করোনায় ব্যাংকের নতুন সেবা
jugantor
করোনায় ব্যাংকের নতুন সেবা

  যুগান্তর রিপোর্ট  

০৭ মে ২০২০, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

বিশ্ব অর্থনীতি বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ায় থমকে গেছে ব্যাংকিং খাত। তাই করোনার আর্থিক ক্ষতি মোকাবেলায় নতুন করে ভাবছে ব্যাংকগুলো।

সম্প্রতি কয়েকটি ব্যাংককে একেবারে নতুন খাতে ঋণ বিতরণের উদ্যোগ নিতে দেখা গেছে।

ঋণের পাশাপাশি প্রান্তিক মানুষের পাশেও দাঁড়াচ্ছে ব্যাংকগুলো। এসব উদ্যোগের মধ্যে ঘি তৈরিতে দুগ্ধ খামারিদের ঋণ বিতরণ অন্যতম।

এ ছাড়া চিকিৎসকদের মধ্যে করোনা নিরাপত্তা সামগ্রী বিতরণ, দরিদ্রদের মাঝে খাদ্য বিতরণ ও বিনা মূল্যে ধান কাটার যন্ত্র দিয়ে সাহায্য করে যাচ্ছে কয়েকটি ব্যাংক।

জানা যায়, দুগ্ধ খামারিদের মাঝে দুধ থেকে ঘি বানানোর জন্য ঋণ বিতরণের উদ্যোগ গ্রহণ করেছে রূপালী ব্যাংক। সহজ শর্ত ও স্বল্পসুদের এই ঋণ গ্রহণ করে দুগ্ধ খামারিরা উৎপাদিত দুধ থেকে ঘি বানিয়ে সংরক্ষণ করতে পারবেন। যার ফলে তাদেরকে আর দুধ ফেলে দিতে হবে না। ব্যাংক জানায়, বাংলাদেশে বর্তমানে ১২ লাখ দুগ্ধ খামারের সঙ্গে ১ কোটি মানুষ জড়িত।

বছরে এসব খামারে প্রায় ১ কোটি টন দুধ উৎপাদিত হয়। দুধের একটা বড় অংশ যায় প্রক্রিয়াজাতকারী বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানগুলোয়। বাকি অংশ যায় মিষ্টির দোকান ও হোটেল-রেস্তোরাঁয়। কিন্তু করোনা পরিস্থিতির কারণে চরম বিপাকে পড়েছেন দুগ্ধ খামারিরা। সারা দেশের ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও গণপরিবহন বন্ধ থাকায় দুধের চাহিদা একেবারেই নেই।

তাই অধিকাংশ খামারিই তাদের উৎপাদিত দুধ বিক্রি করতে পারছেন না। ফেলে দিতে হচ্ছে কোটি কোটি টাকার দুধ। সেই সঙ্গে গো-খাদ্যের মূল্য বৃদ্ধি পাওয়ায় প্রতিদিনই লোকসান গুনতে হচ্ছে খামারিদের। এই অবস্থায় দুগ্ধ শিল্পকে টিকিয়ে রাখতে খামারিদের পাশে দাঁড়ানোর নির্দেশনা দিয়েছেন ব্যাংকটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) মো. ওবায়েদ উল্লাহ আল মাসুদ।

তিনি যুগান্তরকে জানান, দুগ্ধ খামারি ছাড়াও আম, লিচু, সরিষা, আদা ও হলুদ চাষে সহজ শর্তে ঋণ বিতরণ করব আমরা। অঞ্চলভেদে এই ঋণগুলো বিতরণের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। আম চাষে রাজশাহী, নওগাঁ ও রংপুর এবং হলুদ চাষের জন্য খাগড়াছড়িতে ঋণ বিতরণ করবে রূপালী ব্যাংক। পাশাপাশি বান্দরবানের আদাচাষীরাও এই ঋণ পাবেন। সরিষা চাষে সারা দেশেই ঋণ বিতরণ করবে ব্যাংকটি।

অন্যদিকে বিদ্যমান করোনা পরিস্থিতিতে শ্রমিক সংকট কাটিয়ে উঠতে কৃষকদের মাঝে বিনা মূল্যে ধান কাটা মেশিন বিতরণ করল ব্যাংক এশিয়া। কর্মকর্তাদের আর্থিক অনুদানে গঠিত তহবিল থেকে গত ৩০ এপ্রিল রাজশাহীর মণ্ডুমালায় রাজশাহী ও

নওগাঁ জেলার কৃষকদের মাঝে ৬টি ধান কাটার মেশিন বিতরণ করা হয়। একেকটি মেশিন প্রতি ঘণ্টায় তিন বিঘা জমির ধান কাটতে সক্ষম। গরিব-দুঃখীদের পাশে দাঁড়াতে এক দিনের বেতন প্রদান করেছে দ্য সিটি ব্যাংকের প্রতিটি কর্মী।

পাশাপাশি সেখানে মোটা অঙ্কের সাহায্য করেছে ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদ। সারা দেশের আটটি সেন্টারে ২০ হাজার পরিবারের কাছে পাঠানো হয়েছে ত্রাণের ব্যাগ। প্রতিটি ব্যাগে রয়েছে ১০ কেজি চালসহ অন্যান্য নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্যসামগ্রী, যাতে ৫ জনের একটি পরিবারের ৭ দিনের খাবার মিলবে।

এদিকে প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিলে মোটা অঙ্কের অনুদান দিয়েছে প্রায় প্রতিটি ব্যাংক। খোদ বাংলাদেশ ব্যাংকও সেখানে প্রত্যেক কর্মীর একদিনের বেতন অনুদান হিসেবে পাঠিয়েছে।

চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের সহায়তায় ঢাকা ও ঢাকার বাইরের ২৩ হাসপাতালে পিপিই, সার্জিক্যাল মাস্ক, কেএন-৯৫ মাস্ক ও হেডশিল্ড সরবরাহ করেছে এনআরবিসি ব্যাংক লিমিটেড। পাশাপাশি বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি কমিশন, প্রধানমন্ত্রীর ব্যক্তিগত চিকিৎসক ও পুলিশদের মাঝেও নিরাপত্তাসামগ্রী বিতরণ করেছে ব্যাংকটি।

এ পর্যন্ত প্রায় ৫ হাজার পিপিই, ৫ হাজার সার্জিক্যাল মাস্ক, ১ হাজার কেএন-৯৫ মাস্ক, ৮শ’ বিশেষ চশমা ও ১ হাজার ৫শ’ হেডশিল্ড সরবরাহ করেছে এনআরবিসি ব্যাংক। এর আগে হাওর অঞ্চলে বোরো ধান কাটতে ঋণ দিয়েছিল বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক। প্রতি একর ধান কাটার জন্য ১২ হাজার টাকা ঋণ দেয়া হয়।

করোনায় ব্যাংকের নতুন সেবা

 যুগান্তর রিপোর্ট 
০৭ মে ২০২০, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

বিশ্ব অর্থনীতি বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ায় থমকে গেছে ব্যাংকিং খাত। তাই করোনার আর্থিক ক্ষতি মোকাবেলায় নতুন করে ভাবছে ব্যাংকগুলো।

সম্প্রতি কয়েকটি ব্যাংককে একেবারে নতুন খাতে ঋণ বিতরণের উদ্যোগ নিতে দেখা গেছে।

ঋণের পাশাপাশি প্রান্তিক মানুষের পাশেও দাঁড়াচ্ছে ব্যাংকগুলো। এসব উদ্যোগের মধ্যে ঘি তৈরিতে দুগ্ধ খামারিদের ঋণ বিতরণ অন্যতম।

এ ছাড়া চিকিৎসকদের মধ্যে করোনা নিরাপত্তা সামগ্রী বিতরণ, দরিদ্রদের মাঝে খাদ্য বিতরণ ও বিনা মূল্যে ধান কাটার যন্ত্র দিয়ে সাহায্য করে যাচ্ছে কয়েকটি ব্যাংক।

জানা যায়, দুগ্ধ খামারিদের মাঝে দুধ থেকে ঘি বানানোর জন্য ঋণ বিতরণের উদ্যোগ গ্রহণ করেছে রূপালী ব্যাংক। সহজ শর্ত ও স্বল্পসুদের এই ঋণ গ্রহণ করে দুগ্ধ খামারিরা উৎপাদিত দুধ থেকে ঘি বানিয়ে সংরক্ষণ করতে পারবেন। যার ফলে তাদেরকে আর দুধ ফেলে দিতে হবে না। ব্যাংক জানায়, বাংলাদেশে বর্তমানে ১২ লাখ দুগ্ধ খামারের সঙ্গে ১ কোটি মানুষ জড়িত।

বছরে এসব খামারে প্রায় ১ কোটি টন দুধ উৎপাদিত হয়। দুধের একটা বড় অংশ যায় প্রক্রিয়াজাতকারী বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানগুলোয়। বাকি অংশ যায় মিষ্টির দোকান ও হোটেল-রেস্তোরাঁয়। কিন্তু করোনা পরিস্থিতির কারণে চরম বিপাকে পড়েছেন দুগ্ধ খামারিরা। সারা দেশের ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও গণপরিবহন বন্ধ থাকায় দুধের চাহিদা একেবারেই নেই।

তাই অধিকাংশ খামারিই তাদের উৎপাদিত দুধ বিক্রি করতে পারছেন না। ফেলে দিতে হচ্ছে কোটি কোটি টাকার দুধ। সেই সঙ্গে গো-খাদ্যের মূল্য বৃদ্ধি পাওয়ায় প্রতিদিনই লোকসান গুনতে হচ্ছে খামারিদের। এই অবস্থায় দুগ্ধ শিল্পকে টিকিয়ে রাখতে খামারিদের পাশে দাঁড়ানোর নির্দেশনা দিয়েছেন ব্যাংকটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) মো. ওবায়েদ উল্লাহ আল মাসুদ।

তিনি যুগান্তরকে জানান, দুগ্ধ খামারি ছাড়াও আম, লিচু, সরিষা, আদা ও হলুদ চাষে সহজ শর্তে ঋণ বিতরণ করব আমরা। অঞ্চলভেদে এই ঋণগুলো বিতরণের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। আম চাষে রাজশাহী, নওগাঁ ও রংপুর এবং হলুদ চাষের জন্য খাগড়াছড়িতে ঋণ বিতরণ করবে রূপালী ব্যাংক। পাশাপাশি বান্দরবানের আদাচাষীরাও এই ঋণ পাবেন। সরিষা চাষে সারা দেশেই ঋণ বিতরণ করবে ব্যাংকটি।

অন্যদিকে বিদ্যমান করোনা পরিস্থিতিতে শ্রমিক সংকট কাটিয়ে উঠতে কৃষকদের মাঝে বিনা মূল্যে ধান কাটা মেশিন বিতরণ করল ব্যাংক এশিয়া। কর্মকর্তাদের আর্থিক অনুদানে গঠিত তহবিল থেকে গত ৩০ এপ্রিল রাজশাহীর মণ্ডুমালায় রাজশাহী ও

নওগাঁ জেলার কৃষকদের মাঝে ৬টি ধান কাটার মেশিন বিতরণ করা হয়। একেকটি মেশিন প্রতি ঘণ্টায় তিন বিঘা জমির ধান কাটতে সক্ষম। গরিব-দুঃখীদের পাশে দাঁড়াতে এক দিনের বেতন প্রদান করেছে দ্য সিটি ব্যাংকের প্রতিটি কর্মী।

পাশাপাশি সেখানে মোটা অঙ্কের সাহায্য করেছে ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদ। সারা দেশের আটটি সেন্টারে ২০ হাজার পরিবারের কাছে পাঠানো হয়েছে ত্রাণের ব্যাগ। প্রতিটি ব্যাগে রয়েছে ১০ কেজি চালসহ অন্যান্য নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্যসামগ্রী, যাতে ৫ জনের একটি পরিবারের ৭ দিনের খাবার মিলবে।

এদিকে প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিলে মোটা অঙ্কের অনুদান দিয়েছে প্রায় প্রতিটি ব্যাংক। খোদ বাংলাদেশ ব্যাংকও সেখানে প্রত্যেক কর্মীর একদিনের বেতন অনুদান হিসেবে পাঠিয়েছে।

চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের সহায়তায় ঢাকা ও ঢাকার বাইরের ২৩ হাসপাতালে পিপিই, সার্জিক্যাল মাস্ক, কেএন-৯৫ মাস্ক ও হেডশিল্ড সরবরাহ করেছে এনআরবিসি ব্যাংক লিমিটেড। পাশাপাশি বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি কমিশন, প্রধানমন্ত্রীর ব্যক্তিগত চিকিৎসক ও পুলিশদের মাঝেও নিরাপত্তাসামগ্রী বিতরণ করেছে ব্যাংকটি।

এ পর্যন্ত প্রায় ৫ হাজার পিপিই, ৫ হাজার সার্জিক্যাল মাস্ক, ১ হাজার কেএন-৯৫ মাস্ক, ৮শ’ বিশেষ চশমা ও ১ হাজার ৫শ’ হেডশিল্ড সরবরাহ করেছে এনআরবিসি ব্যাংক। এর আগে হাওর অঞ্চলে বোরো ধান কাটতে ঋণ দিয়েছিল বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক। প্রতি একর ধান কাটার জন্য ১২ হাজার টাকা ঋণ দেয়া হয়।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন