ডিএনসিসি মেয়রের দায়িত্ব নিলেন আতিকুল

করোনা ও ডেঙ্গু মোকাবেলায় বেশি প্রয়োজন ব্যক্তির সচেতনতা

  যুগান্তর রিপোর্ট ১৪ মে ২০২০, ০০:০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

করোনাভাইরাস ও ডেঙ্গু মোকাবেলায় সরকারি ও বেসরকারি উদ্যোগের চেয়ে ব্যক্তি পর্যায়ের সচেতনতা বেশি প্রয়োজন বলে জানিয়েছেন ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের (ডিএনসিসি) মেয়র মো. আতিকুল ইসলাম।

ডিএনসিসি মেয়রের দায়িত্ব গ্রহণের পর বুধবার দুপুরে অনলাইন ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের তিনি এ কথা জানান।

আতিকুল ইসলাম বলেন, করোনার সঙ্গে কেউ ডেঙ্গু আক্রান্ত হলে পরিস্থিতি খুবই জটিল আকার ধারণ করবে। এজন্য এবার আমরা ব্যাপক প্রস্তুতি গ্রহণ করেছি। মশকনিধন কার্যক্রমসহ ডেঙ্গু পরীক্ষার জন্য ২৭টি বুথ চালু করেছি। আর করোনা পরীক্ষার জন্য ৮টি স্যাম্পল কালেকশন বুথ খোলার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। ব্র্যাক ডিএনসিসিকে এ কাজে সহায়তা দিচ্ছে।

এর বাইরে ডিএনসিসির মহাখালী মার্কেট স্বাস্থ্য অধিদফতরের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে করোনা হাসপাতাল হিসেবে ব্যবহারের জন্য। এছাড়া মহাখালী কমিউনিটি সেন্টারে সাংবাদিক ও তাদের পরিবারের জন্য করোনা টেস্টের ব্যবস্থা করা হয়েছে।

তিনি বলেন, করোনাভাইরাস প্রতিরোধে ভয় নয়, একমাত্র সচেতনতাই পারে এ মহামারীকে রুখে দিতে। তাই নগরবাসীর প্রতি আমার অনুরোধ আপনাদের জীবনকে সুরক্ষিত রাখতে সকল স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলুন। এ দুর্যোগের সময়ে আমি এবং ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশন সবসময় আপনাদের পাশে রয়েছে। আমাদের পারস্পরিক সহযোগিতায় এ তিলোত্তমা নগরীতে আমরা আবার আমাদের স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসতে পারব।

দুপুর ১২টা ১৫ মিনিটে ডিএনসিসির ভারপ্রাপ্ত মেয়র মো. জামাল মোস্তফার কাছ থেকে দায়িত্ব গ্রহণ করেন মো. আতিকুল ইসলাম। এ সময় উপস্থিত ছিলেন ডিএনসিসির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আবদুল হাই, সচিব রবীন্দ্রশ্রী বড়ুয়া ও বিভাগীয় প্রধানরা। মেয়রের দায়িত্ব গ্রহণ শেষে দুপুর ১২টা ৪৫ মিনিটে তিনি অনলাইন প্রেস ব্রিফিংয়ে অংশগ্রহণ করেন।

ডিএনসিসি মেয়র বলেন, দেশ এবং পৃথিবী এখন মহাসংকটকাল পার করছে। পুরো বিশ্ব করোনাভাইরাসের আক্রমণে বিপদগ্রস্ত। বিশ্বের প্রতিটি বড় বড় শহরের মতো আমাদের প্রিয় তিলোত্তমা নগরীও স্থবির হয়ে পড়েছে। ইতোমধ্যেই প্রাণঘাতী করোনা ছড়িয়ে পড়ায় সব ধরনের প্রতিষ্ঠান বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে চিকিৎসা নিচ্ছেন অসংখ্য মানুষ, আমি তাদের দ্রুত রোগমুক্তি কামনা করছি। সেই সঙ্গে যারা প্রাণ হারিয়েছেন তাদের আত্মার মাগফেরাত কামনা করছি। এ সময় তিনি করোনা আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুবরণকারী সাংবাদিকদেরও আত্মার মাগফেরাত কামনা করেন।

তিনি বলেন, আমি কথা নয়, কাজে বিশ্বাসী। মেয়র পদে আনুষ্ঠানিক দায়িত্ব গ্রহণ করার আগে থেকেই এ মহাদুর্যোগের সময়ে আমি নগরবাসীর পাশে থেকে কাজ করে যাচ্ছি। সিটি কর্পোরেশনের কর্মীদের পাশে থেকে তাদেরকে অনুপ্রেরণা জোগানোর মাধ্যমে এবং ডিএনসিসির সঙ্গে সমন্বয় করে আমি নগরবাসীর জন্য সর্বোচ্চ সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করার চেষ্টা করেছি। আমি বিশ্বাস করি আমার ক্ষুদ্র চেষ্টা এ অস্থির সময়ে অসংখ্য মানুষের জীবনে সুখবার্তা নিয়ে আসবে। এ দুর্যোগের সময়ে নগরবাসীর জীবনযাপন স্বাভাবিক রাখতে আপনাদের সঙ্গে নিয়ে এ প্রচেষ্টা চলমান থাকবে।

