লভ্যাংশ দিতে পারবে না ১৭ ব্যাংক

  যুগান্তর রিপোর্ট ১৪ মে ২০২০, ০০:০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

বাংলাদেশ ব্যাংকের নতুন নিয়ম অনুযায়ী ২০১৯ সালের ডিসেম্বরভিত্তিক লভ্যাংশ দিতে পারবে না ১৭টি ব্যাংক। কারণ কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে নেয়া সুযোগ-সুবিধা সমন্বয়ের পর ব্যাংকের মূলধন সংরক্ষণের হার ১০ শতাংশের নিচে নেমে আসবে। এ ব্যাংকগুলোর মধ্যে ৭টিই রাষ্ট্রায়ত্ত। মুনাফা ঘোষণার পর তা বণ্টন না করলে ব্যাংকগুলোর হাতে ৫-৬ হাজার কোটি টাকা থাকবে। ব্যাংকগুলোর অনিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন পর্যালোচনা করে এসব তথ্য জানা গেছে। তবে নিরীক্ষিত প্রতিবেদনে অযোগ্য ব্যাংকের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে।
গত ১১ মে ঘোষিত নীতিমালার আওতায় মূলধনের ওপর ভিত্তি করে ব্যাংকগুলোকে ৪টি ক্যাটাগরিতে ভাগ করা হয়েছে। প্রত্যেক ক্যাটাগরির মুনাফা ঘোষণার পরিমাণ বেঁধে দেয়া হয়েছে। তবে এ মূলধন হতে হবে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কাছ থেকে কোনো ধরনের সুযোগ-সুবিধা গ্রহণ ছাড়াই। কোনো ব্যাংক সুযোগ-সুবিধা গ্রহণ করলে তা সমন্বয় করে মূলধন হিসাব করতে হবে। খেলাপি ঋণ ও সাধারণ ঋণের বিপরীতে প্রভিশন সংরক্ষণ ব্যর্থ হলে সেই ব্যাংক মুনাফা ঘোষণা করতে পারবে না। সুযোগ-সুবিধা সমন্বয়ের পর যেসব ব্যাংকের মূলধন ১০ শতাংশের নিচে নেমে আসবে তারা ২০১৯ সালের ডিসেম্বরভিত্তিক মুনাফা বণ্টন করতে পারবে না। ২০১৯ সালের ১২টি ব্যাংকের প্রভিশন ঘাটতি এবং ১২টি ব্যাংকের মূলধন ঘাটতি ছিল। উভয় মিলে ১৭টি ব্যাংক মুনাফা ঘোষণাই করতে পারবে না।
পুঁজিবাজারে নিবন্ধিত ৩০টি ব্যাংকের মধ্যে মাত্র ৯টি ছাড়া সব ব্যাংক মুনাফা ঘোষণা করতে পারবে। এই ২১টি ব্যাংকের মধ্যে একটি ব্যাংক ছাড়া বাকি ২০টি ব্যাংকের মূলধন ১২ দশমিক ৫০ শতাংশের ওপরে। এ ব্যাংকগুলো নীতিমালা অনুসারে সর্বোচ্চ মুনাফা ঘোষণা করতে পারবে। তারা নগদ ১৫ শতাংশসহ ৩০ শতাংশ লভ্যাংশ দিতে পারবে। তবে তাদের মধ্যে বেশকিছু ব্যাংক কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কাছ থেকে ছাড় গ্রহণ করে ২০১৯ সালে মুনাফা দেখিয়েছে। এসব ব্যাংকের ছাড় সমন্বয় করে মুনাফা হিসাব করতে হবে। ২০১৯ সালের সমাপ্ত বছরে যেসব ব্যাংক লভ্যাংশ ঘোষণা করে ফেলেছে তারা বাংলাদেশ ব্যাংক ঘোষিত শর্তের সঙ্গে সমন্বয় করবে। শর্ত পূরণ হলেও ৩০ সেপ্টেম্বরের আগে তা বিতরণ করতে পারবে না। ইতোমধ্যে তালিকাভুক্ত ছয়টি ব্যাংক ২০১৯ সালের সমাপ্ত বছরের জন্য লভ্যাংশ ঘোষণা করেছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের নতুন নীতিমালায় বলা হয়েছে, প্রভিশন সংরক্ষণসহ অন্যান্য ব্যয় মেটানোর জন্য বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে ডেফারেল সুবিধার অধীন নয় (প্রভিশন সংরক্ষণে বাড়তি সময় নেয়নি যে ব্যাংক) এমন ব্যাংকের মূলধনের পরিমাণ ঝুঁকিভিত্তিক সম্পদের সাড়ে ১২ শতাংশ বা তার বেশি হলে সামর্থ্য অনুসারে ওই ব্যাংক সর্বোচ্চ ১৫ শতাংশ নগদসহ ৩০ শতাংশ লভ্যাংশ দিতে পারবে। ডেফারেল সুবিধার অধীন না থাকা যেসব ব্যাংকের মূলধন ১১ দশমিক ২৫ শতাংশ থেকে সাড়ে ১২ শতাংশের মধ্যে তারা সর্বোচ্চ সাড়ে ৭ শতাংশ নগদসহ ১৫ শতাংশ লভ্যাংশ দিতে পারবে। আর ডেফারেল সুবিধার আওতায় থাকা যেসব ব্যাংকের সম্পূর্ণভাবে প্রভিশন সমন্বয়ের পর মূলধন সংরক্ষণের হার ১১ দশমিক ২৫ শতাংশ বা তার বেশি সেসব ব্যাংক বাংলাদেশ ব্যাংকের অনুমোদন নিয়ে সর্বোচ্চ ৫ শতাংশ নগদসহ ১০ শতাংশ লভ্যাংশ দিতে পারবে।

 

সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত