চবিতে গভীর রাতে হলে হলে তল্লাশি আটক ২০
jugantor
ছাত্রলীগের দুই গ্রুপের সংঘর্ষ
চবিতে গভীর রাতে হলে হলে তল্লাশি আটক ২০
শাটল ট্রেন চলাচল বন্ধ

  চবি প্রতিনিধি  

২৪ জানুয়ারি ২০২০, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রলীগের বিবদমান দুই গ্রুপের সংঘর্ষের জেরে বুধবার গভীর রাতে হলে হলে অভিযান চালিয়ে ২০ জন ছাত্রকে আটক করা হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের শাহ আমানত ও সোহরাওয়ার্দী হল থেকে আটক ২০ শিক্ষার্থীর মধ্যে সিফসি গ্রুপের ১২ জন ও বিজয় গ্রুপের ৮ জন রয়েছে। বিকালে দু’পক্ষের সংঘাতের পর রাত সাড়ে ১১টা থেকে পৌনে ১টা পর্যন্ত তল্লাশি চালানো হয়। আটক সবাই শিক্ষা উপমন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরীর অনুসারী বলে পরিচিত।

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক এসএম মনিরুল হাসান শিক্ষার সুষ্ঠু পরিবেশে বিঘ্ন ঘটানোয় দুই গ্রুপে সন্দেহভাজন ২০ জনকে আটক করা হয়েছে। তিনি বলেন, যাচাই-বাছাই শেষে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে। যারা বিশ্ববিদ্যালয়ে বিভিন্ন অপরাধে জড়িত তাদের অনেক ছাড় দেয়া হয়েছে। এখন শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেয়া হবে। পুলিশের হাটহাজারী থানার ওসি মাসুদ আলম বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের দুটি হলে অভিযান চালিয়ে ২০ জনকে আটক করা হয়েছে। যাচাই-বাছাই শেষে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেয়া হবে।

শাটল ট্রেন অবরোধ : বিজয় ও সিএফসি গ্রুপের সংঘাতের পর ডাকা লাগাতার অবরোধে বৃহস্পতিবারও শাটল ট্রেন চলাচল বন্ধ ছিল। তিন কর্মীকে মারধর ও কুপিয়ে জখমের প্রতিবাদে এবং শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি রেজাউল হকের বহিষ্কার ও গ্রেফতারের দাবিতে বিজয় গ্রুপ লাগাতার অবরোধের ডাক দেয়। অবরোধ কর্মসূচির অংশ হিসেবে দুপুরে ঝাড়ু মিছিল করে তারা। ষোলশহর রেলস্টেশনের সহকারী স্টেশন মাস্টার তন্ময় চৌধুরী বলেছেন, রেল কর্তৃপক্ষ নিরাপত্তার কারণ দেখিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় রুটে ট্রেন চলাচল বন্ধ রেখেছে।

অবরোধ নিয়ে বিজয় গ্রুপের নেতা শাখা ছাত্রলীগের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক মোহাম্মদ ইলিয়াস বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন রেজাউল হককে গ্রেফতার ও তাকে বহিষ্কার না করলে অবরোধ চলবে।

বিশ্ববিদ্যালয় সূত্র বলছে, কেন্দ্রীয় ক্রীড়া প্রতিযোগিতার কারণে ক্লাস-পরীক্ষা কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে। তবে দাফতরিক কাজ চলছে। এছাড়া অবরোধের মধ্যেও স্বাভাবিক ছিল বিশ্ববিদ্যালয়ের বাস চলাচল। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক মনিরুল হাসান বলেন, আমাদের ক্রীড়া প্রতিযোগিতা চলছে। বাস চলাচল স্বাভাবিক। তবে নিরাপত্তার কারণে ট্রেন চলাচল বন্ধ রেখেছে রেল কর্তৃপক্ষ।

ঝাড়ু মিছিল : রেজাউল হকের পদত্যাগের দাবিতে ঝাড়ু মিছিল করেছে ছাত্রলীগের বিজয় গ্রুপের নেতাকর্মীরা। পদত্যাগ না করা পর্যন্ত অনির্দিষ্টকালের জন্য অবরোধ কর্মসূচি চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন আন্দোলনকারীরা। তবে পদত্যাগের কথা উড়িয়ে দিয়ে শাখা ছাত্রলীগ সভাপতি রেজাউল হক বলেছেন, যারা আমার পদত্যাগ দাবি করছে তাদের তো গত ৬ মাসে ছাত্রলীগের কোনো কর্মসূচিতে দেখলাম না। তাহলে হঠাৎ করে ক্যাম্পাসে অস্থিতিশীল পরিবেশ সৃষ্টির জন্য যারা এসেছে এরা কারা। এদের পরিচয় বের করা দরকার।

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক মনিরুল হাসান বলেছেন, ‘আমরা ক্যাম্পাসের পরিবেশ শান্ত রাখার চেষ্টা করছি। নিরাপত্তা ব্যবস্থাও জোরদার করা হয়েছে। বড় ধরনের কোনো আপত্তিকর ঘটনা যাতে না ঘটে সেজন্য সবার সঙ্গে কথা বলার চেষ্টা করছি।’ তিনি বলেন, ‘আমরা আবাসিক হলগুলোতে একটাও অছাত্র রাখব না। আমরা বিশ্ববিদ্যালয়ে কোনো বিশৃঙ্খল পরিবেশ চাই না। ছাত্রদের স্বার্থে আমরা অচিরেই কঠোর অবস্থানে যাব। কোনো অছাত্র, বহিরাগতকে আবাসিক হলে অবস্থান করতে দেয়া হবে না।’ বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি প্রফেসর ড. শিরিন আখতার চৌধুরী বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষা ও গবেষণার সুষ্ঠু পরিবেশ বিঘ্ন করলে অবশ্যই শাস্তি পেতে হবে। ক্লাস-পরীক্ষা যেন ঠিকভাবে চলে সেজন্য প্রশাসন কাজ করছে।’

ছাত্রলীগের দুই গ্রুপের সংঘর্ষ

চবিতে গভীর রাতে হলে হলে তল্লাশি আটক ২০

শাটল ট্রেন চলাচল বন্ধ
 চবি প্রতিনিধি 
২৪ জানুয়ারি ২০২০, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রলীগের বিবদমান দুই গ্রুপের সংঘর্ষের জেরে বুধবার গভীর রাতে হলে হলে অভিযান চালিয়ে ২০ জন ছাত্রকে আটক করা হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের শাহ আমানত ও সোহরাওয়ার্দী হল থেকে আটক ২০ শিক্ষার্থীর মধ্যে সিফসি গ্রুপের ১২ জন ও বিজয় গ্রুপের ৮ জন রয়েছে। বিকালে দু’পক্ষের সংঘাতের পর রাত সাড়ে ১১টা থেকে পৌনে ১টা পর্যন্ত তল্লাশি চালানো হয়। আটক সবাই শিক্ষা উপমন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরীর অনুসারী বলে পরিচিত।

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক এসএম মনিরুল হাসান শিক্ষার সুষ্ঠু পরিবেশে বিঘ্ন ঘটানোয় দুই গ্রুপে সন্দেহভাজন ২০ জনকে আটক করা হয়েছে। তিনি বলেন, যাচাই-বাছাই শেষে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে। যারা বিশ্ববিদ্যালয়ে বিভিন্ন অপরাধে জড়িত তাদের অনেক ছাড় দেয়া হয়েছে। এখন শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেয়া হবে। পুলিশের হাটহাজারী থানার ওসি মাসুদ আলম বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের দুটি হলে অভিযান চালিয়ে ২০ জনকে আটক করা হয়েছে। যাচাই-বাছাই শেষে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেয়া হবে।

