শাহজাদপুরে গরুর দুধ পাঁচ টাকা লিটার

করোনা প্রভাবে বন্ধ বাঘাবাড়ী মিল্কভিটা

  শাহজাদপুর (সিরাজগঞ্জ) প্রতিনিধি ২৭ মার্চ ২০২০, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

করোনাভাইরাস সংক্রমণ রোধে সিরাজগঞ্জের বাঘাবাড়ী মিল্কভিটা কারখানা মঙ্গলবার বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। এর প্রভাব পড়েছে খুচরা বাজারে। বিপাকে পড়েছেন পাবনা ও সিরাজগঞ্জ জেলার দেড় লাখ দুগ্ধ উৎপাদনকারী কৃষক। কৃষক ২০ থেকে ২৫ টাকা দরে দুধ বিক্রি করছেন। আর লোকসান কমাতে কেউ কেউ মেশিনে দুধ থেকে ফ্যাট তুলে নিয়ে ‘ননফ্যাট মিল্ক’ ৫ টাকা লিটারে বিক্রি করছেন। শাহজাদপুরের পোতাজিয়া প্রাথমিক দুগ্ধ উৎপাদনকারী সমবায় সমিতির সভাপতি ওয়াজ আলী এ তথ্য জানিয়েছেন।

ওয়াজ আলী বলেন, পাবনা জেলার বেড়া, সাঁথিয়া, ফরিদপুর, ভাঙ্গুড়া, চাটমোহর এবং সিরাজগঞ্জ জেলার শাহাজাদপুর ও উল্লাপাড়া উপজেলা নিয়ে গড়ে উঠেছে দেশের সর্ববৃহৎ দুগ্ধ অঞ্চল। এ এলাকায় প্রায় ২৫ হাজারের বেশি গো-খামার রয়েছে। এছাড়া এ অঞ্চলের প্রায় প্রত্যেক কৃষক তাদের বাসগৃহে দুধেল গাভী পালেন। ফলে প্রতিদিন এ অঞ্চলে প্রায় ১০ লাখ লিটার গরুর দুধ উৎপাদিত হয়। এ এলাকা থেকে মিল্কভিটা, আড়ং, প্রাণ ডেইরি, ফার্মফ্রেস, অ্যামোমিল্ক, আফতাব, রংপুর ডেইরি, ব্র্যাকসহ প্রায় ২০টি দেশীয় প্রতিষ্ঠান তরল দুধ সংগ্রহ ও প্রক্রিয়াজাত করে সারা দেশে বাজারজাত করে। এ সব প্রতিষ্ঠান প্রতিদিন প্রায় পাঁচ লাখ লিটার সংগ্রহ করে। বাকি দুধ স্থানীয় ঘোষ বা দুধ ব্যবসায়ীরা নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় দুধসহ ঘি ও ছানা তৈরি করে দেশের বিভিন্ন এলাকায় পাঠিয়ে থাকে। এ ছাড়া স্থানীয়ভাবেও মিষ্টি কারখানা ও চায়ের দোকানে প্রচুর দুধ প্রয়োজন হয়। খামারিদের অভিযোগ, দুধ প্রক্রিয়াজাতকারী প্রতিষ্ঠানগুলোই হল খামারি ও কৃষকদের দুধ বিক্রি করার প্রধান ভরসা। কিন্তু বেশিরভাগ প্রতিষ্ঠান দুধ নেয়া কমিয়ে দিয়েছে। প্রাণ ডেইরি গুঁড়ো দুধ তৈরির জন্য ১ লাখ লিটার দুধ সংগ্রহ অব্যাহত রাখলেও বাকি ৯ লাখ দুধ নিয়ে বিপাকে পড়েছেন কৃষকরা। কৃষকরা জানা, প্রতি লিটার দুধের উৎপাদন খরচ ৪২ টাকা। প্রক্রিয়াজাতকারী প্রতিষ্ঠানগুলো দাম দিচ্ছে ৩৬ থেকে ৩৮ টাকা। এছাড়া প্রতিষ্ঠানগুলোর তালিকাভুক্ত খামারিদের বাইরের কেউ সেখানে দুধ বিক্রি করতে পারছে না। এ অবস্থায় অনেক খামারি গ্রাহক না পাওয়ায় ১০ থেকে ১৫ টাকা দরেও দুধ বিক্রি করছেন বলে জানা গেছে। এ বিষয়ে মাদলা নতুনপাড়া খামারি জাহাঙ্গীর হোসেন, আলমগীর হোসেন ও তানভীর রহমান হালিম জানান, দুধ বিক্রি করতে না পেরে তাদের খামারের দুধ বিভিন্ন আত্মীয়স্বজনের বাড়িতে পাঠিয়েছেন। যেটুকু বিক্রি করেছেন তা মাত্র ১০ টাকা লিটার দরে বিক্রি করা হয়েছে। বেড়া উপজেলার সানিলা এলাকার খামারি আবদুস সালাম বলেন, আমার খামারে দৈনিক ১০০ লিটার দুধ উৎপাদন হয়। দুদিন আগেও যারা দুধ নিত, তারা এখন নিচ্ছে না। সাঁথিয়া উপজেলার আমাইকোলা গ্রামের দুধ সংগ্রহকারী প্রতিষ্ঠান সেফ মিল্কের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মাসুদ শেখ বলেন, ১ সপ্তাহ আগেও প্রতিদিন প্রায় আড়াই হাজার লিটার দুধ ঢাকায় পাঠাতাম। এখন ৫০০ লিটারের বেশি পাঠাতে পারছি না। সাঁথিয়া উপজেলার বোয়ালমারী গ্রামের খামারি বেলায়েত হোসেন জানান, তার এলাকায় দুধ ২০ থেকে ২৫ টাকা লিটার দরে বিক্রি হচ্ছে। করোনাভাইরাসের প্রভাবে হঠাৎ গোখাদ্যের দামও বেড়ে গেছে। ভাঙ্গুড়া দুগ্ধ উৎপাদনকারী সমবায় সমিতির সভাপতি ফজলুর রহমান জানান, পাবনার ভাঙ্গুড়া ও চাটমোহর উপজেলার কৃষকরা ১৫ টাকা দরেও দুধ বিক্রি করছেন। এ বিষয়ে সরকারকে দ্রুত পদক্ষেপ নিতে হবে। বাঘাবাড়ী মিল্কভিটা কারখানার ডিজিএম ডা. ইদ্রিস আলী জানান, করোনার প্রভাবে সরকারি নির্দেশে ফ্যাক্টরি বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। সরকার আবার নির্দেশ দিলে ফ্যাক্টরি চালু করা হবে। করোনার প্রভাবে বাজারে দুধের চাহিদা কমে গেছে। এদিকে ৯০০ মেট্রিক টন গুঁড়ো দুধ অবিক্রীত রয়েছে। ফলে নতুন করে গুঁড়ো দুধ উৎপাদন করা সম্ভব হচ্ছে না। কারখানা পুরোপুরি বন্ধ করা হয়েছে। কৃষকের সাময়িক অসুবিধা হলেও আমাদের কিছু করার নেই।

'কোভিড-১৯' সর্বশেষ আপডেট

# আক্রান্ত সুস্থ মৃত
বাংলাদেশ ৪৮ ১৫
বিশ্ব ৭,১০,৯৮৭১,৫০,৭৮৮৩৩,৫৫৭
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

 
×