খননের নামে সরকারের কোটি কোটি টাকা গচ্চা
jugantor
বুড়িগঙ্গা পুনরুদ্ধার প্রকল্প
খননের নামে সরকারের কোটি কোটি টাকা গচ্চা

  জাফর আহমেদ, টাঙ্গাইল  

০৩ ফেব্রুয়ারি ২০২০, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

বুড়িগঙ্গা পুনরুদ্ধার প্রকল্পের নামে কোটি কোটি টাকা গচ্চা যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে। খনন কাজের জন্য তিন বছর আগে ৯০ কোটি টাকা পরিশোধ করা হলেও খননের কোনো চিহ্ন নেই। চলতি বছরে কালিহাতী অংশে নতুন করে ৫৪ কোটি ২৪ লাখ টাকার প্রকল্পের কাজ শুরু হয়েছে। এশিয়ান ড্রেজার লিমিটেড একটি মাত্র সাকশন ড্রেজার ব্যবহার করছে। আবার নিয়ম লঙ্ঘন করে সাব-কন্ট্রাক্ট দিয়ে ড্রেজিং করানো হচ্ছে। পাশাপাশি শতাধিক নিষিদ্ধ বাংলা ড্রেজার দিয়ে খনন করা হচ্ছে।

বুড়িগঙ্গা পুনরুদ্ধার (নিউ ধলেশ্বরী-পুংলী-বংশাই-তুরাগ-বুড়িগঙ্গা রিভার সিস্টেম প্রজেক্ট) প্রকল্পের কাজ খুব সামান্য হয়েছে। কালিহাতীতে ১৪ দশমিক পাঁচ কিলোমিটারের নদী খননের কাজ পেলেও পানি উন্নয়ন বোর্ডের কিছু কর্মকর্তার যোগসাজশে এশিয়ান ড্রেজার সাব-কন্ট্রাক্টর নিয়োগ দিয়ে কাজ করাচ্ছে। সাব-কন্ট্রাক্টররা শতাধিক বাংলা ড্রেজার বসিয়ে বালু ও মাটি উত্তোলন করে বিক্রি করছে। এ কারণে স্থানীয়দের মধ্যে চরম ক্ষোভ দেখা দিয়েছে।

টাঙ্গাইল পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্র জানায়, নদী খনন করে পানিপ্রবাহ বৃদ্ধির মাধ্যমে বুড়িগঙ্গাকে দূষণমুক্ত করা, বুড়িগঙ্গা-তুরাগ রুট সারা বছর নৌ-চলাচলের উপযোগী করাসহ সেচ ও মৎস্য উন্নয়নের জন্য প্রকল্পটি নেয়া হয়। এ প্রকল্পের মাত্র ২৯ দশমিক সাত শতাংশ বাস্তবায়ন করা হয়েছে। ২০১০ সালে প্রকল্পটি নেয়ার পর তিন দফা মেয়াদ বাড়িয়ে ২০২০ সাল পর্যন্ত করা হয়। প্রকল্পের মেয়াদ আরেক বছর বাড়ানো হতে পারে। ৯৪৪ কোটি ৯ লাখ টাকার প্রকল্পটি ২০১০ সালের এপ্রিলে নেয়া হয়। ২০১৩ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে প্রকল্পটি বাস্তবায়নের লক্ষ্য ছিল। প্রথম দু’দফায় ব্যয় না বাড়িয়ে মেয়াদ বাড়ানো হয়। এতেও কাজ না হওয়ায় সর্বশেষ উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাব (ডিপিপি) সংশোধনের সময় ২০২০ সালের জুন পর্যন্ত মেয়াদ বাড়ানো হয়। এখন সংশ্লিষ্টরা ২০২১ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত মেয়াদ বাড়ানোর কথা বলছেন। নতুন করে প্রকল্পের ব্যয় এক হাজার ১২৫ কোটি ৫৯ লাখ টাকা ধরা হয়েছে।