লিখিত বক্তব্যে আতিকুল ইসলাম বলেন, ঢাকা শহরকে করোনাভাইরাসমুক্ত রাখতে ১০টি ওয়াটার ব্রাউজারের সাহায্যে তরল জীবাণুনাশক ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের বিভিন্ন এলাকার প্রধান সড়ক, ফুটপাত, ফুটওভারব্রিজ, কোয়ারেন্টাইন্ড এলাকা, হাসপাতাল, প্রতিষ্ঠানের সামনে, উন্মুক্ত স্থানে, প্রতিটি ওয়ার্ডের অলি-গলিতে হ্যান্ড স্প্রের মাধ্যমে তরল জীবাণুনাশক স্প্রে করা অব্যাহত রয়েছে। এছাড়া ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের গুরুত্বপূর্ণ কয়েকশ’ স্থানে পথচারীদের জন্য হাত ধোয়ার ব্যবস্থা করেছে।

তিনি বলেন, করোনা আক্রান্ত বা স্বাস্থ্যকর্মীদের হেনস্তা করলে সেই বাড়ির মালিকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হবে। যদি কেউ বাড়িওয়ালার হেনস্তার শিকার হন তবে তিনি সিটি কর্পোরেশনের হটলাইন নম্বর ৩৩৩-তে ফোন করে অভিযোগ জানাতে পারবেন।

তিনি আরও বলেন, মহামারী কবলিত জরুরি সেবা যেমন- বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, জীবাণুনাশক ওষুধ ছিটানো, মশক নিধন কাজে নিয়োজিত রয়েছেন সিটি কর্পোরেশনের অসংখ্য কর্মী। সার্বক্ষণিক মাঠে থাকা এ কর্মীদের ব্যক্তিগত সুরক্ষা নিশ্চিতে তাদের মাঝে হ্যান্ড স্যানিটাইজার, মাস্কসহ অন্যান্য নিরাপত্তা সামগ্রী বিতরণ করা হয়েছে। এছাড়া কীভাবে ব্যক্তিগত সুরক্ষা নিশ্চিত করে কাজ করতে হবে সে বিষয়ে তাদের প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা হচ্ছে। এ মহামারীর সময়ে নগরবাসীর সেবায় ডিএনসিসির যে সকল কর্মী কাজ করে যাচ্ছে তাদের জন্য আমি বিনা অর্থে স্বাস্থ্যবীমার ব্যবস্থা করছি। এ দুর্যোগের সময়ে যদি কোনো কর্মী করোনা রোগে আক্রান্ত হয় অথবা মারা যায় তবে তিনি এ স্বাস্থ্যবীমার আওতায় আর্থিক সহযোগিতা পাবেন। আমার পক্ষ থেকে এটি ডিএনসিসি কর্মীদের জন্য একটি ছোট উপহার।

সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, করোনা মহামারী ঠেকাতে নিত্যপণ্যের দোকান এবং কাঁচাবাজারে ডিএনসিসির পক্ষ থেকে দোকান মালিক ও ক্রেতাদের জন্য বিশেষ গাইডলাইন দেয়া হয়েছে। ইতোমধ্যে ডিএনসিসির ১৬টি কাঁচাবাজার উন্মুক্ত স্থানে স্থানান্তরিত করা হয়েছে যেন নগরবাসী আরও নিরাপদে দৈনন্দিন বাজার সম্পন্ন করতে পারেন।

আরেক প্রশ্নের জবাবে ডিএনসিসি মেয়র বলেন, করোনা দুর্যোগের ফলে নিম্ন আয়ের মানুষের আয় শূন্যের কোঠায়। না খেতে পাওয়া মানুষের মুখে খাবার তুলে দিতে প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিলের সহায়তায় বিভিন্ন ওয়ার্ডের প্রায় ৩ লাখ অসহায়, দুস্থ পরিবারের মধ্যে ত্রাণসামগ্রী বিতরণ করেছে ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের কাউন্সিলর ও কর্মকর্তারা। ত্রাণসামগ্রী বিতরণ অব্যাহত আছে। এ ছাড়া হটলাইন নম্বরে (৩৩৩) ফোন করে যে কেউ ডিএনসিসির কাছে ত্রাণ সহায়তা চাইতে পারে। এছাড়া আমি, আমার পরিবার, বন্ধু ও শুভাকাক্সক্ষীদের সহায়তায় ‘সবাই মিলে সবার ঢাকা’ ও বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনের মাধ্যমে ৫০ হাজারের বেশি দুস্থ পরিবারের মাঝে খাদ্যসামগ্রী উপহার হিসেবে বিতরণ করেছি। করোনাভাইরাস মোকাবেলায় এ বিতরণ কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।

 

সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত