শুরু হল জাতীয় কবিতা উৎসব
jugantor
শুরু হল জাতীয় কবিতা উৎসব

  সাংস্কৃতিক রিপোর্টার  

০৩ ফেব্রুয়ারি ২০২০, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

বঙ্গবন্ধুকে স্মরণ করে ‘মুজিব আমার স্বাধীনতার অমর কাব্যের কবি’ প্রতিপাদ্যে শুরু হল দুই দিনব্যাপী জাতীয় কবিতা উৎসব। রোববার সকালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগার সংলগ্ন হাকিম চত্বরে এ উৎসবের আয়োজন করে জাতীয় কবিতা পরিষদ। উৎসব উদ্বোধন করেন কবি মহাদেব সাহা। তবে শারীরিক অসুস্থতার কারণে তিনি উৎসবস্থলে উপস্থিত না থাকায় তার পক্ষে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন আবৃত্তি শিল্পী এবং সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের সাধারণ সম্পাদক হাসান আরিফ।

উদ্বোধনী বক্তব্যে কবি মহাদেব সাহা বলেন, ৩৩ বছর আগে ইতিহাসের এক ভয়ঙ্কর দুঃসময়ে স্বৈরাচারী দুঃশাসনের বিরুদ্ধে এ দেশের মূলধারার কবিরা যে অনন্য ও অসাধারণ সমাবেশের আয়োজন করেছিলেন, কালের ধারায় তা আজ এক মহা ইতিহাসে পরিণত হয়েছে। নতুন যুগের নবীন কবিরা এ উৎসবকে আরও সমৃদ্ধ, আরও বেগবান ও আরও ঐশ্বর্যমণ্ডিত করে তুলবে। সারাবিশ্বের কবিদের মিলিত অংশগ্রহণের মধ্য দিয়ে বাংলাই হবে কবিতাবিশ্ব। অনুষ্ঠান শুরুর আগে একটি বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা কবি কাজী নজরুল ইসলামের মাজার ও শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদিন, শিল্পী কামরুল হাসানের কবর হয়ে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে পুষ্পস্তবক অর্পণ করে। এরপর জাতীয় সঙ্গীতের মাধ্যমে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের সূচনা হয়। শুরুতে দেশের সাম্প্রতিক সময়ে নিহতদের জন্য শোক প্রস্তাব ও এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়।

উদ্বোধনী পর্বে জাতীয় কবিতা পরিষদ উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য মুহম্মদ নূরুল হুদা বলেন, বাঙালির বিবর্তনজাত বিজয়ের অনেক যুক্তির মধ্যে প্রধানতম যুক্তি এই যে, স্মরণপূর্ব কাল থেকে নানা উথান-পতনের মধ্য দিয়ে বাঙালি টিকে আছে নিদেনপক্ষে তার ব্যক্তি পরিচয়ে। তার প্রথম অস্ত্র তার ভাষা, যা তার মায়ের মুখ থেকে শেখা। দ্বিতীয় অস্ত্র তার সদাচার এবং তৃতীয় অস্ত্র সংঘবদ্ধতা, যা তার পরিবার বা সমাজ তাকে শিখিয়েছে।

কবিতা উৎসবের আহ্বায়ক কবি শিহাব সরকার বলেন, কবিদের চিরায়ত ধর্ম অন্যায়-অবিচারের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ এবং শুভ ও মঙ্গল আবাহনে পূর্ণাঙ্গভাবে দীক্ষিত হয়ে গেছে কবিতা উৎসব। আমরা লড়াই করেছি শৃঙ্খল মুক্তির জন্য, স্বৈরাচার, সাম্প্রদায়িকতা এবং সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে। সর্বোপরি লক্ষ্য বিশুদ্ধ গণতন্ত্র।

সভাপতির বক্তব্যে কবিতা পরিষদ সভাপতি মুহাম্মদ সামাদ বলেন, আমরা নিজের দেশ এবং বিশ্বের মানবিক, সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক সংকটের অবসান কামনায় সময়ের দাবিকে উচ্চকিত করে বিগত ৩৩টি উৎসবের কণ্ঠে নতুন নতুন মর্মবাণী তুলে ধরেছি। আমরা জানি, সব কবির কর্তব্য মানুষের জন্য অনিন্দ্য সুন্দর পৃথিবীর স্বপ্ন রচনা করা।

উৎসবে এ সময় উপস্থিত ছিলেন- কবিতা পরিষদের সাধারণ সম্পাদক কবি তারিক সুজাত, কবি আমিনুর রহমান সুলতান, আনিসুল হক, কবি কাজী রোজী, দিলারা হাফিজ, কবি রবীন্দ্র গোপ, নিপু শাহাদাত, পিয়াস মজিদ, ফকির আলমগীরসহ কবিতা পরিষদের কবিরা। উদ্বোধনী আয়োজন শেষে মঞ্চে কবিতা পাঠ করেন বিদেশি কবিরা।

এবারের উৎসবে সুইডেন, উজবেকিস্তান, কলকাতা, আসাম, নেপালসহ বিভিন্ন দেশের কবিকে কবিতা পাঠের জন্য আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। প্রায় দু’শ কবি এ উৎসবে অংশ নেবেন। কবিতা পাঠ, নিবেদিত কবিতা, সেমিনার, আবৃত্তি ও সঙ্গীতের মধ্য দিয়ে মূর্ত করে তোলা হবে এ আয়োজন।

শুরু হল জাতীয় কবিতা উৎসব

 সাংস্কৃতিক রিপোর্টার 
০৩ ফেব্রুয়ারি ২০২০, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

বঙ্গবন্ধুকে স্মরণ করে ‘মুজিব আমার স্বাধীনতার অমর কাব্যের কবি’ প্রতিপাদ্যে শুরু হল দুই দিনব্যাপী জাতীয় কবিতা উৎসব। রোববার সকালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগার সংলগ্ন হাকিম চত্বরে এ উৎসবের আয়োজন করে জাতীয় কবিতা পরিষদ। উৎসব উদ্বোধন করেন কবি মহাদেব সাহা। তবে শারীরিক অসুস্থতার কারণে তিনি উৎসবস্থলে উপস্থিত না থাকায় তার পক্ষে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন আবৃত্তি শিল্পী এবং সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের সাধারণ সম্পাদক হাসান আরিফ।

উদ্বোধনী বক্তব্যে কবি মহাদেব সাহা বলেন, ৩৩ বছর আগে ইতিহাসের এক ভয়ঙ্কর দুঃসময়ে স্বৈরাচারী দুঃশাসনের বিরুদ্ধে এ দেশের মূলধারার কবিরা যে অনন্য ও অসাধারণ সমাবেশের আয়োজন করেছিলেন, কালের ধারায় তা আজ এক মহা ইতিহাসে পরিণত হয়েছে। নতুন যুগের নবীন কবিরা এ উৎসবকে আরও সমৃদ্ধ, আরও বেগবান ও আরও ঐশ্বর্যমণ্ডিত করে তুলবে। সারাবিশ্বের কবিদের মিলিত অংশগ্রহণের মধ্য দিয়ে বাংলাই হবে কবিতাবিশ্ব। অনুষ্ঠান শুরুর আগে একটি বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা কবি কাজী নজরুল ইসলামের মাজার ও শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদিন, শিল্পী কামরুল হাসানের কবর হয়ে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে পুষ্পস্তবক অর্পণ করে। এরপর জাতীয় সঙ্গীতের মাধ্যমে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের সূচনা হয়। শুরুতে দেশের সাম্প্রতিক সময়ে নিহতদের জন্য শোক প্রস্তাব ও এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়।

উদ্বোধনী পর্বে জাতীয় কবিতা পরিষদ উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য মুহম্মদ নূরুল হুদা বলেন, বাঙালির বিবর্তনজাত বিজয়ের অনেক যুক্তির মধ্যে প্রধানতম যুক্তি এই যে, স্মরণপূর্ব কাল থেকে নানা উথান-পতনের মধ্য দিয়ে বাঙালি টিকে আছে নিদেনপক্ষে তার ব্যক্তি পরিচয়ে। তার প্রথম অস্ত্র তার ভাষা, যা তার মায়ের মুখ থেকে শেখা। দ্বিতীয় অস্ত্র তার সদাচার এবং তৃতীয় অস্ত্র সংঘবদ্ধতা, যা তার পরিবার বা সমাজ তাকে শিখিয়েছে।

কবিতা উৎসবের আহ্বায়ক কবি শিহাব সরকার বলেন, কবিদের চিরায়ত ধর্ম অন্যায়-অবিচারের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ এবং শুভ ও মঙ্গল আবাহনে পূর্ণাঙ্গভাবে দীক্ষিত হয়ে গেছে কবিতা উৎসব। আমরা লড়াই করেছি শৃঙ্খল মুক্তির জন্য, স্বৈরাচার, সাম্প্রদায়িকতা এবং সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে। সর্বোপরি লক্ষ্য বিশুদ্ধ গণতন্ত্র।

সভাপতির বক্তব্যে কবিতা পরিষদ সভাপতি মুহাম্মদ সামাদ বলেন, আমরা নিজের দেশ এবং বিশ্বের মানবিক, সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক সংকটের অবসান কামনায় সময়ের দাবিকে উচ্চকিত করে বিগত ৩৩টি উৎসবের কণ্ঠে নতুন নতুন মর্মবাণী তুলে ধরেছি। আমরা জানি, সব কবির কর্তব্য মানুষের জন্য অনিন্দ্য সুন্দর পৃথিবীর স্বপ্ন রচনা করা।

উৎসবে এ সময় উপস্থিত ছিলেন- কবিতা পরিষদের সাধারণ সম্পাদক কবি তারিক সুজাত, কবি আমিনুর রহমান সুলতান, আনিসুল হক, কবি কাজী রোজী, দিলারা হাফিজ, কবি রবীন্দ্র গোপ, নিপু শাহাদাত, পিয়াস মজিদ, ফকির আলমগীরসহ কবিতা পরিষদের কবিরা। উদ্বোধনী আয়োজন শেষে মঞ্চে কবিতা পাঠ করেন বিদেশি কবিরা।

এবারের উৎসবে সুইডেন, উজবেকিস্তান, কলকাতা, আসাম, নেপালসহ বিভিন্ন দেশের কবিকে কবিতা পাঠের জন্য আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। প্রায় দু’শ কবি এ উৎসবে অংশ নেবেন। কবিতা পাঠ, নিবেদিত কবিতা, সেমিনার, আবৃত্তি ও সঙ্গীতের মধ্য দিয়ে মূর্ত করে তোলা হবে এ আয়োজন।

 

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন