চাঁদপুর-ঢাকা বিলাসবহুল লঞ্চ

কেবিন-ক্যান্টিন নিয়ে সন্তুষ্ট নন যাত্রীরা

লঞ্চের ক্যান্টিনগুলোয় অস্বাস্থ্যকর খাবারের গলাকাটা দাম

  মির্জা জাকির, চাঁদপুর ২৪ জানুয়ারি ২০২০, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

শুধু চাঁদপুর নয়, পার্শ্ববর্তী ফেনী, নোয়াখালী, লক্ষ্মীপুর জেলাসহ এ অঞ্চলের অধিকাংশ যাত্রীদের কাছে চাঁদপুর-ঢাকা, নারায়ণগঞ্জ নৌরুটে যাতায়াত অনেকটা আরামদায়ক ও সময় স্বল্প লাগছে। যে কারণে প্রতিদিন হাজার হাজার যাত্রী এ রুটে চলাচল করছে। চাঁদপুর থেকে ঢাকাগামী ও ঢাকা থেকে চাঁদপুরগামী সব লঞ্চই বিলাসবহুল। প্রতিদিন প্রায় অর্ধশত জাহাজ এ রুটে চলাচল করছে। ফলে যাত্রীসংখ্যা দিন দিন বাড়ছে। তাই এ নৌরুট ব্যবসায়িকভাবেও লাভজনক হয়ে উঠেছে। ইতঃপূর্বে চাঁদপুর- ঢাকাগামী বিলাসবহুল লঞ্চের কেবিনে তরুণী ধর্ষণের পর হত্যার ঘটনাও ঘটেছে। চাঁদপুরের সাবেক পুলিশ সুপার শামসুন্নাহার একবার বিভিন্ন লঞ্চে অভিযান পরিচালনা করে বেশ ক’জনকে আটক করেছেন। বর্তমানে ক্যান্টিনগুলোয় সব ধরনের খাবারের দাম যাত্রীদের কাছে অস্বাভাবিক বেশি রাখা হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। লঞ্চের ক্যান্টিনগুলোয় অস্বাস্থ্যকর খাবারের গলাকাটা দাম যাত্রীদের নিরুপায় হয়েই দিতে হচ্ছে। একরকম জিম্মি হয়েই অতিরিক্ত দাম দিয়ে খাবার কিনে খেতে হচ্ছে যাত্রীদের। অনেক লঞ্চে মাছ, মাংস বাড়তি থেকে গেলে কিংবা অবিক্রীত থাকলে তা নদীর পানিতে ধুইয়ে ফ্রিজে রেখে দেয়া হয়। পরে ফের রান্নার সময় ফ্রিজ থেকে বের করে তরকারিতে দিয়ে গরম করে পরিবেশন করার অভিয়োগ উঠেছে কয়েকটি লঞ্চের ক্যান্টিন মালিকের বিরুদ্ধে।

শুধু তা-ই নয়, চাঁদপুর থেকে ছেড়ে যাওয়া প্রতিটি লঞ্চে অতিরিক্ত দাম নিয়ে নিম্নমানের খাবার পরিবেশন করা হয়- এমন অভিযোগ উঠেছে যাত্রীদের কাছ থেকে। এছাড়া বোতলজাত ও প্যাকেটজাত সব পণ্যের গায়ের মূল্যের চেয়ে ৫-১০ টাকা বেশি নেয়া হচ্ছে। চাঁদপুর জেলা প্রশাসন থেকে নির্ধারিত মূল্যতালিকা দেয়া হলেও কোনো লঞ্চ তা মেনে চলছে না। প্রতিটি লঞ্চের কোনো একটিতেও নেই মূল্যতালিকা।

এমভি রফরফ লঞ্চের যাত্রী মনির হোসেন জানান, লঞ্চগুলোর মালিক প্রতিনিধিরা ক্যান্টিন পরিচালনায় খোঁজখবর রাখেন না। যার কারণে লঞ্চের ক্যান্টিন মালিকরা ইচ্ছেমতো খাবারের দাম রেখে বিক্রি করছে। হাশেম নামে আরেক যাত্রী বলেন, দাম বেশি নিলেও সমস্যা নেই, খাবারের মানটা ভালো হওয়া দরকার। কারণ মানুষ অনেক সময় দূর-দূরান্ত থেকে জার্নি করে লঞ্চে এসে খাবার গ্রহণ করেন। তখন খাবারের মান নিয়ে যাচাই করার সময় থাকে না। তাই যে কোনো খাবার পেলেই কিনে খেতে হয়। আর প্যাকেটজাত সব পণ্যই বেশি দাম দিয়ে কিনতে হচ্ছে। আবে জমজম লঞ্চের ক্যান্টিন ম্যানেজার মানিক খান বলেন, আমরা লঞ্চে সব সময়ই প্যাকেজ অনুসারে খাবার বিক্রি করে থাকি। মুরগি, মাছ ও ডাল দিয়ে ১৫০ টাকা দামে প্যাকেজভাবে খাবার বিক্রি করি। তিনি বলেন, আমাদের বাধ্য হয়েই খাবারের দাম বেশি রাখতে হয়। প্রতিদিন সাড়ে ৬ হাজার টাকা ভাড়া দিতে হচ্ছে। তাই একটু বেশিই রাখা হয় খাবারের দাম। ওই লঞ্চের টং দোকানি মিজান বলেন, আমাকে প্রতিমাসে ৬০ হাজার টাকা ভাড়া দিতে হয়। এছাড়া মালামাল আনার জন্য লেবার খরচ দিতে হয়। সব মিলিয়ে খরচ বেশি পড়ে। তাই প্যাকেটজাত পণ্য বেশি বিক্রি করতে হয়।লঞ্চের মালিক পক্ষের প্রতিনিধি সাইফুল ইসলাম বলেন, আমরা লঞ্চের ক্যান্টিন এবং দোকানে নির্ধারিত মূল্যে খাবার বিক্রি করার নির্দেশ দিয়ে থাকি। আমরা রান্না করা খাবারের দাম বাজার অনুসারে নির্ধারণ করতে বলেছি। আর প্যাকেটজাত পণ্য নির্ধারিত মূল্যে বিক্রি করতেও তাদের বলা হয়েছে।

জেলা ক্যাবের সাধারণ সম্পাদক অধ্যক্ষ মোশারেফ হোসেন বলেন, লঞ্চে প্যাকেটজাত পণ্যের দাম বেশি নেয়ার ক্ষমতা তাদের নেই। যারা বেশি নিচ্ছেন, তারা আইন লঙ্ঘন করছেন। এ ব্যাপারে চাঁদপুরের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মো. জামাল হোসেন বলেন, লঞ্চে খাবারের দাম বৃদ্ধি রাখা হয়, আগেও আমাদের কাছে এ অভিযোগ ছিল। আমরা শিগগিরই প্রতিটি লঞ্চে অভিযান চালাব। যারা বেশি মূল্যে খাবার বিক্রি করছেন, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে।

আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

 
×