মাত্রাতিরিক্ত কালো ধোঁয়া উগরানো যান জব্দের নির্দেশ

পরিবেশ অধিদফতরের মহাপরিচালককে আদালতে তলব

  যুগান্তর রিপোর্ট ১৪ জানুয়ারি ২০২০, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

ঢাকার বায়ুমান উন্নয়নে পরিবেশ অধিদফতর কী পদক্ষেপ নিয়েছে এবং অধিদফতরের জনবল নিয়োগের বিষয়ে কী পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে তা জানতে চেয়েছেন হাইকোর্ট। এ বিষয়ে জানাতে ২ ফেব্রুয়ারি পরিবেশ অধিদফতরের মহাপরিচালককে আদালতে হাজির থাকতে বলা হয়েছে। একই সঙ্গে যেসব যানবাহন নির্ধারিত মাত্রার বেশি কালো ধোঁয়া ছড়াচ্ছে সেগুলো জব্দের নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।

ঢাকার বায়ুদূষণ নিয়ে মানবাধিকার ও পরিবেশবাদী সংগঠন এইচআরপিবির করা একটি রিটের সম্পূরক আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে সোমবার বিচারপতি এফআরএম নাজমুল আহাসান ও বিচারপতি কামরুল কাদেরের হাইকোর্ট বেঞ্চ এ আদেশ দেন।

আদালত একইসঙ্গে সড়ক পরিবহন আইনের বিধান অনুযায়ী প্রত্যেক যানবাহনের ‘ইকোনোমিক লাইফ’ নির্ধারণ করতে বলেছেন। যেসব পরিবহনের ‘ইকোনোমিক লাইফ’ পেরিয়ে গেছে, সেসব বাহন নিষিদ্ধের ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে আদেশে। এছাড়া পরিবেশ অধিদফতরের অনুমোদন ছাড়া টায়ার পোড়ানো বা ব্যাটারি রিসাইকেলিং বন্ধেও কার্যকর ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। পরিবেশ অধিদফতরকে ১ মাসের মধ্যে এ বিষয়ে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে। সেই সঙ্গে নারায়ণগঞ্জ, মুন্সীগঞ্জ, গাজীপুর ও মানিকগঞ্জে যেসব অবৈধ ইটভাটা এখনও বন্ধ করা হয়নি সেগুলো বন্ধ করে ২ মাসের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে বলেছেন আদালত।

আদালতে আবেদনকারীর পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী মনজিল মোরসেদ। ঢাকার দুই সিটি কর্পোরেশনের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী সাঈদ আহমদ রাজা ও তৌফিক ইনাম টিপু। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল এবিএম আবদুল্লাহ আল মাহমুদ বাশার।

আদেশের পর আইনজীবী মনজিল মোরসেদ সাংবাদিকদের বলেন, ঢাকার বায়ুদূষণ বিশ্বের সর্বোচ্চ পর্যায়ে রয়েছে। এ কারণে জনগণের স্বাস্থ্য সুরক্ষার স্বার্থে জনস্বার্থে একটি রিট আবেদন করেছিল এইচআরপিবি। সেই পরিপ্রেক্ষিতে আদালত পানি ছিটানো ও ধুলাবালি কমানোর বিষয়ে দুটো নির্দেশনা দিয়েছিলেন। সে অনুযায়ী সিটি কর্পোরেশনের পক্ষ থেকে রোববার দুটি বাস্তবায়ন প্রতিবেদন দাখিল করা হয়। আমরা বলেছি, এখন পর্যন্ত বায়ূদূষণে আমরা সর্বোচ্চ পর্যায়ে আছি। এটা নিয়ন্ত্রণে কিছু পদক্ষেপ দরকার। সেজন্য সম্পূরক আবেদনে ১২ দফা নির্দেশনা চেয়েছিলাম। তার মধ্যে আদালত নয়টি নির্দেশনা দিয়েছেন।

আদালত বলেছেন, ঢাকায় যেসব ট্রাক বালি, ময়লা ও বর্জ্য পরিবহন করবে সেগুলো যাতে ঢাকা থাকে তা নিশ্চিত করতে হবে। নির্মাণ এলাকায় বালি, সিমেন্ট, মাটিসহ নির্মাণসামগ্রী ঢেকে রাখার বিষয়টিও নিশ্চিত করতে হবে। সিটি কর্পোরেশনের যেসব এলাকায় পানি ছিটানো হয়নি সেসব এলাকাসহ ধুলাবালিপ্রবণ এলাকায় নিয়মিত পানি ছিটাতে হবে। আইন ও দরপত্রের শর্ত অনুযায়ী উন্নয়ন ও নির্মাণ কাজ নিশ্চিত করতে হবে। দোকান বা মার্কেটে দিনের ময়লা-আবর্জনা বিন বা বস্তায় জমা রাখতে হবে। দোকান বা মার্কেট বন্ধ করার সময় মালিকরা তা সিটি কর্পোরেশনের নির্ধারিত জায়গায় ফেলার ব্যবস্থা করবেন। এ বিষয়টি ঢাকার দুই সিটি কর্পোরেশনকে নিশ্চিত করতে নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

 
×