ট্রলার স্পিডবোট ট্রাকে ছুটছে মানুষ

হাতিয়া-মনপুরা নৌরুটে ট্রলারবোঝাই করে ছুটছে মানুষ * বিনা প্রয়োজনে ঘোরাঘুরি করায় লাঠিপেটা জরিমানা

  যুগান্তর ডেস্ক ২৭ মার্চ ২০২০, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

করোনাভাইরাসের মহামারী ঠেকাতে দেশের যোগাযোগের বাহন বন্ধ করে দেয়া হলেও নোয়াখালীর হাতিয়া থেকে মনপুরাগামী জনসে াত থেমে নেই। বাস-ট্রেন-লঞ্চ-ফেরি বন্ধ করে দেয়ার পর ঢাকা ও চট্টগ্রামের যাত্রীরা নানা রুট হয়ে হাতিয়া থেকে ট্রলার বোঝাই করে ভোলার মনপুরা ছুটছে। একেকটি ট্রলার ঝুঁকি নিয়ে ৪০-৫০ জন যাত্রী নিয়ে এক ঘণ্টায় মেঘনা পাড়ি দিয়ে মনপুরার রামনেওয়াজ ঘাটে ভিড়ছে। বৃহস্পতিবার দিনভর ট্রলারে মানুষের পারাপার অব্যাহত ছিল। করোনাভাইরাস ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকিকে তোয়াক্কা না করে গা ঘেঁষে ঘেঁষে একযোগে ছুটছে মানুষ। এদিকে টাকা-টাঙ্গাইল-বঙ্গবন্ধু সেতু মহাসড়কে গাড়ির দীর্ঘ জট লেগে আছে। আগের দিন এই জট ১৫ কিলোমিটার থাকলেও বৃহস্পতিবার তা ২৫ কিলোমিটারে গিয়ে ঠেকেছে। এছাড়া বৃহস্পতিবারও শিমুলিয়া থেকে অনুমোদনহীন ট্রলার-স্পিটবোটে অনেক মানুষকে পদ্মা পাড়ি দিয়ে কাঁঠালবাড়ী ঘাটে যেতে দেখা গেছে। কাঁঠালবাড়ীতে যাত্রীবাহী যানবাহন না পেয়ে মানুষকে মালবাহী ট্রাকে চেপে গন্তব্যে যেতে দেখা যায়। এছাড়া মোস্তফাপুর থেকে বরিশাল রুটেও গতকাল কিছু বাসে করে মানুষকে যাতায়াত করতে দেখা গেছে। খবর প্রতিনিধিদের।

মনপুরা : হাতিয়া থেকে ট্রলার ও স্পিডবোটে দলবেঁধে মনপুরা ছুটে আসার দৃশ্য ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়েছে। সেখানে অনেককে শঙ্কা প্রকাশ করতে দেখা গেলেও স্থানীয় প্রশাসনকে তৎপর দেখা যায়নি। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, জনপ্রতি হাজার টাকা ভাড়া দিয়ে হাতিয়া উপজেলার ৪নং ঘাট (চেয়ারম্যান ঘাট) থেকে ট্রলারে মনপুরার রামনেওয়াজ ঘাটে ভিড়ছেন যাত্রীরা। যাত্রী নামিয়েই আবার হাতিয়ার দিকে ছুটছে ট্রলার যাত্রী আনতে। থানার ওসি সাখাওয়াত হোসেন জানান, এ ব্যাপারে দ্রুতই ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে। উপজেলা নির্বাহী অফিসার বিপুল চন্দ্র দাস জানান, ব্যবস্থা নেয়ার নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

শিবচর (মাদারীপুর) : বৃহস্পতিবার লঞ্চ ও ফেরি বন্ধ থাকলেও কাঁঠালবাড়ী-শিমুলিয়া নৌপথে যাত্রী পার হচ্ছে অবৈধ ট্রলার ও স্পিডবোটে। বিআইডব্লিউটিসি’র কাঁঠালবাড়ী ফেরিঘাটের ব্যবস্থাপক আবদুল আলিম বলেন, স্পিডবোট চলাচল বন্ধ থাকলেও শিমুলিয়া থেকে সীমিত সংখ্যায় কিছু স্পিডবোট যাত্রী পারাপার করছিল। অনেকেই জীবনের ঝুঁকি নিয়ে ট্রলারেও পাড়ি দিয়েছে পদ্মা নদী। তিনি বলেন, ফেরিতে গত দু’দিনে কোনো যানবাহনই ছিল না, শুধু মানুষ আর মানুষ।’ জানতে চাইলে কাঁঠালবাড়ী ঘাটের ট্রাফিক পুলিশের পরিদর্শক (টিআই) নাসির উদ্দিন সরকার বলেন, বিভিন্ন স্থান থেকে আসা ‘যাত্রীবাহী দুই-চারটি বাস চলাচল করলেও তা সীমিত আকারে। যাত্রীরা বালুবাহী ট্রাক পাথরের ট্রাক, মাইক্রোবাস, ইজিবাইক, নসিমন-করিমন, পিআইপ ভ্যান ও মোটরসাইকেলে করে গন্তব্যে যাচ্ছে।

অনেকে যানবাহন না পেয়ে পায়ে হেটে গন্তব্যে যাচ্ছে। খুবই করুণ অবস্থা।’ এদিকে মঙ্গলবার রাতে মুন্সীগঞ্জের শিমুলিয়া ঘাট থেকে শরীয়তপুরের মাঝিকান্দিতে ছেড়ে আসা যাত্রীবোঝাই একটি ট্রলার পদ্মা নদীর জাজিরা পয়েন্টে ডুবে যায়। বেশ কয়েকজন এখনও নিখোঁজ। এদিকে মাদারীপুরে দুই প্লাটুন সেনাসদস্য নামলেও তাদের মাঠে দেখা যায়নি। যে কোনো সময় তারা মাঠে নামবে জানা গেছে। করোনাভাইরাসে যে ছয়জন মারা গেছে তার মধ্যে বেশির ভাগই মাদারীপুরের। এমন খবর ছড়িয়ে পড়ায় মানুষের মধ্যে আতঙ্ক বেড়ে গেছে। জেলা সিভিল সার্জন শফিকুল ইসলাম জানান, বর্তমানে মাদারীপুরে আইসোলেশনে আছে ৩ জন ও প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টিনে আছে একজন। ৩৩৮ জন হোম কোয়ারেন্টিনে আছে। ৬৩৯ জনকে হোম কোয়ারেন্টিনে নেয়া হলেও তার মধ্যে ৩১৩ জনকে মুক্ত করা হয়েছে।

ঢাকা-টাঙ্গাইল-বঙ্গবন্ধু সেতু মহাসড়কে ২৫ কিলোমিটার যানজট : টাঙ্গাইল প্রতিনিধি জানান, ঢাকা-টাঙ্গাইল-বঙ্গবন্ধু সেতু মহাসড়কে বুধবার থেকে শুরু হওয়া যানজট বৃহস্পতিবারও অব্যাহত ছিল। গাড়ির চাপ বৃদ্ধি পাওয়ায় বঙ্গবন্ধু সেতুর পূর্ব পাড় থেকে টাঙ্গাইল শহর ছাড়িয়ে ২৫ কিলোমিটার যানজটের সৃষ্টি হয়েছে। মহাসড়কটিতে যাত্রীবাহী বাসের চেয়ে ট্রাকের সংখ্যাই বেশি। যাত্রীরা ট্রাক ও পিকআপ ভ্যানে গাদাগাদি করে ঝুঁকি নিয়েই বাড়ি ফিরছে। ২৫ কিলোমিটার সড়ক পাড়ি দিতে যেখানে ৩০ মিনিট লাগার কথা সেখানে ৪-৫ ঘণ্টায়ও পার হতে পারছেন না যাত্রীরা। বঙ্গবন্ধু সেতু পূর্ব থানার ওসি কাজী আইয়ুবুর রহমান জানান, ছুটি ঘোষণা করার পর ঘরমুখো যাত্রীদের চাপ বেড়েছে। তবে দূরপাল্লার বাস বন্ধ থাকায় মহাসড়কে বাসের চেয়ে ট্রাকের সংখ্যাই বেশি। ফলে কিছুটা যানজটের সৃষ্টি হয়েছে। যানজট নিরসনে কাজ করছে পুলিশ।

পুলিশের লাঠিচার্জ : ছাতক (সুনামগঞ্জ) প্রতিনিধি জানান, ঘরে থাকার সিদ্ধান্ত না মেনে বিনা প্রয়োজনে বাইরে ঘোরাফেরা ও চায়ের দোকানে আড্ডা দেয়ায় অনেককে লাঠিপেটা করেছে পুলিশ। পরে সিলেট-সুনামগঞ্জ সড়কের ওই চায়ের দোকানগুলো বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। উপজেলার সেরা জাউয়া বাজারে মাস্ক না পরে ঘোরাঘুরি ও আড্ডা দেয়ায় লাঠিচার্জ করা হয়। জাউয়া বাজার পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ সাজ্জাদুর রহমান সবাইকে সরকারি নিষেধাজ্ঞা মেনে চলা ও করোনাভাইরাস মোকাবেলায় সবাইকে ঘরে অবস্থান করার অনুরোধ করেন।

পিটিয়ে ঘরে পাঠাচ্ছে পুলিশ : কালকিনি (মাদারীপুর) প্রতিনিধি জানান, ঘরের বাইরে না যাওয়ার অনুরোধ করে কয়েক দিন ধরেই মাইকিং করা হচ্ছিল এলাকায়। তবে একশ্রেণীর লোক তা না মেনে বিনা প্রয়োজনে ঘরের বাইরে বেরিয়ে আসেন। এদের দমনে বৃহস্পতিবার সকাল থেকেই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আমিনুল ইসলামের নেতৃত্বে কালকিনি ও ডাসার থানা পুলিশ যৌথভাবে মাঠে নামে। এ সময় স্থানীয়দের বাইরে ঘোরাফেরা করতে দেখা যাওয়ায় তাদের বেধড়ক পেটানো হয়। মোটরসাইকেল নিয়ে বের হওয়া লোকদেরও ধাওয়া করা হয়। কালকিনি থানার ওসি মো. নাছিরউদ্দিন মৃধা ও ডাসার থানার ওসি মুহাম্মদ আবদুল ওহাব বলেন, কিছু মানুষ ঘরে না থেকে অপ্রয়োজনে রাস্তাঘাটে অবাধে ঘুরে বেড়াচ্ছেন। তাই জনস্বার্থের দিকটি বিবেচনা করে তাদের পিটিয়ে ঘরে ফেরাতে বাধ্য করছি। এ ব্যাপারে কালকিনি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বলেন, এই দুর্যোগপূর্ণ সময়ে বাইরে ঘোরাফেরা করায় আমরা এ পর্যন্ত ২০ জনকে জরিমানা করেছি। সাধারণ মানুষকে নিরাপদে রাখতে সবকিছুই করব আমরা।

'কোভিড-১৯' সর্বশেষ আপডেট

# আক্রান্ত সুস্থ মৃত
বাংলাদেশ ৫১ ২৫
বিশ্ব ৮,৫৬,৯১৭১,৭৭,১৪১৪২,১০৭
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

 
×