পণ্য সরবরাহে ট্রাক চেয়ে বিআরটিসির কাছে চিঠি

ভালো উৎপাদনেও মাঠে দাম পাচ্ছে না কৃষক

ব্যক্তি মালিকানাধীন ট্রাকের চেয়ে বিআরটিসির ট্রাকে বেশি ভাড়া * আলোচনায় ভাড়া কিছুটা কমতে পারে - বিআরটিসি চেয়ারম্যান

  ইয়াসিন রহমান ১৩ মে ২০২০, ০০:০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

করোনা পরিস্থিতিতেও থেমে নেই কৃষি পণ্য উৎপাদন। পরিবহন সংকটের অজুহাতে দেখিয়ে দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে ব্যাপারীরা কৃষকের কাছ থেকে কম দামে পণ্য কিনে রাজধানীসহ বিভিন্ন স্থানের বাজারে বেশি দামে বিক্রি করছে। এতে ধান থেকে শুরু করে সব ধরনের শাক-সবজির ভালো উৎপাদন হলেও মাঠপর্যায়ে কৃষক দাম পাচ্ছে না। এ অবস্থায় কৃষকের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিতে ও বাজারে পণ্যের দাম স্বাভাবিক রাখতে উদ্যোগ নিয়েছে কৃষি বিপণন অধিদফতর। পণ্য সরবরাহে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্পোরেশনের (বিআরটিসি) কাছে ট্রাক ভাড়া চেয়ে চিঠি পাঠিয়েছে তারা। তবে ব্যক্তি মালিকানাধীন ট্রাকের চেয়ে বিআরটিসির ট্রাকের ভাড়া বেশি হওয়ায় চিন্তিত অধিদফতর। তাই বিআরটিসি ছাড়াও shohoz.com-এর সঙ্গেও আলোচনা করছে। অধিদফতর সূত্রে মঙ্গলবার এসব তথ্য জানা গেছে।

এ দিন নওগাঁ জেলার কৃষক আবদুল খালেক মোবাইল ফোনে যুগান্তরকে বলেন, মাঠে কোনো ধরনের সবজির দাম নেই। মাঠ পর্যায় থেকে প্রতিকেজি বেগুন ৮-১০ টাকায় বিক্রি করতে হচ্ছে। কিন্তু রাজধানীতে বিক্রি হচ্ছে ৫০ টাকার উপরে। এছাড়া মাঠে পটোল ৬-৭ টাকা কেজি দরে বিক্রি করে দিতে হচ্ছে। কাঁচামরিচ বিক্রি করতে হচ্ছে ৫-১০ টাকা কেজি। তিনি জানান, ব্যাপারীরা বলছেন গাড়ি যাচ্ছে না। তাই তারা কম দামে সবজি কিনে নিয়ে যাচ্ছে। পরে দেখা যাচ্ছে ঠিকই গাড়ি যাচ্ছে। তাই সরকারের পক্ষ থেকে ব্যবস্থা নিতে হবে। সবচাইতে বেশি ভালো হবে সরকারের পক্ষ থেকে পরিবহনের ব্যবস্থা করে আমাদের উৎপাদিত পণ্য বাজারে সরবরাহ করলে, আমরাও দাম পাব আর ভোক্তারাও কম দামে সবজি কিনে খেতে পারবে।

এদিকে কৃষি বিপণন অধিদফতর সূত্রে জানা গেছে, ২৫ এপ্রিল অধিদফতরের মহাপরিচালক মোহাম্মদ ইউসুফ বিআরটিসির চেয়ারম্যানের কাছে একটি চিঠি পাঠায়। চিঠিতে বলা হয়েছে, করোনাভাইরাসের কারণে দেশের কৃষি পণ্য উৎপাদনকারী ও ব্যবসায়ীরা পরিবহন সংকটে উদ্বৃত্ত অঞ্চল থেকে ঘাটতি অঞ্চলে পণ্য পরিবহন করতে পারছে না। ফলে পচনশীল কৃষিপণ্য নষ্ট হচ্ছে এবং কৃষক ভয়াবহ ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছে। এই অবস্থা সামগ্রিক কৃষি বিপণন ব্যবস্থা ও অর্থনীতিকে ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করছে। দেশের বিভিন্ন জেলায় কৃষি পণ্য সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে বিআরটিসির কিছুসংখ্যক ট্রাক জরুরি। তাই কৃষি পণ্য পরিবহনে ট্রাক ব্যবহারের জন্য বরাদ্দের অনুরোধ করা হল।

তবে অধিদফতর সূত্র বলছে, নির্দিষ্ট দূরত্বে ব্যক্তিমালিকানার সাধারণ একটি ট্রাক যে ভাড়া নেয়, বিআরটিসির ট্রাকের ভাড়া তার তুলনায় অনেক বেশি। মেহেরপুর থেকে ঢাকা পর্যন্ত ৩৩০ কিলোমিটার পাড়ি দিতে বিআরটিসির একটি ট্রাকে ভাড়া গুনতে হবে ২৯ হাজার ৭০০ টাকা। তবে সেই একই দূরত্ব অতিক্রম করতে সাধারণ একটি ট্রাক পণ্য পরিবহনে ১৭ হাজার টাকা নেয়। একইভাবে দিনাজপুর থেকে ঢাকা পর্যন্ত ৩৫০ কিলোমিটার পণ্য পরিবহনে বিআরটিসি ট্রাকের ভাড়া ৩১ হাজার ৫০০ টাকা। যেখানে সাধারণ পরিবহনে খরচ ২০ হাজার টাকা। অধিদফতর সূত্র আরও জানায়, বিআরটিসির কাছে চিঠি দেয়ার পর ভাড়ার বিষয়টি আমাদের নজরে এসেছে। তাই অধিদফতরের পক্ষ থেকে দু-একদিনের মধ্যে ভাড়া কমানোর অনুরোধ করে বিআরটিসির কাছে আরও একটি চিঠি পাঠানো হবে।

অধিদফতরের মহাপরিচালক মোহাম্মদ ইউসুফ যুগান্তরকে বলেন, সরকারি প্রতিষ্ঠানের ট্রাক হলে রাস্তায় চলাচল নিরবচ্ছিন্ন হবে। এই সময়ে বেসরকারি প্রতিষ্ঠান বা ব্যক্তিমালিকানার ট্রাক বিভিন্ন সমস্যার কারণে চলতে চায় না। তবে আমরা ভাড়ার বিষয়টি তুলনা করে দেখেছি সাধারণ ট্রাকের তুলনায় বিআরটিসির অনেক বেশি। যে কারণে আমরা এখন ভাড়া কমানোর জন্য আলোচনা চালিয়ে যাব। বিআরটিসির চেয়ারম্যান মোহাম্মদ এহছানে এলাহী বলেন, আমাদের বেশিরভাগ ট্রাক এখন সার ও খাদ্য পণ্য পরিবহনে ব্যবহার হচ্ছে। এছাড়া প্রায় দেড়শ’ ট্রাক এখনও রয়েছে। তাই এ সব ট্রাক আমরা কৃষি বিপণন অধিদফতরকে ভাড়া দিতে পারব। অতিরিক্ত ভাড়ার বিষয়ে তিনি বলেন, প্রথম থেকেই আমাদের এই ভাড়ায় নিয়মিত ট্রাক চলছে। তারপরও যদি কৃষি বিপণন অধিদফতর বেশি মনে করে, তবে আলোচনা সাপেক্ষে হয়তো আরও কিছুটা কমানো যেতে পারে।

এদিকে কৃষি বিপণন অধিদফতর সূত্র বলছে, শুধু বিআরটিসি’র ট্রাক ই নয়, shohoz.com-এর সঙ্গেও মালামাল পরিবহন ও অনলাইন বিপণন বিষয়ে আলোচনা চলছে। সবকিছু ঠিকঠাক থাকলে দ্রুত প্রতিষ্ঠানটির সঙ্গে চুক্তি হতে পারে। অন্যদিকে গত ৭ মে কৃষি মন্ত্রণালয়ের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী সারা দেশের বিভাগীয় কমিশনার ও জেলা প্রশাসকদের বরাবর চিঠি দিয়েছে অধিদফতর। চিঠিতে বলা হয়েছে ঢাকার সেচ ভবনে একটি কৃষকের বাজার রয়েছে। যেখানে সরাসরি কৃষকরা পণ্য এনে বিক্রি করছে। এই আদলে প্রতিটি জেলায় কৃষকের বাজার তৈরিতে জেলা প্রশাসকদের সহযোগিতা চাওয়া হয়েছে। চিঠিতে জেলা প্রশাসকদের আরও অনুরোধ করা হয়েছে, যাতে কৃষকের বাজার তৈরিতে কৃষি বিপণন অধিদফতরের কর্মকর্তাদের সহযোগিতা করা হয়।

 

সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত