প্রচারবিহীন দিনে মেয়র প্রার্থীরা

নির্ভয়ে কেন্দ্রে আসুন : তাবিথ, পাহারা দেব : ইশরাক

  যুগান্তর রিপোর্ট ০১ ফেব্রুয়ারি ২০২০, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

টানা ২১ দিন পর ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটিতে প্রচারবিহীন দিন ছিল শুক্রবার। তবে দুই সিটির নির্বাচনের আগের দিন বসে ছিলেন না প্রার্থীরা। এদিন বিএনপির দুই মেয়র প্রার্থী তাবিথ আউয়াল ও ইঞ্জিনিয়ার ইশরাক হোসেন দলীয় নেতাকর্মী ও কাউন্সিলর প্রার্থীদের সঙ্গে ব্যস্ত সময় পার করেছেন। নিজ নিজ নির্বাচনী কার্যালয়ে দফায় দফায় বৈঠক করে সর্বশেষ প্রস্তুতি নিয়ে নানা দিকনির্দেশনা দেন উত্তর ও দক্ষিণের এই দুই মেয়র প্রার্থী।

দুপুরে গুলশানের বে টাওয়ারে যুক্তরাষ্ট্রের দূতাবাসের পলিটিক্যাল কাউন্সিলরের ব্রেন্ট ক্রিসটেনসনের সঙ্গে সাক্ষাৎ শেষে ইশরাক হোসেন সাংবাদিকদের বলেন, ভোটাররা নির্ভয়ে ভোটকেন্দ্রে যাবেন। কেন্দ্র দখল নয়- ভোটাররা যাতে নির্বিঘ্নে ভোট দিতে পারেন, সেজন্য আমরা ভোট কেন্দ্র পাহারা দেব। আর গুলশান আজাদ মসজিদে জুমার নামাজ শেষে তাবিথ আউয়াল সব ধরনের বাধা-বিপত্তি, ভয়ভীতি উপেক্ষা করে ভোট কেন্দ্রে গিয়ে ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে নগরবাসীর প্রতি আহ্বান জানান।

সকালে কারওয়ান বাজারের নিজের নির্বাচনী কার্যালয়ে যান তাবিথ আউয়াল। এ সময় তিনি দলীয় নেতাকর্মীদের সঙ্গে কথা বলেন। নির্বাচনের সর্বশেষ প্রস্তুতি নিয়ে আলোচনা করেন। প্রতিটি ওয়ার্ডের খোঁজখবর নেন। ভোটকেন্দ্রগুলোতে দলের দায়িত্বপ্রাপ্তদের প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দেন। এছাড়া তিনি নির্বাচন সংক্রান্ত দাফতরিক কাজ করেন। পরে তিনি অনানুষ্ঠানিকভাবে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন। এ সময় তিনি জানান, নির্বাচনের সব ধরনের প্রস্তুতি আমরা সম্পন্ন করেছি। এখন ভোটের দিন (শনিবার) সকাল থেকে সব দায়িত্ব নির্বাচন কমিশনের। পরে গুলশান আজাদ মসজিদে জুমার নামাজ আদায় করেন তাবিথ আউয়াল। নামাজ শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ভোটারদের নিরাপদে ভোটকেন্দ্রে যাওয়ার নিশ্চয়তা দেয়ার দায়িত্ব নির্বাচন কমিশনের। নির্বাচন কমিশনকে এই নিশ্চয়তা দিতে হবে যাতে ভোটাররা নির্ভয়ে কেন্দ্রে গিয়ে নিজের ভোট নিজে দিতে পারেন।

তিনি বলেন, আমি ডিএনসিসির ৫৪ ওয়ার্ডের কাউন্সিলর প্রার্থী ও ১৮টি সংরক্ষিত মহিলা ওয়ার্ড কাউন্সিলর প্রার্থী ও আমাদের দলীয় নেতাকর্মীদের সঙ্গে কথা বলে জেনেছি, তারা সবাই প্রস্তুত রয়েছেন। ভোটাররাও প্রস্তুত ভোট দেয়ার জন্য। এখন সুষ্ঠু ভোটগ্রহণের সব দায়িত্ব নির্বাচন কমিশনের। বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী আহমেদের ওপর হামলার ঘটনায় নিন্দা জানিয়ে তাবিথ আউয়াল বলেন, তিনি আমার পক্ষে প্রচারে মাঠে নেমেছিলেন। তার ওপর এ ধরনের ন্যক্কারজনক হামলার তীব্র নিন্দা জানাই। তিনি বলেন, হামলা হলেও তার মনোবল ভালো আছে। যারা ভোটারদের ভয়ভীতি দেখানোর চেষ্টা করছে তারাই মূলত ভয় পাচ্ছে।

বিকাল ৩টায় গুলশান কার্যালয়ে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলামের সঙ্গে বৈঠক করে তাবিথ আউয়াল। এ সময় মহাসচিবের কাছে নির্বাচনী প্রস্তুতির সর্বশেষ পরিস্থিতি তুলে ধরেন তাবিথ।

এদিকে সকাল থেকে নিজ বাসভবন গোপীবাগে দলীয় নেতাকর্মী ও কাউন্সিলর প্রার্থীদের সঙ্গে দফায় দফায় বৈঠক করেন দক্ষিণে বিএনপির মেয়র প্রার্থী ইশরাক হোসেন। এ সময় ভোটের দিন দলীয় পোলিং এজেন্ডসহ নেতাকর্মীদের করণীয় সম্পর্কে নানা দিকনির্দেশনা দেন তিনি।

দুপুর বারোটায় গুলশানে যুক্তরাষ্ট্রের দূতাবাসের পলিটিক্যাল কাউন্সিলরের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন ইশরাক হোসেন। পরে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, এটা পূর্বনির্ধারিত সৌজন্য সাক্ষাৎ। আমার প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর সঙ্গেও এ রকম সাক্ষাৎ করেছেন উনি। আমি আমার বক্তব্য জানিয়েছি, আমার প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী তার বক্তব্য জানিয়েছেন। ইশরাক বলেন, উনি আমার কাছে জানতে চেয়েছেন, নির্বাচনের সার্বিক পরিস্থিতি কেমন এবং আগামীকাল (আজ) কি কি শঙ্কা আমাদের রয়েছে। আমি ইভিএমের বিষয়টা বলেছি। এছাড়া ঢাকার বাইরে থেকে বিভিন্ন জেলায় কমিটি করে সরকারদলীয় সন্ত্রাসীদের ঢাকায় জড়ো করা হচ্ছে, কেন্দ্র দখলের একটা পাঁয়তারা করা হচ্ছে- এই বিষয়গুলো নিয়ে তাদের সঙ্গে আমরা কথা বলেছি।

বৈঠকে কয়েকদিন আগে গোপীবাগের নির্বাচনী প্রচারণার মিছিলের ওপর স্থানীয় আওয়ামী লীগের কর্মীদের হামলার বিষয়টিও যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধির সঙ্গে অনুষ্ঠিত এই বৈঠকে আলোচনা হয়েছে বলে জানান ইশরাক। তিনি বলেন, ভোটের দিন দক্ষিণ ও উত্তরে বিভিন্ন কেন্দ্রে তাদের পর্যবেক্ষক টিম যাবেন।

এক প্রশ্নের জবাবে বিএনপির এই প্রার্থী বলেন, ২০১৫ সালে কেন্দ্র দখল করে সিলমারা হয়েছিল। জনগণের মনে প্রশ্ন, এবার তারা কীভাবে চুরি করবে। যেখানেই যাচ্ছি, এটা নিয়ে আলোচনা হচ্ছে। কারণ এবার তো ইভিএম। ইভিএমে তো সিলমারা যায় না। বলা হচ্ছে, সকাল আটটার আগে মেশিন ওপেন হবে না। কিছু খবর আমরা পাচ্ছি, আটটার আগেও মেশিন চালু রাখা সম্ভব। এটা রাত পোহালে কালকেই (আজ) আমরা দেখতে পাব।

ভোটে কোনো শঙ্কা আছে কিনা জানতে চাইলে ইশরাক বলেন, পূর্ব অভিজ্ঞতা থেকে বলতে পারি, কি কি ধরনের সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড সরকারি দলের প্রার্থীদের পক্ষ থেকে চালানো হতে পারে। আমি দেখেছি যে, বেশির ভাগ জরিপগুলোতে ধানের শীষ ৮০ পার্সেন্টে এগিয়ে আছে। এগুলো দেখে হয়তো তারা (সরকারি দল) জোর-জবরদস্তি করে কেন্দ্র দখল করার চেষ্টা করবে। আমাদের যে একটা গণজোয়ার সৃষ্টি হয়েছে তা ওরা রুখতে চাচ্ছে। ইতিমধ্যে আওয়ামী লীগের একজন সিনিয়র নেতা ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের বলেছেন কেন্দ্র দখল করার জন্য। এটা কেমন কথা? এসব উসকানিমূলক কথা। এর আগেও আমার ওপর হামলা চালানো হলো বিনা উসকানিতে।

তিনি বলেন, এবার কিন্তু দখলদারিত্ব মেনে নেয়া হবে না, ভোটাররা মেনে নেবে না। আমরা কেন্দ্র পাহারা দেব, দখলমুক্ত করে ভোটারদের ভোট দেয়ার জন্য পরিবেশ তৈরি করব। ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্র প্রসঙ্গে ইশরাক বলেন, আমরা প্রায় ৪০০ কেন্দ্রের মতো ঝুঁকিপূর্ণ মনে করছি। কিন্তু এর সংখ্যা আরও বাড়তে পারে। সাংবাদিকদের সঠিক সংবাদ পরিবেশনের অনুরোধ জানিয়ে তিনি বলেন, গণমাধ্যম আমাদের শেষ আস্থাস্থল। বাংলাদেশের আর কোনো প্রতিষ্ঠানের ওপর আমাদের আস্থা নেই। আপনারা সঠিক তথ্যটা জনগণের সামনে তুলে ধরবেন- এটাই আমার অনুরোধ।

ভোটারদের কেন্দ্রে গিয়ে ভোট প্রদানের আহবান জানিয়ে ইশরাক বলেন, সবাই নির্ভয়ে ভোটকেন্দ্রে গিয়ে ভোট দেবেন। কোনো ভয়-ভীতিকে গ্রাহ্য করবেন না। আপনাদের সহায়তা করার জন্য প্রত্যেকটি কেন্দ্রে আমাদের কর্মী থাকবে। এছাড়া আমি আমার গোপীবাগের প্রধান নির্বাচনী কার্যালয়ে একটি কন্ট্রোল রুম স্থাপন করেছি। নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণা পর্যন্ত এই কন্ট্রোল রুম খোলা থাকবে। সবাইকে অনুরোধ করব, যে কোনো প্রয়োজনে এই কন্ট্রোল রুমে যোগাযোগ করবেন।

পরে গোপীবাগ জামে মসজিদে জুমার নামাজ শেষে জুরাইন কবরস্থানে শায়িত বাবা সাদেক হোসেন খোকার কবর জিয়ারত করেন ইশরাক হোসেন। বিকাল থেকে রাত পর্যন্ত দলীয় নেতাকর্মীদের সঙ্গে গোপীবাগের নির্বাচনী কার্যালয়ে দফায় দফায় বৈঠক করেন তিনি।

'কোভিড-১৯' সর্বশেষ আপডেট

# আক্রান্ত সুস্থ মৃত
বাংলাদেশ ৪৮ ১৫
বিশ্ব ৭,১০,৯৮৭১,৫০,৭৮৮৩৩,৫৫৭
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

 
×