প্রতিদিনই বাড়ছে সংক্রমণ ও মৃত্যু
jugantor
চট্টগ্রামে করোনা পরিস্থিতি
প্রতিদিনই বাড়ছে সংক্রমণ ও মৃত্যু
হাসপাতালে শয্যা সংকটে ঘরে বসেই চিকিৎসা নিচ্ছেন অনেকে * রিপোর্ট পাওয়ার আগেই উপসর্গ নিয়ে মারা যাচ্ছেন কেউ কেউ

  নাসির উদ্দিন রকি, চট্টগ্রাম ব্যুরো  

১৪ মে ২০২০, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

চট্টগ্রামে প্রতিদিনই বাড়ছে করোনায় সংক্রমণ ও মৃত্যুর সংখ্যা। বুধবার পর্যন্ত চট্টগ্রামে করোনায় ২৪ জনের মৃত্যু হয়েছে। এ পর্যন্ত আক্রান্ত হয়েছেন ৪১৭ জন। চট্টগ্রামে করোনা চিকিৎসায় হাসপাতালে শয্যা আছে মাত্র ২২০টি।

তাই এত সংখ্যক রোগী নিয়ে চরম বিপাকে পড়েছে হাসপাতালগুলো। হাসপাতালে স্থান না হওয়ায় অধিকাংশ আক্রান্ত রোগীকে বাড়িতে বসে চিকিৎসা নিতে হচ্ছে। এদিকে করোনা পরীক্ষার ল্যাবে জমেছে নমুনার স্তূপ। নমুনা সংগ্রহের ৭-৮ দিন পর মিলছে রিপোর্ট। রিপোর্ট পাওয়ার আগেই উপসর্গ নিয়ে মারা যাচ্ছেন অনেকে।

বুধবার সকালে নগরীর বন্দর থানার মুনিরনগর এলাকার নিজ বাসায় করোনার উপসর্গ নিয়ে হোসেন মুরাদ (৫২) নামে এক আওয়ামী লীগ নেতা মারা গেছেন। করোনার উপসর্গ থাকায় রোববার তার শরীর থেকে নমুনা সংগ্রহ করে ল্যাবে পাঠানো হয়। তবে মৃত্যুর আগপর্যন্ত রিপোর্ট না আসায় তিনি জেনে যেতে পারেননি করোনায় আক্রান্ত ছিলেন কিনা।

এর আগে সোমবার করোনার উপসর্গ নিয়ে মারা যান জামশেদ হায়দার চৌধুরী নামে এক ব্যাংকার। নগরীর মেহেদীবাগ এলাকার এই বাসিন্দা এনসিসি ব্যাংক চট্টগ্রাম আগ্রাবাদ শাখার অ্যাসিস্ট্যান্ট ভাইস প্রেসিডেন্ট ছিলেন। ব্যাংকের একই শাখার আরও এক কর্মকর্তার মৃত্যু হয়েছে করোনা উপসর্গ নিয়ে। এভাবে করোনার থাবায় মারা যাওয়া বেশির ভাগ ব্যক্তির রিপোর্ট পাওয়া যাচ্ছে মৃত্যুর পর।

তাই প্রতিরোধ ব্যবস্থা নিতে না পারার কারণে সংক্রমণও হু হু করে বাড়ছে। মঙ্গলবার সাবেক সিটি মেয়র প্রয়াত এবিএম মহিউদ্দিন চৌধুরীর স্ত্রী হাসিনা মহিউদ্দিন করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন। তার বাসার দুই গৃহ পরিচারিকার শরীরেও করোনা পজিটিভ পাওয়া গেছে। এর আগে রোববার সাবেক সিটি মেয়র এবিএম মহিউদ্দিন চৌধুরীর ছোট ছেলে বোরহানুল হাসান চৌধুরী সালেহীন করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হন।

সর্বশেষ চট্টগ্রামে করোনা আক্রান্ত হয়েছেন সাইফুল ইসলাম শিল্পী নামে অনলাইন পোর্টালের একজন সাংবাদিক, মুক্তিযোদ্ধা সাংবাদিক নাসিরুদ্দিন চৌধুরীর মেয়ে ডা. নাজনিন ইসলামসহ বেশ কয়েকজন। এ নিয়ে চট্টগ্রামে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার ৪১৭ জন মানুষ করোনা আক্রান্ত হয়েছেন।

সবচেয়ে বেশি আক্রান্ত রোগী শনাক্ত হয়েছে গত চার দিনে। ওই সময়ে আক্রান্ত হয়েছেন ২১১ জন। এর মধ্যে বুধবার ৮৫ জন, মঙ্গলবার ৬৪ জন, সোমবার ৪৯ জন এবং রোববার ১৩ জন আক্রান্ত হন। চট্টগ্রাম সিভিল সার্জন কার্যালয় সূত্র জানিয়েছে, চট্টগ্রামে করোনা

চিকিৎসায় হাসপাতালগুলোতে সিট আছে মাত্র ২২০টি। এর মধ্যে চট্টগ্রাম জেনারেল হাসপাতালে ১০০ সিটের আইসোলেশনসহ আছে ১০ সিটের আইসিইউ ওয়ার্ড, ফৌজদারহাটের বিশেষায়িত হাসপাতাল বিআইটিআইডিতে ৩০ সিটের আইসোলেশন ওয়ার্ড ও ফৌজদারহাট ফিল্ড হাসপাতালে আছে ৫০ সিট এবং চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে আছে ৩০ সিটের অবজারভেশন ওয়ার্ড।

জানতে চাইলে চট্টগ্রাম সিভিল সার্জন ডা. সেখ ফজলে রাব্বি বলেন, করোনা চিকিৎসায় শয্যা বাড়ানোর চেষ্টা চলছে। চট্টগ্রামে তিনটি হাসপাতালে করোনা রোগীদের চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে। এর বাইরে চমেক হাসপাতালের ৩০ সিটের অবজারভেশন ওয়ার্ডকে ১০০ সিটের আইসোলেশন ওয়ার্ড করার কথা ভাবছে চমেক কর্তৃপক্ষ। প্রস্তুত হচ্ছে বেসরকারি হাসপাতাল হলি ক্রিসেন্ট।

এরপরও যদি প্রয়োজন হয় তাহলে আমরা বেসরকারি হাসপাতালগুলো ব্যবহার করব। তিনি আরও জানান, পরীক্ষার জন্য যে হারে বিআইটিআইডিতে নমুনা আসছে সেভাবে পরীক্ষা না হওয়ায় নমুনা জমে যাচ্ছে। ফলে নমুনা পাওয়ার কয়েক দিন পর পরীক্ষার রিপোর্ট পাওয়া যাচ্ছে।

চট্টগ্রামে করোনা পরিস্থিতি

প্রতিদিনই বাড়ছে সংক্রমণ ও মৃত্যু

হাসপাতালে শয্যা সংকটে ঘরে বসেই চিকিৎসা নিচ্ছেন অনেকে * রিপোর্ট পাওয়ার আগেই উপসর্গ নিয়ে মারা যাচ্ছেন কেউ কেউ
 নাসির উদ্দিন রকি, চট্টগ্রাম ব্যুরো 
১৪ মে ২০২০, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

চট্টগ্রামে প্রতিদিনই বাড়ছে করোনায় সংক্রমণ ও মৃত্যুর সংখ্যা। বুধবার পর্যন্ত চট্টগ্রামে করোনায় ২৪ জনের মৃত্যু হয়েছে। এ পর্যন্ত আক্রান্ত হয়েছেন ৪১৭ জন। চট্টগ্রামে করোনা চিকিৎসায় হাসপাতালে শয্যা আছে মাত্র ২২০টি।

তাই এত সংখ্যক রোগী নিয়ে চরম বিপাকে পড়েছে হাসপাতালগুলো। হাসপাতালে স্থান না হওয়ায় অধিকাংশ আক্রান্ত রোগীকে বাড়িতে বসে চিকিৎসা নিতে হচ্ছে। এদিকে করোনা পরীক্ষার ল্যাবে জমেছে নমুনার স্তূপ। নমুনা সংগ্রহের ৭-৮ দিন পর মিলছে রিপোর্ট। রিপোর্ট পাওয়ার আগেই উপসর্গ নিয়ে মারা যাচ্ছেন অনেকে।

বুধবার সকালে নগরীর বন্দর থানার মুনিরনগর এলাকার নিজ বাসায় করোনার উপসর্গ নিয়ে হোসেন মুরাদ (৫২) নামে এক আওয়ামী লীগ নেতা মারা গেছেন। করোনার উপসর্গ থাকায় রোববার তার শরীর থেকে নমুনা সংগ্রহ করে ল্যাবে পাঠানো হয়। তবে মৃত্যুর আগপর্যন্ত রিপোর্ট না আসায় তিনি জেনে যেতে পারেননি করোনায় আক্রান্ত ছিলেন কিনা।

এর আগে সোমবার করোনার উপসর্গ নিয়ে মারা যান জামশেদ হায়দার চৌধুরী নামে এক ব্যাংকার। নগরীর মেহেদীবাগ এলাকার এই বাসিন্দা এনসিসি ব্যাংক চট্টগ্রাম আগ্রাবাদ শাখার অ্যাসিস্ট্যান্ট ভাইস প্রেসিডেন্ট ছিলেন। ব্যাংকের একই শাখার আরও এক কর্মকর্তার মৃত্যু হয়েছে করোনা উপসর্গ নিয়ে। এভাবে করোনার থাবায় মারা যাওয়া বেশির ভাগ ব্যক্তির রিপোর্ট পাওয়া যাচ্ছে মৃত্যুর পর।

তাই প্রতিরোধ ব্যবস্থা নিতে না পারার কারণে সংক্রমণও হু হু করে বাড়ছে। মঙ্গলবার সাবেক সিটি মেয়র প্রয়াত এবিএম মহিউদ্দিন চৌধুরীর স্ত্রী হাসিনা মহিউদ্দিন করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন। তার বাসার দুই গৃহ পরিচারিকার শরীরেও করোনা পজিটিভ পাওয়া গেছে। এর আগে রোববার সাবেক সিটি মেয়র এবিএম মহিউদ্দিন চৌধুরীর ছোট ছেলে বোরহানুল হাসান চৌধুরী সালেহীন করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হন।

সর্বশেষ চট্টগ্রামে করোনা আক্রান্ত হয়েছেন সাইফুল ইসলাম শিল্পী নামে অনলাইন পোর্টালের একজন সাংবাদিক, মুক্তিযোদ্ধা সাংবাদিক নাসিরুদ্দিন চৌধুরীর মেয়ে ডা. নাজনিন ইসলামসহ বেশ কয়েকজন। এ নিয়ে চট্টগ্রামে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার ৪১৭ জন মানুষ করোনা আক্রান্ত হয়েছেন।

সবচেয়ে বেশি আক্রান্ত রোগী শনাক্ত হয়েছে গত চার দিনে। ওই সময়ে আক্রান্ত হয়েছেন ২১১ জন। এর মধ্যে বুধবার ৮৫ জন, মঙ্গলবার ৬৪ জন, সোমবার ৪৯ জন এবং রোববার ১৩ জন আক্রান্ত হন। চট্টগ্রাম সিভিল সার্জন কার্যালয় সূত্র জানিয়েছে, চট্টগ্রামে করোনা

চিকিৎসায় হাসপাতালগুলোতে সিট আছে মাত্র ২২০টি। এর মধ্যে চট্টগ্রাম জেনারেল হাসপাতালে ১০০ সিটের আইসোলেশনসহ আছে ১০ সিটের আইসিইউ ওয়ার্ড, ফৌজদারহাটের বিশেষায়িত হাসপাতাল বিআইটিআইডিতে ৩০ সিটের আইসোলেশন ওয়ার্ড ও ফৌজদারহাট ফিল্ড হাসপাতালে আছে ৫০ সিট এবং চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে আছে ৩০ সিটের অবজারভেশন ওয়ার্ড।

জানতে চাইলে চট্টগ্রাম সিভিল সার্জন ডা. সেখ ফজলে রাব্বি বলেন, করোনা চিকিৎসায় শয্যা বাড়ানোর চেষ্টা চলছে। চট্টগ্রামে তিনটি হাসপাতালে করোনা রোগীদের চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে। এর বাইরে চমেক হাসপাতালের ৩০ সিটের অবজারভেশন ওয়ার্ডকে ১০০ সিটের আইসোলেশন ওয়ার্ড করার কথা ভাবছে চমেক কর্তৃপক্ষ। প্রস্তুত হচ্ছে বেসরকারি হাসপাতাল হলি ক্রিসেন্ট।

এরপরও যদি প্রয়োজন হয় তাহলে আমরা বেসরকারি হাসপাতালগুলো ব্যবহার করব। তিনি আরও জানান, পরীক্ষার জন্য যে হারে বিআইটিআইডিতে নমুনা আসছে সেভাবে পরীক্ষা না হওয়ায় নমুনা জমে যাচ্ছে। ফলে নমুনা পাওয়ার কয়েক দিন পর পরীক্ষার রিপোর্ট পাওয়া যাচ্ছে।