অসাধু শিক্ষকদের কাণ্ড

করোনাকালেও শিক্ষার্থীদের জিম্মি করে কোচিং বাণিজ্য

  যুগান্তর রিপোর্ট ১১ মে ২০২০, ০০:০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

করোনার মধ্যে রাজধানীর বেশ কয়েকটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের অসাধু শিক্ষক কোচিং বাণিজ্য চালিয়ে যাচ্ছেন। ডিজিটাল মাধ্যম ব্যবহার করে তারা নিজ নিজ শ্রেণির ছাত্রছাত্রীদের কোচিংয়ে বাধ্য করছেন।

বিনিময়ে হাতিয়ে নিচ্ছেন লাখ লাখ টাকা। সব জেনেও সংশ্লিষ্ট শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের নীতিনির্ধারকরা রহস্যজনক কারণে নিশ্চুপ আছেন বলে অভিযোগ করেছেন অভিভাবকরা।

এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদফতরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ড. সৈয়দ মোহাম্মদ গোলাম ফারুক বলেন, এ নিয়ে কোনো অভিযোগ আমরা পাইনি। লিখিত অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, রাজধানীর ভিকারুননিসা-নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজ, আইডিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজসহ নামিদামি স্কুল-কলেজের অসাধু শিক্ষকরা ডিজিটাল পদ্ধতির কোচিং বাণিজ্য চালিয়ে যাচ্ছেন। তারা ইন্টারনেটে জুম অ্যাপস, গুগল ডিইউও, ফেসবুক লাইভ ইত্যাদি মাধ্যমে নানা কৌশলে শিক্ষার্থীদের কোচিং করতে বাধ্য করছেন।

মতিঝিল আইডিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজের মুগদা শাখার বাংলা বিষয়ের ‘গ’ আদ্যাক্ষরের শিক্ষক সবচেয়ে বেপরোয়া। ২০ মার্চ থেকে ফেসবুক লাইভে ও জুম অ্যাপসে বিদ্যালয়ের বিভিন্ন ক্লাসের দুই শতাধিক শিক্ষার্থীকে কোচিং করাচ্ছেন তিনি। শিক্ষার্থীদের কাছে মাসিক মাথাপিছু ২ থেকে ৫ হাজার টাকা বিকাশের মাধ্যমে আদায় করছেন। দুদকের খাতায়ও এই শিক্ষকের নাম আছে।

এমনকি স্কুলের বনশ্রী শাখার ইংলিশ বিষয়ের ‘হ’, ‘আ’, ‘শ’, ‘আ’, রসায়নের ‘জ’, ‘শ’ আদ্যাক্ষরের শিক্ষক ফেসবুক লাইভে ও জুমে কোচিং বাণিজ্য করছেন। আর বিকাশ ও রকেটে কারও কারও কাছ থেকে নগদ টাকা আদায় করছেন। এদের অনেকে কোচিং বাণিজ্যের বিষয়টি স্বীকার করেছেন। এ বিষয়ে জানতে চাইলে আইডিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ ড. শাহান আরা বেগম বলেন, স্কুল বন্ধ হওয়ার পর সব ক্লাসের জন্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে শ্রেণিশিক্ষক দিয়ে প্রতিদিন ক্লাস নেয়া হচ্ছে।

এতে প্রায় ৮৫ শতাংশ শিক্ষার্থীর উপস্থিতি পাচ্ছি। কিন্তু কোনো কোনো শিক্ষক লাইভ ক্লাস না করিয়ে অনলাইনে নিজেরা কোচিং সেন্টার খুলে বসেছেন বলে আমাদের কাছেও অভিযোগ এসেছে। এসব শিক্ষকের বিরুদ্ধে গভর্নিং বডি (জিবি) ব্যবস্থা নেবে।

অভিযোগ পাওয়া গেছে, ভিকারুননিসা-নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজের বসুন্ধরা শাখার ইংরেজির ‘ম’, রসায়নের ‘ম’ আদ্যাক্ষরসহ বেশ কয়েকজন শিক্ষক ডিজিটাল পদ্ধতিতে কোচিং বাণিজ্য চালাচ্ছেন।

অবশ্য তারা জানান, ফেসবুক ও জুমে ৩০ থেকে ৫০ জন ছাত্রী নিয়ে কোচিং শুরু করলেও অধ্যক্ষের নির্দেশে কেউ কেউ তা বন্ধ করে দিয়েছেন।

অভিযোগের সত্যতা স্বীকার করে ভিকারুননিসা-নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক ফওজিয়া বলেন, বসুন্ধরা শাখার কয়েকজন শিক্ষকের কোচিং করানোর বিষয়টির অভিযোগ আসার পর আমার নির্দেশে দ্রুত তা বন্ধ করা হয়েছে। বর্তমানে এ প্রতিষ্ঠানের কোনো শিক্ষক কোচিং করাচ্ছেন বলে আমার কাছে অভিযোগ নেই, অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

অভিভাবকরা বলছেন, ক্লাসের শিক্ষকরা কোচিংয়ের ডাক দিলে তারা চুপ থাকতে পারেন না। কেননা ক্লাসে শিক্ষকের হাতে অনেক ক্ষমতা। কোচিং না করলে ক্লাসরুমে তাদের সন্তানদের অপমান অপদস্ত করা, নম্বর কম দেয়াসহ নানাভাবে হেনস্তার আশঙ্কা থাকে। এমনকি শারীরিক নির্যাতনও করে কোনো কোনো অসাধু শিক্ষক।

অভিভাবক ফোরামের সভাপতি জিয়াউল হক দুলু বলেন, দীর্ঘদিন ধরে শিক্ষার্থীদের জিম্মি করে কোচিং বাণিজ্য করছেন আইডিয়ালের কয়েক শিক্ষক। এদের বিরুদ্ধে দুদকসহ বিভিন্ন স্থানে এসব সম্মানহীন শিক্ষকের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। অনেক অভিভাবক এদের নানাভাবে নির্যাতন করলেও এদের সম্মান যায় না, শিক্ষার্থীদের জিম্মি করে তারা কোচিং বাণিজ্য করছেন।

তিনি বলেন, কোচিং নীতিমালা বাস্তবায়নে আদালতের নির্দেশনা থাকলেও শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মনিটরিং কমিটি না থাকায় তা বাস্তবায়ন হচ্ছে না। তাই দ্রুত একটি কমিটি গঠন করে কোচিং নীতিমালা বাস্তবায়ন করার দাবি জানান তিনি।

করোনা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাবে ১৭ মার্চ থেকে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ ঘোষণা করে সরকার। এ সময়ে ছাত্রছাত্রীদের পড়ালেখার মাধ্যমে সংযোগ রাখতে সংসদ টেলিভিশনে শ্রেণিক্লাস সম্প্রচার শুরু করে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদফতর (মাউশি)। এরপর প্রাথমিকের শিক্ষার্থীদের জন্য প্রাথমিক শিক্ষা অধিদফতর এবং কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষার্থীদের জন্য টেলিভিশন ক্লাস সম্প্রচার করা হচ্ছে।

 

সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত