লটারি পেয়েও ধান দিতে পারছেন না ৭৭৭ কৃষক
jugantor
গোদাগাড়ীতে রাতের আঁধারে নতুন তালিকা
লটারি পেয়েও ধান দিতে পারছেন না ৭৭৭ কৃষক

  রাজশাহী ব্যুরো  

০৩ ফেব্রুয়ারি ২০২০, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

ধান সংগ্রহের আগে লটারিতে দুই হাজার ৫৯৮ কৃষকের নাম উঠেছিল। এর মধ্যে বেশিরভাগ কৃষক ধান সরবরাহ করেছিলেন। কিন্তু সময় থাকলেও ৭৭৭ কৃষকের কাছ থেকে আর ধান নেয়া হচ্ছে না। অভিযোগ, রাতের আঁধারে নতুন করে আবার তালিকা তৈরি করা হয়েছে। রাজশাহীর গোদাগাড়ী উপজেলায় এমন ঘটনা ঘটেছে।

গোদাগাড়ীতে ১ ডিসেম্বর থেকে ২৬ টাকা কেজি দরে কৃষকদের কাছ থেকে ধান কেনা হচ্ছে। প্রত্যেক কৃষকের কাছ থেকে এক মেট্রিক টন করে মোট দুই হাজার ৫৯৮ টন ধান কেনা হবে। আগামী ২৮ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত খাদ্যগুদামে ধান সংগ্রহ কার্যক্রম চলবে। তবে এরই মধ্যে প্রায় ১৫ দিন ধান কেনা বন্ধ ছিল। এরপর ধান কেনা শুরু হয়। চারদিন ধান কিনে বৃহস্পতিবার থেকে আবার বন্ধ করে দেয়া হয়। এ দিন রাতে নতুন তালিকা করা হয়েছে।

এ কারণে পুরনো তালিকার ৭৭৭ জন কৃষকের কাছ থেকে ধান নেয়া হচ্ছে না। অথচ ধান সংগ্রহ অভিযানের আগে ১০ হাজার কৃষকের উপস্থিতিতে উপজেলা পরিষদ চত্বরে প্রকাশ্যে লটারি করা হয়েছিল। সেখানে তাদের নাম উঠেছিল। এ অনুষ্ঠানে স্থানীয় সংসদ সদস্য ওমর ফারুক চৌধুরীও উপস্থিত ছিলেন। লটারিতে নাম আসায় ন্যায্যমূল্যে ধান বিক্রি করার আশায় বুক বেঁধেছিলেন কৃষকরা। এখন তারা হতাশায় ভুগছেন।

বৃহস্পতিবার উপজেলা খাদ্যগুদামে ধান দিতে গিয়ে ফিরে আসেন সদোল গ্রামের কৃষক তসিকুল ইসলাম। তার কার্ড নম্বর-১০৩১। আর লটারি নম্বর-৯৮৬। তসিকুল জানান, লটারিতে নাম থাকায় বৃহস্পতিবার তিনি এক টন ধান নিয়ে খাদ্যগুদামে যান। কিন্তু ধান না নেয়ায় তিনি ফিরে এসেছেন। এক হাজার টাকা গাড়ি ভাড়াও তার লেগেছে। তিনি জানান, বৃহস্পতিবার তার মতো অন্তত ৫০ জন কৃষক ধান নিয়ে বিপাকে পড়েছেন। পুরনো তালিকা অনুযায়ী আর ধান নেয়া হবে না বলে তাদের জানানো হয়েছে। এজন্য নতুন তালিকা করা হবে।

অভিযোগ, উপজেলার বিভিন্ন স্থানের সার ডিলারদের মাধ্যমে কার্ডপ্রতি দুই থেকে তিন হাজার টাকার বিনিময়ে ৭৭৭ জনের নতুন তালিকা তৈরি করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার রাতে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তার কার্যালয়ে উপজেলা সংগ্রহ কমিটি এ তালিকা চূড়ান্ত করে। কমিটির সভাপতি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) নাজমুল ইসলাম সরকার। এ কমিটি রাত ৯টা পর্যন্ত কাজ করে তালিকা করে। বাদপড়া কৃষকরা জানান, কী কারণে তাদের নাম বাদ দেয়া হয়েছে সেটাও জানানো হয়নি। কৃষকদের অভিযোগ, অনিয়ম করে নতুন ৭৭৭ জনের তালিকা করা হয়েছে।

এ বিষয়ে কথা বলতে শুক্রবার গোদাগাড়ীর ইউএনও এবং উপজেলা ধান সংগ্রহ কমিটির সভাপতি নাজমুল ইসলাম সরকারকে কয়েক দফা ফোন করা হলেও তিনি ধরেননি। কমিটির সদস্য ও উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শফিকুল ইসলামও কোনো মন্তব্য করতে চাননি। তিনি বলেন, সংগ্রহ কমিটির সভাপতি এ বিষয়ে কথা বলতে পারবেন। আমি কমিটির একজন সদস্য মাত্র।

