নেপালের সর্বোচ্চ পাহাড়টি দেখা হল না তাদের

  শ্রীপুর (গাজীপর) প্রতিনিধি ১৪ মার্চ ২০১৮, ১৭:৪০ | প্রিন্ট সংস্করণ

নেপালের সর্বোচ্চ পাহাড়টি দেখা হল না তাদের

মাসখানেক আগে ফারুক হোসেন প্রিয়ক ভারত ভ্রমণ করে এসেছেন। এবার সপরিবারে গিয়েছিলেন নেপালের সর্বোচ্চ পাহাড় দেখতে। নেপাল যাওয়ার এক দিন আগে রোববার তারা আমাদের বাড়িতে এসে দেখা করে দোয়া চেয়ে বিদায় নিয়েছিলেন। নেপালে বিমান দুর্ঘটনায় নিহত এফএইচ ফারুকের শ্বশুর সালাহ উদ্দিন এসব তথ্য জানান।

তিনি বলেন, নেপালের হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আমার মেয়ে অ্যানি তার স্বামী-সন্তানের খোঁজ করছে। এখনও তাকে তার স্বামী-সন্তানের মৃত্যুর খবর জানানো হয়নি। ফারুকের সঙ্গে তার একমাত্র সন্তান তিন বছরের প্রিয়ংময়ী তামাররাও মারা গেছে।

সালাউদ্দিন জানান, ২০১১ সালে ফারুক তার বড় মেয়ে আলমুন নাহার অ্যানিকে বিয়ে করে। তার একমাত্র ছেলে মেহেরাব হোসেন অপি (১৭) গত বছর অসুস্থ অবস্থায় মারা যায়। ছোট মেয়ে বাড়ির পাশে কাজীর শিমলা নজরুল উচ্চবিদ্যালয়ে নবম শ্রেণীতে পড়ছে। স্বামী ও সন্তান হারিয়ে একা হয়ে গেল বড় মেয়ে অ্যানি।

ফারুক গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলার গাজীপুর ইউনিয়নের নগর হাওলা গ্রামের মৃত শরাফত আলীর ছেলে। শ্রীপুর উপজেলার জৈনাবাজার এলাকার ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কে গুলশান স্পিনিং মিল সংলগ্ন ফারুকের দৃষ্টিনন্দন ডুপ্লেক্স বাড়ি। ফারুকের বাবা শরাফত আলী মারা গেছেন ৫ বছর হল।

শরাফত-ফিরোজা পরিবারের একমাত্র সন্তান ফারুক হোসেন। বাবা মারা যাওয়ার পর মা ফিরোজা, তার স্ত্রী আলমুন নাহার এ্যানি, তাদের একমাত্র সন্তান প্রিয়ংময়ী তামাররা নিয়েই তাদের সাজানো একটি সংসার। একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইংরেজি বিষয়ে স্নাতক ডিগ্রি অর্জনের পর নেশা হিসেবে ফটোগ্রাফিতে নজর দেন। তার প্রিয় শখ ছিল ছবি তোলা।

ছবি তুলে Bengal Image National Photo Contest 2016 পদক জিতে নিয়েছিলেন। তার ইচ্ছা ছিল আন্তর্জাতিকমানের একজন ফটোগ্রাফার হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করা।

শ্রীপুরে ফারুকের বাড়িতে স্বজনদের ভিড় : ফারুক হোসেন প্রিয়ক ও মেহেদী হাসান দম্পতির পাঁচ সদস্য। তিনজনের বেঁচে থাকার কথা নিশ্চিত হলেও নিহত ছেলে ফারুক হোসেন ও তিন বছর বয়সী নাতনির মৃত্যুর কথা মনে হলেই পরিবারের একমাত্র বেঁচে থাকা সদস্য ফারুকের মা ফিরোজা বেগম বারবার মূর্ছা যাচ্ছেন।

ফারুক ও তার মেয়ের মৃত্যুর খবর শুনে স্বজন ও প্রতিবেশীরা ভিড় করছেন তার বাড়িতে। নিহত ও আহতদের খোঁজ নিতে স্বজনরা মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ৮টায় নেপালের উদ্দেশে রওনা হয়েছেন বলে জানান পরিবারের সদস্যরা। স্বজনদের মধ্যে মেহেদী হাসানের শাশুড়ি সালমা বেগম, ফারুক হোসেনের বন্ধু সোহানুর রহমান সোহাগ ও মাহবুবুর রহমান রয়েছেন।

নিহত ফারুক হোসেনের মামা মশিউর রহমান নয়েস জানান, সোমবার দুপুরে বিমান বিধ্বস্তের খবরে ফারুকের মা অচেতন হয়ে গেছেন। কখনও জ্ঞান ফিরছে, আবার কখনও মূর্ছা যাচ্ছেন। সন্ধ্যার পর তিন সদস্যের বেঁচে থাকার খবর জানার পরও নিহত দু’জনের কথা মনে এলেই মূর্ছা যাচ্ছেন তিনি।

 

 

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৮

converter