দিনে ৫ বছরের কম বয়সী ৬ হাজার শিশুর মৃত্যুর শঙ্কা
jugantor
কোভিড-১৯ এর প্রভাবে কমেছে চিকিৎসা প্রাপ্তি
দিনে ৫ বছরের কম বয়সী ৬ হাজার শিশুর মৃত্যুর শঙ্কা

  যুগান্তর রিপোর্ট  

১৪ মে ২০২০, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

বাংলাদেশে কোভিড-১৯ মহামারীর কারণে ৫ বছরের কম বয়সী শিশুদের জরুরি স্বাস্থ্য সেবা প্রাপ্তি উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। এক হিসাবে দেখা গেছে, ২০১৯ সালের মার্চের তুলনায় ২০২০ সালের মার্চে সেবা গ্রহণ ২৫ শতাংশ কম। এ ধারা অব্যাহত থাকলে বাংলাদেশে দুর্বল স্বাস্থ্য ব্যবস্থায় থাকা ৫ বছরের কম বয়সী অতিরিক্ত ৬ হাজার শিশু প্রতিদিন মারা যেতে পারে- বলে আশঙ্কা করছে ইউনিসেফ। বুধবার ইউনিসেফ এ তথ্য জানিয়েছে।

বাংলাদেশে ইউনিসেফের প্রতিনিধি তোমো হোযুমি বলেন, মহামারীর কারণে স্বাস্থ্য সেবা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেলে প্রতিরোধযোগ্য ও আরোগ্য লাভ করা সম্ভব এমন অবস্থা থেকে হাজার হাজার শিশু মারা যেতে পারে। নারী ও শিশুদের জন্য জীবনরক্ষাকারী সেবা সহজলভ্য, নিরাপদ এবং সেবা গ্রহণের সুযোগ নিশ্চিত করতে বাংলাদেশ সরকারের সঙ্গে নিবিড়ভাবে কাজ করছে ইউনিসেফ। মাতৃ ও নবজাতকের স্বাস্থ্য সেবা প্রাপ্তিও প্রায় ১৯ শতাংশের মতো কমেছে। স্বাস্থ্য অধিদফতরের তথ্যমতে- ২০১৯ সালের অক্টোবর-ডিসেম্বরের তুলনায় ২০২০ সালের জানুয়ারি-মার্চে গর্ভকালীন সেবার জন্য স্বাস্থ্য কেন্দ্রে যাওয়া ও সন্তান জন্মের পর স্বাস্থ্য সেবা কেন্দ্রে গিয়ে চেকআপের মতো জরুরি মাতৃ স্বাস্থ্য সেবা গ্রহণ ব্যাপক মাত্রায় কমেছে। এছাড়া স্বাস্থ্য সেবা কেন্দ্রে সন্তান জন্ম দান ২০১৯ সালের অক্টোবর-ডিসেম্ব^রের তুলনায় ২০২০-এর জানুয়ারি-মার্চে ২১ দশমিক ২ শতাংশ কমেছে। মহামারীর কারণে বাংলাদেশে হাম ও রুবেলার টিকাদান ক্যাম্পেইন স্থগিত করা হয়েছে, যেখানে ৯ মাস থেকে ৯ বছর বয়সী ৩ কোটি ৪০ লাখ শিশুকে টিকা দেয়ার লক্ষ্য নির্ধারিত হয়েছিল। শিশুদের নিয়মিত টিকাদান চালু থাকলেও অনেক ক্ষেত্রে নির্ধারিত সময়ে টিকা দেয়া হচ্ছে না এবং লকডাউনের কারণে স্বাস্থ্য সেবা কেন্দ্রগুলোতে টিকা পরিবহনও চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

নতুন এক গবেষণায় আভাস দেয়া হয়েছে, বাংলাদেশে স্বাস্থ্য সেবা গ্রহণ আরও কমে গেলে আগামী ৬ মাসে মহামারীর পরোক্ষ প্রভাবে সম্ভাব্য সবচেয়ে খারাপ পরিস্থিতিতে ৫ বছরের কম বয়সী অতিরিক্ত ২৮ হাজার শিশুর মৃত্যু হতে পারে। উচ্চতার অনুপাতে ওজন কম হওয়া, যা অপুষ্টির একটি ধরন, ৫ বছরের কম বয়সী এসব শিশুর মৃত্যুর ক্ষেত্রে একটি বড় ভূমিকা রাখবে।

ল্যানসেট গ্লোবাল হেলথ জার্নালে প্রকাশিত জনস হপকিনস বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি গবেষণার ভিত্তিতে শিশু মৃত্যুর আনুমানিক এ পরিসংখ্যান দেয়া হয়েছে। মহামারী সবচেয়ে খারাপ অবস্থায় উপনীত হলে ১১৮টি নিু ও মধ্য আয়ের দেশে আগামী ৬ মাসের মধ্যে নিয়মিত স্বাস্থ্য সেবা বিঘ্নিত হয়ে ও শিশু অপুষ্টি বেড়ে ৫ বছরের কম বয়সী অতিরিক্ত ১২ লাখ শিশুর মৃত্যু হতে পারে।

জীবন রক্ষাকারী সেবা হ্রাসের প্রভাবে শিশু এবং মাতৃ মৃত্যুর ক্ষেত্রে সবচেয়ে খারাপ পরিস্থিতি কি হতে পারে সেরকম তিনটি পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করেছে প্রতিবেদনটি। প্রতিবেদনে সতর্ক করা হয়েছে, সবচেয়ে খারাপ পরিস্থিতিতে যেখানে সেবা গ্রহণ ১৫ শতাংশ হ্রাস পাবে। সেখানে ৫ বছরের কম বয়সী শিশু মারা যাওয়া ৯ দশমিক ৮ শতাংশ বাড়বে বা একদিনে আনুমানিক ১৪শ’ জনের মৃত্যু হতে পারে এবং মাতৃ মৃত্যু ৮ দশমিক ৩ শতাংশ বাড়তে পারে।

সতর্ক করা হয়েছে যে, সম্ভাব্য সবচেয়ে খারাপ পরিস্থিতির পাশাপাশি স্বাস্থ্য সেবা গ্রহণ ৪৫ শতাংশ কমে গেলে প্রতি মাসে ৫ বছরের কম বয়সী শিশু মৃত্যু ৪৪ দশমিক ৭ শতাংশ এবং মাতৃ মৃত্যু ৩৮ দশমিক ৬ শতাংশ বাড়বে।

এ ১১৮টি দেশে প্রতি ৬ মাসে ৫ বছরের কম বয়সী যে ২৫ লাখ শিশুর মৃত্যু হয় তার বাইরে এসব সম্ভাব্য শিশু মৃত্যুর কথা বলা হয়েছে এ গবেষণায়। যা প্রায় এক দশকে শিশু মৃত্যু রোধে অর্জিত অগ্রগতি পেছনে টেনে নেয়ার হুমকি তৈরি করেছে। ইউনিসেফের নির্বাহী পরিচালক হেনরিয়েটা ফোর বলেন, যখন থেকে আমরা তথ্য সংগ্রহ শুরু করেছি তারপর এবারই প্রথম পঞ্চম জন্মবার্ষিকীর আগে শিশুদের মৃত্যুর সংখ্যা সবচেয়ে বেশি হওয়ার বাস্তব ঝুঁকি দেখা দিয়েছে।

মহামারীর সবচেয়ে খারাপ পরিস্থিতিতে স্বাস্থ্য সেবা গ্রহণ কমে যাওয়ার ফলে যে ১০টি দেশে সর্বাধিক সংখ্যক অতিরিক্ত শিশু মৃত্যু ঘটার ঝুঁকি রয়েছে সেগুলো হল- বাংলাদেশ, ব্রাজিল, গণপ্রজাতন্ত্রী কঙ্গো, ইথিওপিয়া, ভারত, ইন্দোনেশিয়া, নাইজেরিয়া, পাকিস্তান, উগান্ডা ও তাঞ্জানিয়া। আর যে ১০টি দেশে সবচেয়ে বেশি অতিরিক্ত শিশু মৃত্যু হার হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে সেগুলো হল- জিবুতি, এস্তোনিয়া, লেসোথো, লাইবেরিয়া, মালি, মালাবি, নাইজেরিয়া, পাকিস্তান, সিয়েরা লিওন ও সোমালিয়া।