কালিহাতী উপজেলার বেলুটিয়া গ্রামে ড্রেজিং চালক মো. আরিফুল ইসলাম জানান, স্থানীয়দের বাধার কারণে তারা আড়াই বছর খনন কাজ শুরু করতে পারেননি। তাই বাধ্য হয়ে তারা খনন কাজ বন্ধ রেখেছেন। স্থানীয় বাসিন্দা আবদুস সাত্তার খান জানান, বেলুটিয়া এলাকায় পানি প্রবাহের মূল উৎস মুখ খনন করা হয়। কিন্তু বর্ষা মৌসুমে স্থানটি ভরাট হয়ে যাওয়ায় সেখান থেকে আবার খনন শুরু করা হয়। এতে এলাকাবাসী ক্ষিপ্ত হয়ে তা বন্ধ করে দেয়। তাদের দাবি- জমি অধিগ্রহণের টাকা না পাওয়া পর্যন্ত এ এলাকায় নদী খনন করতে দেয়া হবে না। মোজাম মণ্ডল জানান, ৫২ হাজার টাকা মূল্যে তার জমি অধিগ্রহণ করা হয়েছে। কিন্তু এখন পর্যন্ত তিনি কোনো টাকা পাননি। এ নিয়ে কয়েকবার কর্তৃপক্ষের কাছে গিয়েও কোনো লাভ হয়নি। একই অভিযোগ দেলোয়ার হোসেনের। তিনি জানান, ২২৩ খতিয়ানের ৬৭০ দাগের ১১৯ শতাংশ জমি ৮৫ হাজার টাকা মূল্যে অধিগ্রহণ করা হয়েছে। তিনি শুনেছেন তার অধিগ্রহণের টাকা সংশ্লিষ্ট কার্যালয়ে এসেছে। কিন্তু সেখানে গিয়ে জানতে পারেন লাখে ১০ হাজার টাকা দিলে তাকে জমি অধিগ্রহণের চেক দেয়া হবে। পরে তিনি চেক না নিয়ে ফিরে আসেন।

টাঙ্গাইল পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্র জানায়, নদী খননের কাজ টাঙ্গাইল অংশে দুটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান কাজ পেয়েছে। এর মধ্যে মির্জাপুর অংশে বংগজ ড্রেজিং লিমিটেড এবং কালিহাতী অংশে এশিয়ান ড্রেজিং লিমিটেড। তবে নীতিমালায় উল্লেখ্য আছে নদী খননের কাজে সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান নিজেরাই নদী খনন করবেন। সাব-ঠিকাদার বা নিষিদ্ধ বাংলা ড্রেজার ব্যবহার করা যাবে না।

উপজেলার জোকারচর এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, এশিয়ান ড্রেজিং লিমিটেড একটি মাত্র ড্রেজার মেশিন দিয়ে নদী খনন করছে। এ সময় ড্রেজিংয়ের কাজে নিয়োজিত একজন জানান, কালিহাতী অংশে তাদের সাব-কন্ট্রাক্ট দেয়া হয়েছে। এতে সাব-কন্ট্রাক্টররা নদী খননের নামে শতাধিক বাংলা ড্রেজার বসিয়ে বালু ও মাটি উত্তোলন করছে। জোকারচর গ্রামের শেখ মো. আবুল হাশেম জানান, এখানে খনন হচ্ছে না। কিন্তু সরকারের কোটি কোটি টাকা অপচয় হচ্ছে। তিনি বলেন, বাংলা ড্রেজার দিয়ে খনন কাজ করা হলেও সংশ্লিষ্টরা সব জেনেও না জানার ভান করেন। আমরা কিছু বললেই স্থানীয় সরকার দলীয় ক্যাডার বাহিনী দিয়ে ভয়ভীতি দেখানো হয়। এ কারণে স্থানীয় লোকজন কিছু বলতে সাহস পায় না।

কালিহাতী উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) শাহরিয়ার রহমান জানান, প্রকল্পটি পানি উন্নয়ন বোর্ডের। এ কারণে এসব কিছু তদারকির দায়িত্বও তাদের। আর বাংলা ড্রেজারের বিষয় নিয়ে আমাদের কাছে কেউ অভিযোগ করলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।

টাঙ্গাইল পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী সিরাজুল ইসলাম জানান, খনন কাজে নিয়োজিত ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান এশিয়ান ড্রেজিং লিমিটেড কোনোভাবেই সাব-কন্ট্রাক্টর দিয়ে নদী খনন করতে পারে না। এটি করা হলে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

সাব-কন্ট্রাক্টর প্রতিষ্ঠান ‘মা’ এন্টারপ্রাইজের স্বত্বাধিকারী সুজন খান জানান, খনন কাজে সাব-কন্ট্রাক্টর দিয়ে করা যাবে কি না, এ বিষয়ে তার জানা নেই। এশিয়ান ড্রেজিং লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক শামীম রেজার মোবাইল ফোনে বারবার কল করা হলেও তিনি তা ধরেননি।

বুড়িগঙ্গা পুনরুদ্ধার প্রকল্প

খননের নামে সরকারের কোটি কোটি টাকা গচ্চা

 জাফর আহমেদ, টাঙ্গাইল 
০৩ ফেব্রুয়ারি ২০২০, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

বুড়িগঙ্গা পুনরুদ্ধার প্রকল্পের নামে কোটি কোটি টাকা গচ্চা যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে। খনন কাজের জন্য তিন বছর আগে ৯০ কোটি টাকা পরিশোধ করা হলেও খননের কোনো চিহ্ন নেই। চলতি বছরে কালিহাতী অংশে নতুন করে ৫৪ কোটি ২৪ লাখ টাকার প্রকল্পের কাজ শুরু হয়েছে। এশিয়ান ড্রেজার লিমিটেড একটি মাত্র সাকশন ড্রেজার ব্যবহার করছে। আবার নিয়ম লঙ্ঘন করে সাব-কন্ট্রাক্ট দিয়ে ড্রেজিং করানো হচ্ছে। পাশাপাশি শতাধিক নিষিদ্ধ বাংলা ড্রেজার দিয়ে খনন করা হচ্ছে।

বুড়িগঙ্গা পুনরুদ্ধার (নিউ ধলেশ্বরী-পুংলী-বংশাই-তুরাগ-বুড়িগঙ্গা রিভার সিস্টেম প্রজেক্ট) প্রকল্পের কাজ খুব সামান্য হয়েছে। কালিহাতীতে ১৪ দশমিক পাঁচ কিলোমিটারের নদী খননের কাজ পেলেও পানি উন্নয়ন বোর্ডের কিছু কর্মকর্তার যোগসাজশে এশিয়ান ড্রেজার সাব-কন্ট্রাক্টর নিয়োগ দিয়ে কাজ করাচ্ছে। সাব-কন্ট্রাক্টররা শতাধিক বাংলা ড্রেজার বসিয়ে বালু ও মাটি উত্তোলন করে বিক্রি করছে। এ কারণে স্থানীয়দের মধ্যে চরম ক্ষোভ দেখা দিয়েছে।

টাঙ্গাইল পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্র জানায়, নদী খনন করে পানিপ্রবাহ বৃদ্ধির মাধ্যমে বুড়িগঙ্গাকে দূষণমুক্ত করা, বুড়িগঙ্গা-তুরাগ রুট সারা বছর নৌ-চলাচলের উপযোগী করাসহ সেচ ও মৎস্য উন্নয়নের জন্য প্রকল্পটি নেয়া হয়। এ প্রকল্পের মাত্র ২৯ দশমিক সাত শতাংশ বাস্তবায়ন করা হয়েছে। ২০১০ সালে প্রকল্পটি নেয়ার পর তিন দফা মেয়াদ বাড়িয়ে ২০২০ সাল পর্যন্ত করা হয়। প্রকল্পের মেয়াদ আরেক বছর বাড়ানো হতে পারে। ৯৪৪ কোটি ৯ লাখ টাকার প্রকল্পটি ২০১০ সালের এপ্রিলে নেয়া হয়। ২০১৩ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে প্রকল্পটি বাস্তবায়নের লক্ষ্য ছিল। প্রথম দু’দফায় ব্যয় না বাড়িয়ে মেয়াদ বাড়ানো হয়। এতেও কাজ না হওয়ায় সর্বশেষ উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাব (ডিপিপি) সংশোধনের সময় ২০২০ সালের জুন পর্যন্ত মেয়াদ বাড়ানো হয়। এখন সংশ্লিষ্টরা ২০২১ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত মেয়াদ বাড়ানোর কথা বলছেন। নতুন করে প্রকল্পের ব্যয় এক হাজার ১২৫ কোটি ৫৯ লাখ টাকা ধরা হয়েছে।

কালিহাতী উপজেলার বেলুটিয়া গ্রামে ড্রেজিং চালক মো. আরিফুল ইসলাম জানান, স্থানীয়দের বাধার কারণে তারা আড়াই বছর খনন কাজ শুরু করতে পারেননি। তাই বাধ্য হয়ে তারা খনন কাজ বন্ধ রেখেছেন। স্থানীয় বাসিন্দা আবদুস সাত্তার খান জানান, বেলুটিয়া এলাকায় পানি প্রবাহের মূল উৎস মুখ খনন করা হয়। কিন্তু বর্ষা মৌসুমে স্থানটি ভরাট হয়ে যাওয়ায় সেখান থেকে আবার খনন শুরু করা হয়। এতে এলাকাবাসী ক্ষিপ্ত হয়ে তা বন্ধ করে দেয়। তাদের দাবি- জমি অধিগ্রহণের টাকা না পাওয়া পর্যন্ত এ এলাকায় নদী খনন করতে দেয়া হবে না। মোজাম মণ্ডল জানান, ৫২ হাজার টাকা মূল্যে তার জমি অধিগ্রহণ করা হয়েছে। কিন্তু এখন পর্যন্ত তিনি কোনো টাকা পাননি। এ নিয়ে কয়েকবার কর্তৃপক্ষের কাছে গিয়েও কোনো লাভ হয়নি। একই অভিযোগ দেলোয়ার হোসেনের। তিনি জানান, ২২৩ খতিয়ানের ৬৭০ দাগের ১১৯ শতাংশ জমি ৮৫ হাজার টাকা মূল্যে অধিগ্রহণ করা হয়েছে। তিনি শুনেছেন তার অধিগ্রহণের টাকা সংশ্লিষ্ট কার্যালয়ে এসেছে। কিন্তু সেখানে গিয়ে জানতে পারেন লাখে ১০ হাজার টাকা দিলে তাকে জমি অধিগ্রহণের চেক দেয়া হবে। পরে তিনি চেক না নিয়ে ফিরে আসেন।

টাঙ্গাইল পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্র জানায়, নদী খননের কাজ টাঙ্গাইল অংশে দুটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান কাজ পেয়েছে। এর মধ্যে মির্জাপুর অংশে বংগজ ড্রেজিং লিমিটেড এবং কালিহাতী অংশে এশিয়ান ড্রেজিং লিমিটেড। তবে নীতিমালায় উল্লেখ্য আছে নদী খননের কাজে সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান নিজেরাই নদী খনন করবেন। সাব-ঠিকাদার বা নিষিদ্ধ বাংলা ড্রেজার ব্যবহার করা যাবে না।

উপজেলার জোকারচর এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, এশিয়ান ড্রেজিং লিমিটেড একটি মাত্র ড্রেজার মেশিন দিয়ে নদী খনন করছে। এ সময় ড্রেজিংয়ের কাজে নিয়োজিত একজন জানান, কালিহাতী অংশে তাদের সাব-কন্ট্রাক্ট দেয়া হয়েছে। এতে সাব-কন্ট্রাক্টররা নদী খননের নামে শতাধিক বাংলা ড্রেজার বসিয়ে বালু ও মাটি উত্তোলন করছে। জোকারচর গ্রামের শেখ মো. আবুল হাশেম জানান, এখানে খনন হচ্ছে না। কিন্তু সরকারের কোটি কোটি টাকা অপচয় হচ্ছে। তিনি বলেন, বাংলা ড্রেজার দিয়ে খনন কাজ করা হলেও সংশ্লিষ্টরা সব জেনেও না জানার ভান করেন। আমরা কিছু বললেই স্থানীয় সরকার দলীয় ক্যাডার বাহিনী দিয়ে ভয়ভীতি দেখানো হয়। এ কারণে স্থানীয় লোকজন কিছু বলতে সাহস পায় না।

কালিহাতী উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) শাহরিয়ার রহমান জানান, প্রকল্পটি পানি উন্নয়ন বোর্ডের। এ কারণে এসব কিছু তদারকির দায়িত্বও তাদের। আর বাংলা ড্রেজারের বিষয় নিয়ে আমাদের কাছে কেউ অভিযোগ করলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।

টাঙ্গাইল পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী সিরাজুল ইসলাম জানান, খনন কাজে নিয়োজিত ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান এশিয়ান ড্রেজিং লিমিটেড কোনোভাবেই সাব-কন্ট্রাক্টর দিয়ে নদী খনন করতে পারে না। এটি করা হলে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

সাব-কন্ট্রাক্টর প্রতিষ্ঠান ‘মা’ এন্টারপ্রাইজের স্বত্বাধিকারী সুজন খান জানান, খনন কাজে সাব-কন্ট্রাক্টর দিয়ে করা যাবে কি না, এ বিষয়ে তার জানা নেই। এশিয়ান ড্রেজিং লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক শামীম রেজার মোবাইল ফোনে বারবার কল করা হলেও তিনি তা ধরেননি।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন