করোনায় চ্যালেঞ্জের মুখে পোলট্রি শিল্প

যশোরে দিনে মারা পড়ছে দুই লাখ মুরগির বাচ্চা

গুজবে মুরগির মাংস বিক্রিতেও ধস

  যশোর ব্যুরো ২৭ মার্চ ২০২০, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

করোনাভাইরাসের প্রভাবে যশোর অঞ্চলে পোলট্রি শিল্প হুমকির মুখে পড়েছে। স্বয়ংক্রিয় পদ্ধতিতে মুরগির বাচ্চা উৎপাদন করায় তা তাৎক্ষণিক বন্ধ করা যাচ্ছে না। এজন্য প্রতিদিন প্রায় দুই লাখ মুরগির বাচ্চা মেরে ফেলতে হচ্ছে। গুজবে পোলট্রি মুরগির মাংস বিক্রিতেও ধস নেমেছে। এতে কোটি কোটি টাকার লোকসানের শিকার হ্যাচারি মালিকরা। সম্ভাবনাময় এ শিল্পের সঙ্গে জড়িত প্রায় পাঁচ হাজার শ্রমিক-কর্মচারীর ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে।

যশোর অঞ্চলে পাঁচটি হ্যাচারিতে প্রতিদিন চার লাখ মুরগির বাচ্চা উৎপাদিত হয়। হ্যাচারি থেকে একদিন বয়সী বাচ্চা বিক্রি করা হয়। প্রতিটি মুরগির বাচ্চা উৎপাদনে ৩২ টাকা খরচ হয়। এখন বিনামূল্যে দিলেও কেউ মুরগির বাচ্চা নিচ্ছেন না। হ্যাচারি থেকে খামারিরা বাচ্চা মুরগি কেনা বন্ধ করে দিয়েছেন। এতে বিপাকে পড়েছে উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানগুলো।

এ প্রসঙ্গে যশোরের আফিল এগ্রো লিমিটেডের টেকনিক্যাল ম্যানেজার তোফায়েল আহমেদ জানান, ৪ মাসে একটি মুরগিকে ডিম পাড়ার জন্য প্রস্তুত করা হয়। এমন একটি মুরগি টানা দেড় বছর ডিম দেয়। বাচ্চা উৎপাদনে ২১ দিনের জন্য ডিম ইনকিউবেটর মেশিনে রাখতে হয়। বাচ্চা উৎপাদন বন্ধ করতে হলে কমপক্ষে ২১ দিন অপেক্ষা করতে হয়। আবার উৎপাদন প্রক্রিয়া একবার বন্ধ করলে পুনরায় চালু করা অনেক ব্যয়সাপেক্ষ। সে ক্ষেত্রে হ্যাচারি একেবারেই বন্ধ হয়ে যাবে। প্রতিষ্ঠান শত শত কোটি টাকার লোকসানের মুখে পড়বে।

পোলট্রি শিল্পের সবচেয়ে বড় বিপণন কোম্পানি তামিম মার্কেটিং অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশনের ব্যবস্থাপক (মার্কেটিং) খন্দকার ইদ্রিস হাসান জানান, একদিন বয়সী প্রতিটি বাচ্চা উৎপাদনে ৩২ টাকা খরচ হলেও বাজারে বিক্রি হচ্ছে এক টাকারও কম। তাও আবার ক্রেতা খুঁজে আনতে হচ্ছে। শুধু বাচ্চা নয়- লেয়ার মুরগির ডিম ও পোলট্রি ফিডে এর প্রভাব পড়েছে। যশোর অঞ্চলের আফিল, কাজী, চিফ, প্রভিটা ও প্যারাগনের ফিড মিল রয়েছে। এসব মিলে প্রতিদিন ৬০০ থেকে ৮০০ টন ফিড উৎপাদিত হয়। চাহিদা কমে যাওয়ায় ফিডের বিকিকিনিও কমে গেছে।

তামিম মার্কেটিং অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশনের উপব্যবস্থাপক (ব্রয়লার) আবদুল মুকিত জানান, যশোর অঞ্চলের এক হাজার খামার থেকে প্রতিদিন গড়ে ১১ লাখ কেজি ব্রয়লার মুরগির মাংস উৎপাদিত হয়। এরমধ্যে শুধু আফিল ফার্ম থেকে উৎপাদিত হয় দিনে ২৫ হাজার কেজি। এক কেজি ব্রয়লার মুরগির মাংস উৎপাদনে খরচ হয় ১১০ টাকা। বর্তমানে বাজার পড়ে যাওয়ায় প্রতি কেজি ৪০-৪৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। ডিমের বাজারও পড়তির দিকে বলে জানান তিনি। যশোর অঞ্চলে প্রতিদিন পাঁচ লাখ ডিম উৎপাদিত হয়। এরমধ্যে আফিল ফার্ম উৎপাদন করে চার লাখ ডিম। প্রতিটি ডিম উৎপাদনে খরচ পড়ে সাড়ে সাত টাকা। বর্তমানে বিক্রি হচ্ছে সাড়ে ছয় টাকা।

আফিল এগ্রো লিমিটেডের পরিচালক মাহাবুব আলম লাবলু বলেন, করোনা প্রভাবে পোলট্রি মুরগির ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে। সাধারণ ক্রেতারা পোলট্রির মুরগি কেনা থেকে বিরত থাকছেন।

এর কারণে খামারিরা উৎপাদিত মুরগির দাম পাচ্ছে না। ছোট ছোট খামারিরা ইতোমধ্যে উৎপাদন বন্ধ করে দিতে বাধ্য হয়েছেন। বড় ব্যবসায়ীরা উৎপাদন প্রক্রিয়া সচল রাখতে রীতিমতো হিমশিম খাচ্ছেন। খুলনা বিভাগীয় প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. আমিনুল ইসলাম মোল্লা জানান, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে কিছু লোক পোলট্রি মুরগির মাংস নিয়ে যে অপপ্রচার চালাচ্ছে সেটির কোনো ভিত্তি নেই। পোলট্রির মাংস ও ডিম খেলে কোনো ক্ষতি নেই। এতে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ে।

'কোভিড-১৯' সর্বশেষ আপডেট

# আক্রান্ত সুস্থ মৃত
বাংলাদেশ ৫১ ২৫
বিশ্ব ৮,৫৬,৯১৭১,৭৭,১৪১৪২,১০৭
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

 
×