শাটল ট্রেন অবরোধ : বিজয় ও সিএফসি গ্রুপের সংঘাতের পর ডাকা লাগাতার অবরোধে বৃহস্পতিবারও শাটল ট্রেন চলাচল বন্ধ ছিল। তিন কর্মীকে মারধর ও কুপিয়ে জখমের প্রতিবাদে এবং শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি রেজাউল হকের বহিষ্কার ও গ্রেফতারের দাবিতে বিজয় গ্রুপ লাগাতার অবরোধের ডাক দেয়। অবরোধ কর্মসূচির অংশ হিসেবে দুপুরে ঝাড়ু মিছিল করে তারা। ষোলশহর রেলস্টেশনের সহকারী স্টেশন মাস্টার তন্ময় চৌধুরী বলেছেন, রেল কর্তৃপক্ষ নিরাপত্তার কারণ দেখিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় রুটে ট্রেন চলাচল বন্ধ রেখেছে।

অবরোধ নিয়ে বিজয় গ্রুপের নেতা শাখা ছাত্রলীগের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক মোহাম্মদ ইলিয়াস বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন রেজাউল হককে গ্রেফতার ও তাকে বহিষ্কার না করলে অবরোধ চলবে।

বিশ্ববিদ্যালয় সূত্র বলছে, কেন্দ্রীয় ক্রীড়া প্রতিযোগিতার কারণে ক্লাস-পরীক্ষা কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে। তবে দাফতরিক কাজ চলছে। এছাড়া অবরোধের মধ্যেও স্বাভাবিক ছিল বিশ্ববিদ্যালয়ের বাস চলাচল। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক মনিরুল হাসান বলেন, আমাদের ক্রীড়া প্রতিযোগিতা চলছে। বাস চলাচল স্বাভাবিক। তবে নিরাপত্তার কারণে ট্রেন চলাচল বন্ধ রেখেছে রেল কর্তৃপক্ষ।

ঝাড়ু মিছিল : রেজাউল হকের পদত্যাগের দাবিতে ঝাড়ু মিছিল করেছে ছাত্রলীগের বিজয় গ্রুপের নেতাকর্মীরা। পদত্যাগ না করা পর্যন্ত অনির্দিষ্টকালের জন্য অবরোধ কর্মসূচি চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন আন্দোলনকারীরা। তবে পদত্যাগের কথা উড়িয়ে দিয়ে শাখা ছাত্রলীগ সভাপতি রেজাউল হক বলেছেন, যারা আমার পদত্যাগ দাবি করছে তাদের তো গত ৬ মাসে ছাত্রলীগের কোনো কর্মসূচিতে দেখলাম না। তাহলে হঠাৎ করে ক্যাম্পাসে অস্থিতিশীল পরিবেশ সৃষ্টির জন্য যারা এসেছে এরা কারা। এদের পরিচয় বের করা দরকার।

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক মনিরুল হাসান বলেছেন, ‘আমরা ক্যাম্পাসের পরিবেশ শান্ত রাখার চেষ্টা করছি। নিরাপত্তা ব্যবস্থাও জোরদার করা হয়েছে। বড় ধরনের কোনো আপত্তিকর ঘটনা যাতে না ঘটে সেজন্য সবার সঙ্গে কথা বলার চেষ্টা করছি।’ তিনি বলেন, ‘আমরা আবাসিক হলগুলোতে একটাও অছাত্র রাখব না। আমরা বিশ্ববিদ্যালয়ে কোনো বিশৃঙ্খল পরিবেশ চাই না। ছাত্রদের স্বার্থে আমরা অচিরেই কঠোর অবস্থানে যাব। কোনো অছাত্র, বহিরাগতকে আবাসিক হলে অবস্থান করতে দেয়া হবে না।’ বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি প্রফেসর ড. শিরিন আখতার চৌধুরী বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষা ও গবেষণার সুষ্ঠু পরিবেশ বিঘ্ন করলে অবশ্যই শাস্তি পেতে হবে। ক্লাস-পরীক্ষা যেন ঠিকভাবে চলে সেজন্য প্রশাসন কাজ করছে।’