারটি অতি গুরুত্বপূর্ণ। টানবাজার এলাকাটি দেশের রং, সুতার অন্যতম পাইকারি ব্যবসা কেন্দ্র। এখানে প্রচুর আবাসিক ভবনও রয়েছে। আমি এ জেলায় যোগদানের আগে কেমিক্যাল ব্যবসায়ীরা সময় চেয়েছিল বলে শুনলাম। এখন তারা কেন সেটি করছে না এবং কীভাবে পুরো এলাকাটির নিরাপত্তা নিশ্চিত করা যায় সে ব্যাপারে ব্যবসায়ীদের সঙ্গে আলোচনার ভিত্তিতে ত্বরিত গতিতে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

 
×