রংপুরে দুগ্ধ খামারিদের মাসে লোকসান ৩ কোটি টাকা
jugantor
রংপুরে দুগ্ধ খামারিদের মাসে লোকসান ৩ কোটি টাকা

  মাহবুব রহমান, রংপুর ব্যুরো  

১৩ মে ২০২০, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

করোনা পরিস্থিতির কারণে ক্রেতা না থাকায় সারা দেশের মতো রংপুরের দুগ্ধ খামারিরাও উৎপাদিত দুধ নিয়ে চরম বিপাকে পড়েছেন। জরুরি পরিষেবা ছাড়া সব ধরনের ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকায় দুধ বাজারজাত করা যাচ্ছে না। ফলে দুগ্ধ খামারিরা চরম লোকসানের মুখে পড়ে পুঁজি হারাতে বসেছেন। রংপুর জেলায় ছোট-বড় মিলিয়ে দুগ্ধ খামারের সংখ্যা প্রায় সাড়ে ৪ হাজার। এসব খামারে গড়ে প্রতিদিন উৎপাদন হয় ১ লাখ ২৫ হাজার লিটার দুধ। উৎপাদিত দুধের ষাট শতাংশ বিক্রি হয় বাসাবাড়ি, হোটেল আর মিষ্টির দোকানে। বাকি চল্লিশ শতাংশ কিনে নেয় বিভিন্ন দুগ্ধ প্রক্রিয়াজাত কোম্পানি। চলমান সাধারণ ছুটিতে রংপুর জেলার দুগ্ধ খামারিদের প্রতিদিন ক্ষতি গুনতে হচ্ছে ১০ লাখ টাকা। আর গেল এক মাসে এই লোকসানের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৩ কোটি টাকার বেশি।

এ লোকসানের কারণে দুগ্ধ খামারের ওপর নির্ভরশীল প্রায় ত্রিশ হাজার মানুষ প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। তবে সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রী ঘোষিত প্রণোদনায় তাদের মধ্যে কিছুটা স্বস্তি ফিরেছে। এখন খামার টিকিয়ে রাখতে জরুরি অনুদান চাইছেন তারা। রংপুর নগরীর রবার্টসনগঞ্জ তাঁতীপাড়ার এসআর দুগ্ধ খামারে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, করোনার কারণে এখন কোম্পানিগুলো পরিবহন ব্যবস্থা সীমিত করেছে। খামারিদের কাছ থেকে আগের মতো দুধ কিনছেন না। যা নিচ্ছে তাও পরিমাণে অনেক কম। আর শহরের চা-মিষ্টির দোকানসহ হোটেল-রেস্তোরাঁ বন্ধ থাকায় এখন উৎপাদিত দুধ কম দামে বিক্রি করতে হচ্ছে।

অন্যদিকে নগরীর সাতমাথা, বীরভদ্র বালাটারি, তামপাট, নূরপুর মহাদেবপুর ও গুপ্তপাড়া গ্রামের খামারিরা জানান, বর্তমানে প্রতি লিটার দুধ উৎপাদনে তাদের খরচ হচ্ছে চল্লিশ টাকা। কিন্তু এর চেয়ে কম দামে বিক্রি করতে হচ্ছে। রংপুর ডেইরি ফারমার্স অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক এসএম আসিফুল ইসলাম বলেন, রংপুরে প্রতিদিন উৎপাদিত দুধ ঠিকমতো বিক্রি হচ্ছে। লকডাউনের কারণে হোটেল আর মিষ্টির দোকানসহ দুধ সরবরাহকারী ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকায় প্রতিদিন অবিক্রীত থেকে যাচ্ছে বিপুল পরিমাণ দুধ। বাধ্য হয়ে অনেকেই ত্রিশ টাকা লিটারে দুধ বিক্রি করছেন। রংপুর ডেইরি ফারমার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি লতিফুর রহমান বলেন, প্রতিটি খামার লোকসানে আছে। প্রতিদিন প্রায় ১০ লাখ টাকার ক্ষতি হচ্ছে। এভাবে গেল এক মাসে তিন কোটি টাকার বেশি লোকসান হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে দুগ্ধ খামারে উৎপাদন ধরে রাখতে ও লোকসান কাটিয়ে উঠতে এখন প্রণোদনার অর্থ দ্রুত দেয়ার ব্যবস্থা করতে হবে। অন্যথায় এই দুর্যোগে খামার টিকিয়ে রাখা কষ্টকর হবে। জেলা প্রাণিসম্পদ অধিদফতরের কর্মকর্তা শাহাজালাল খন্দকার বলেন, বর্তমান পরিস্থিতি কারও অনুকূলে নেই। এ অবস্থায় খামারিদের উৎপাদিত দুধ বিক্রির ক্রেতা সংকট সৃষ্টি হয়েছে। তবে লোকসান কমাতে খামারিদের দানা খাবারের নির্ভরশীলতা কমাতে হবে। বর্তমানে সবুজ ঘাসের মৌসুম চলছে, তাই দানাদার খাবারের পরিবর্তে সবুজ ঘাস খাওয়ানোর ব্যবস্থা করলেও খামারিদের খরচ অনেক কমে আসবে।

রংপুরে দুগ্ধ খামারিদের মাসে লোকসান ৩ কোটি টাকা

 মাহবুব রহমান, রংপুর ব্যুরো 
১৩ মে ২০২০, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

করোনা পরিস্থিতির কারণে ক্রেতা না থাকায় সারা দেশের মতো রংপুরের দুগ্ধ খামারিরাও উৎপাদিত দুধ নিয়ে চরম বিপাকে পড়েছেন। জরুরি পরিষেবা ছাড়া সব ধরনের ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকায় দুধ বাজারজাত করা যাচ্ছে না। ফলে দুগ্ধ খামারিরা চরম লোকসানের মুখে পড়ে পুঁজি হারাতে বসেছেন। রংপুর জেলায় ছোট-বড় মিলিয়ে দুগ্ধ খামারের সংখ্যা প্রায় সাড়ে ৪ হাজার। এসব খামারে গড়ে প্রতিদিন উৎপাদন হয় ১ লাখ ২৫ হাজার লিটার দুধ। উৎপাদিত দুধের ষাট শতাংশ বিক্রি হয় বাসাবাড়ি, হোটেল আর মিষ্টির দোকানে। বাকি চল্লিশ শতাংশ কিনে নেয় বিভিন্ন দুগ্ধ প্রক্রিয়াজাত কোম্পানি। চলমান সাধারণ ছুটিতে রংপুর জেলার দুগ্ধ খামারিদের প্রতিদিন ক্ষতি গুনতে হচ্ছে ১০ লাখ টাকা। আর গেল এক মাসে এই লোকসানের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৩ কোটি টাকার বেশি।

এ লোকসানের কারণে দুগ্ধ খামারের ওপর নির্ভরশীল প্রায় ত্রিশ হাজার মানুষ প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। তবে সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রী ঘোষিত প্রণোদনায় তাদের মধ্যে কিছুটা স্বস্তি ফিরেছে। এখন খামার টিকিয়ে রাখতে জরুরি অনুদান চাইছেন তারা। রংপুর নগরীর রবার্টসনগঞ্জ তাঁতীপাড়ার এসআর দুগ্ধ খামারে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, করোনার কারণে এখন কোম্পানিগুলো পরিবহন ব্যবস্থা সীমিত করেছে। খামারিদের কাছ থেকে আগের মতো দুধ কিনছেন না। যা নিচ্ছে তাও পরিমাণে অনেক কম। আর শহরের চা-মিষ্টির দোকানসহ হোটেল-রেস্তোরাঁ বন্ধ থাকায় এখন উৎপাদিত দুধ কম দামে বিক্রি করতে হচ্ছে।

অন্যদিকে নগরীর সাতমাথা, বীরভদ্র বালাটারি, তামপাট, নূরপুর মহাদেবপুর ও গুপ্তপাড়া গ্রামের খামারিরা জানান, বর্তমানে প্রতি লিটার দুধ উৎপাদনে তাদের খরচ হচ্ছে চল্লিশ টাকা। কিন্তু এর চেয়ে কম দামে বিক্রি করতে হচ্ছে। রংপুর ডেইরি ফারমার্স অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক এসএম আসিফুল ইসলাম বলেন, রংপুরে প্রতিদিন উৎপাদিত দুধ ঠিকমতো বিক্রি হচ্ছে। লকডাউনের কারণে হোটেল আর মিষ্টির দোকানসহ দুধ সরবরাহকারী ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকায় প্রতিদিন অবিক্রীত থেকে যাচ্ছে বিপুল পরিমাণ দুধ। বাধ্য হয়ে অনেকেই ত্রিশ টাকা লিটারে দুধ বিক্রি করছেন। রংপুর ডেইরি ফারমার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি লতিফুর রহমান বলেন, প্রতিটি খামার লোকসানে আছে। প্রতিদিন প্রায় ১০ লাখ টাকার ক্ষতি হচ্ছে। এভাবে গেল এক মাসে তিন কোটি টাকার বেশি লোকসান হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে দুগ্ধ খামারে উৎপাদন ধরে রাখতে ও লোকসান কাটিয়ে উঠতে এখন প্রণোদনার অর্থ দ্রুত দেয়ার ব্যবস্থা করতে হবে। অন্যথায় এই দুর্যোগে খামার টিকিয়ে রাখা কষ্টকর হবে। জেলা প্রাণিসম্পদ অধিদফতরের কর্মকর্তা শাহাজালাল খন্দকার বলেন, বর্তমান পরিস্থিতি কারও অনুকূলে নেই। এ অবস্থায় খামারিদের উৎপাদিত দুধ বিক্রির ক্রেতা সংকট সৃষ্টি হয়েছে। তবে লোকসান কমাতে খামারিদের দানা খাবারের নির্ভরশীলতা কমাতে হবে। বর্তমানে সবুজ ঘাসের মৌসুম চলছে, তাই দানাদার খাবারের পরিবর্তে সবুজ ঘাস খাওয়ানোর ব্যবস্থা করলেও খামারিদের খরচ অনেক কমে আসবে।