কোভিড-১৯ এর প্রভাবে কমেছে চিকিৎসা প্রাপ্তি

দিনে ৫ বছরের কম বয়সী ৬ হাজার শিশুর মৃত্যুর শঙ্কা

 যুগান্তর রিপোর্ট 
১৪ মে ২০২০, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

বাংলাদেশে কোভিড-১৯ মহামারীর কারণে ৫ বছরের কম বয়সী শিশুদের জরুরি স্বাস্থ্য সেবা প্রাপ্তি উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। এক হিসাবে দেখা গেছে, ২০১৯ সালের মার্চের তুলনায় ২০২০ সালের মার্চে সেবা গ্রহণ ২৫ শতাংশ কম। এ ধারা অব্যাহত থাকলে বাংলাদেশে দুর্বল স্বাস্থ্য ব্যবস্থায় থাকা ৫ বছরের কম বয়সী অতিরিক্ত ৬ হাজার শিশু প্রতিদিন মারা যেতে পারে- বলে আশঙ্কা করছে ইউনিসেফ। বুধবার ইউনিসেফ এ তথ্য জানিয়েছে।

বাংলাদেশে ইউনিসেফের প্রতিনিধি তোমো হোযুমি বলেন, মহামারীর কারণে স্বাস্থ্য সেবা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেলে প্রতিরোধযোগ্য ও আরোগ্য লাভ করা সম্ভব এমন অবস্থা থেকে হাজার হাজার শিশু মারা যেতে পারে। নারী ও শিশুদের জন্য জীবনরক্ষাকারী সেবা সহজলভ্য, নিরাপদ এবং সেবা গ্রহণের সুযোগ নিশ্চিত করতে বাংলাদেশ সরকারের সঙ্গে নিবিড়ভাবে কাজ করছে ইউনিসেফ। মাতৃ ও নবজাতকের স্বাস্থ্য সেবা প্রাপ্তিও প্রায় ১৯ শতাংশের মতো কমেছে। স্বাস্থ্য অধিদফতরের তথ্যমতে- ২০১৯ সালের অক্টোবর-ডিসেম্বরের তুলনায় ২০২০ সালের জানুয়ারি-মার্চে গর্ভকালীন সেবার জন্য স্বাস্থ্য কেন্দ্রে যাওয়া ও সন্তান জন্মের পর স্বাস্থ্য সেবা কেন্দ্রে গিয়ে চেকআপের মতো জরুরি মাতৃ স্বাস্থ্য সেবা গ্রহণ ব্যাপক মাত্রায় কমেছে। এছাড়া স্বাস্থ্য সেবা কেন্দ্রে সন্তান জন্ম দান ২০১৯ সালের অক্টোবর-ডিসেম্ব^রের তুলনায় ২০২০-এর জানুয়ারি-মার্চে ২১ দশমিক ২ শতাংশ কমেছে। মহামারীর কারণে বাংলাদেশে হাম ও রুবেলার টিকাদান ক্যাম্পেইন স্থগিত করা হয়েছে, যেখানে ৯ মাস থেকে ৯ বছর বয়সী ৩ কোটি ৪০ লাখ শিশুকে টিকা দেয়ার লক্ষ্য নির্ধারিত হয়েছিল। শিশুদের নিয়মিত টিকাদান চালু থাকলেও অনেক ক্ষেত্রে নির্ধারিত সময়ে টিকা দেয়া হচ্ছে না এবং লকডাউনের কারণে স্বাস্থ্য সেবা কেন্দ্রগুলোতে টিকা পরিবহনও চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

নতুন এক গবেষণায় আভাস দেয়া হয়েছে, বাংলাদেশে স্বাস্থ্য সেবা গ্রহণ আরও কমে গেলে আগামী ৬ মাসে মহামারীর পরোক্ষ প্রভাবে সম্ভাব্য সবচেয়ে খারাপ পরিস্থিতিতে ৫ বছরের কম বয়সী অতিরিক্ত ২৮ হাজার শিশুর মৃত্যু হতে পারে। উচ্চতার অনুপাতে ওজন কম হওয়া, যা অপুষ্টির একটি ধরন, ৫ বছরের কম বয়সী এসব শিশুর মৃত্যুর ক্ষেত্রে একটি বড় ভূমিকা রাখবে।

ল্যানসেট গ্লোবাল হেলথ জার্নালে প্রকাশিত জনস হপকিনস বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি গবেষণার ভিত্তিতে শিশু মৃত্যুর আনুমানিক এ পরিসংখ্যান দেয়া হয়েছে। মহামারী সবচেয়ে খারাপ অবস্থায় উপনীত হলে ১১৮টি নিু ও মধ্য আয়ের দেশে আগামী ৬ মাসের মধ্যে নিয়মিত স্বাস্থ্য সেবা বিঘ্নিত হয়ে ও শিশু অপুষ্টি বেড়ে ৫ বছরের কম বয়সী অতিরিক্ত ১২ লাখ শিশুর মৃত্যু হতে পারে।

জীবন রক্ষাকারী সেবা হ্রাসের প্রভাবে শিশু এবং মাতৃ মৃত্যুর ক্ষেত্রে সবচেয়ে খারাপ পরিস্থিতি কি হতে পারে সেরকম তিনটি পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করেছে প্রতিবেদনটি। প্রতিবেদনে সতর্ক করা হয়েছে, সবচেয়ে খারাপ পরিস্থিতিতে যেখানে সেবা গ্রহণ ১৫ শতাংশ হ্রাস পাবে। সেখানে ৫ বছরের কম বয়সী শিশু মারা যাওয়া ৯ দশমিক ৮ শতাংশ বাড়বে বা একদিনে আনুমানিক ১৪শ’ জনের মৃত্যু হতে পারে এবং মাতৃ মৃত্যু ৮ দশমিক ৩ শতাংশ বাড়তে পারে।

সতর্ক করা হয়েছে যে, সম্ভাব্য সবচেয়ে খারাপ পরিস্থিতির পাশাপাশি স্বাস্থ্য সেবা গ্রহণ ৪৫ শতাংশ কমে গেলে প্রতি মাসে ৫ বছরের কম বয়সী শিশু মৃত্যু ৪৪ দশমিক ৭ শতাংশ এবং মাতৃ মৃত্যু ৩৮ দশমিক ৬ শতাংশ বাড়বে।

এ ১১৮টি দেশে প্রতি ৬ মাসে ৫ বছরের কম বয়সী যে ২৫ লাখ শিশুর মৃত্যু হয় তার বাইরে এসব সম্ভাব্য শিশু মৃত্যুর কথা বলা হয়েছে এ গবেষণায়। যা প্রায় এক দশকে শিশু মৃত্যু রোধে অর্জিত অগ্রগতি পেছনে টেনে নেয়ার হুমকি তৈরি করেছে। ইউনিসেফের নির্বাহী পরিচালক হেনরিয়েটা ফোর বলেন, যখন থেকে আমরা তথ্য সংগ্রহ শুরু করেছি তারপর এবারই প্রথম পঞ্চম জন্মবার্ষিকীর আগে শিশুদের মৃত্যুর সংখ্যা সবচেয়ে বেশি হওয়ার বাস্তব ঝুঁকি দেখা দিয়েছে।

মহামারীর সবচেয়ে খারাপ পরিস্থিতিতে স্বাস্থ্য সেবা গ্রহণ কমে যাওয়ার ফলে যে ১০টি দেশে সর্বাধিক সংখ্যক অতিরিক্ত শিশু মৃত্যু ঘটার ঝুঁকি রয়েছে সেগুলো হল- বাংলাদেশ, ব্রাজিল, গণপ্রজাতন্ত্রী কঙ্গো, ইথিওপিয়া, ভারত, ইন্দোনেশিয়া, নাইজেরিয়া, পাকিস্তান, উগান্ডা ও তাঞ্জানিয়া। আর যে ১০টি দেশে সবচেয়ে বেশি অতিরিক্ত শিশু মৃত্যু হার হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে সেগুলো হল- জিবুতি, এস্তোনিয়া, লেসোথো, লাইবেরিয়া, মালি, মালাবি, নাইজেরিয়া, পাকিস্তান, সিয়েরা লিওন ও সোমালিয়া।