গোদাগাড়ীতে রাতের আঁধারে নতুন তালিকা

লটারি পেয়েও ধান দিতে পারছেন না ৭৭৭ কৃষক

 রাজশাহী ব্যুরো 
০৩ ফেব্রুয়ারি ২০২০, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

ধান সংগ্রহের আগে লটারিতে দুই হাজার ৫৯৮ কৃষকের নাম উঠেছিল। এর মধ্যে বেশিরভাগ কৃষক ধান সরবরাহ করেছিলেন। কিন্তু সময় থাকলেও ৭৭৭ কৃষকের কাছ থেকে আর ধান নেয়া হচ্ছে না। অভিযোগ, রাতের আঁধারে নতুন করে আবার তালিকা তৈরি করা হয়েছে। রাজশাহীর গোদাগাড়ী উপজেলায় এমন ঘটনা ঘটেছে।

গোদাগাড়ীতে ১ ডিসেম্বর থেকে ২৬ টাকা কেজি দরে কৃষকদের কাছ থেকে ধান কেনা হচ্ছে। প্রত্যেক কৃষকের কাছ থেকে এক মেট্রিক টন করে মোট দুই হাজার ৫৯৮ টন ধান কেনা হবে। আগামী ২৮ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত খাদ্যগুদামে ধান সংগ্রহ কার্যক্রম চলবে। তবে এরই মধ্যে প্রায় ১৫ দিন ধান কেনা বন্ধ ছিল। এরপর ধান কেনা শুরু হয়। চারদিন ধান কিনে বৃহস্পতিবার থেকে আবার বন্ধ করে দেয়া হয়। এ দিন রাতে নতুন তালিকা করা হয়েছে।

এ কারণে পুরনো তালিকার ৭৭৭ জন কৃষকের কাছ থেকে ধান নেয়া হচ্ছে না। অথচ ধান সংগ্রহ অভিযানের আগে ১০ হাজার কৃষকের উপস্থিতিতে উপজেলা পরিষদ চত্বরে প্রকাশ্যে লটারি করা হয়েছিল। সেখানে তাদের নাম উঠেছিল। এ অনুষ্ঠানে স্থানীয় সংসদ সদস্য ওমর ফারুক চৌধুরীও উপস্থিত ছিলেন। লটারিতে নাম আসায় ন্যায্যমূল্যে ধান বিক্রি করার আশায় বুক বেঁধেছিলেন কৃষকরা। এখন তারা হতাশায় ভুগছেন।

বৃহস্পতিবার উপজেলা খাদ্যগুদামে ধান দিতে গিয়ে ফিরে আসেন সদোল গ্রামের কৃষক তসিকুল ইসলাম। তার কার্ড নম্বর-১০৩১। আর লটারি নম্বর-৯৮৬। তসিকুল জানান, লটারিতে নাম থাকায় বৃহস্পতিবার তিনি এক টন ধান নিয়ে খাদ্যগুদামে যান। কিন্তু ধান না নেয়ায় তিনি ফিরে এসেছেন। এক হাজার টাকা গাড়ি ভাড়াও তার লেগেছে। তিনি জানান, বৃহস্পতিবার তার মতো অন্তত ৫০ জন কৃষক ধান নিয়ে বিপাকে পড়েছেন। পুরনো তালিকা অনুযায়ী আর ধান নেয়া হবে না বলে তাদের জানানো হয়েছে। এজন্য নতুন তালিকা করা হবে।

অভিযোগ, উপজেলার বিভিন্ন স্থানের সার ডিলারদের মাধ্যমে কার্ডপ্রতি দুই থেকে তিন হাজার টাকার বিনিময়ে ৭৭৭ জনের নতুন তালিকা তৈরি করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার রাতে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তার কার্যালয়ে উপজেলা সংগ্রহ কমিটি এ তালিকা চূড়ান্ত করে। কমিটির সভাপতি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) নাজমুল ইসলাম সরকার। এ কমিটি রাত ৯টা পর্যন্ত কাজ করে তালিকা করে। বাদপড়া কৃষকরা জানান, কী কারণে তাদের নাম বাদ দেয়া হয়েছে সেটাও জানানো হয়নি। কৃষকদের অভিযোগ, অনিয়ম করে নতুন ৭৭৭ জনের তালিকা করা হয়েছে।

এ বিষয়ে কথা বলতে শুক্রবার গোদাগাড়ীর ইউএনও এবং উপজেলা ধান সংগ্রহ কমিটির সভাপতি নাজমুল ইসলাম সরকারকে কয়েক দফা ফোন করা হলেও তিনি ধরেননি। কমিটির সদস্য ও উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শফিকুল ইসলামও কোনো মন্তব্য করতে চাননি। তিনি বলেন, সংগ্রহ কমিটির সভাপতি এ বিষয়ে কথা বলতে পারবেন। আমি কমিটির একজন সদস্য মাত্র।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন