করোনায় বন্ধ হোটেল-রেস্তোরাঁ, কঠিন সংকটে শ্রমিক-বাবুর্চিরা

মালিক কিংবা সরকার- কেউ পাশে নেই

  শিপন হাবীব ১৪ মে ২০২০, ০০:০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

করোনার কারণে দেশের হোটেল-রেস্তোরাঁ বন্ধ থাকায় শ্রমিক-বাবুর্চিরা কঠিন সময় পার করছেন। প্রায় দুই মাস কাজ না থাকায় পরিবার নিয়ে তারা দুঃসহ সময় কাটাচ্ছেন। কোনো মাধ্যম থেকে তারা আর্থিক কিংবা খাদ্য সহযোগিতা পাচ্ছেন না।

এমন অবস্থায় সরকারের সহযোগিতা চেয়েছেন শ্রমিক-বাবুর্চিরা।

রেস্তোরাঁ শ্রমিক এবং বাবুর্চিদের আলাদা কদর ছিল বিয়েবাড়িসহ যে কোনো উৎসবে। শুধু তাই নয়, সভা-সেমিনার, আলোচনা সভায় শ্রমিকরা অর্ডারকৃত খাবার প্রদান করতেন। কিন্তু সেই উৎসব, সভা-সেমিনার বন্ধ রয়েছে। উপার্জন না থাকায় পরিবারের সদস্যদের নিদারুণ কষ্টে দিন কাটাচ্ছেন তারা।

জানা যায়, এ পেশায় সঙ্গে ২০ লাখ মানুষ যুক্ত। এর মধ্যে রাজধানীতেই ৩ লাখের ওপরে হোটেল শ্রমিক ও বাবুর্চি রয়েছে। এদের একটা বড় অংশই যুবক। তারা দৈনিক মজুরিতেও কাজ করতেন। অর্থাৎ কাজ করলে মজুরি আছে। না করলে নাই।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক বাবুর্চি বলেন, ‘রাজধানীর এক রেস্তোরাঁয় কাজ করে মাসে ২৩ হাজার টাকার মতো পাই। ২ মাস কাজ বন্ধ। ৪ সন্তান, স্ত্রী নিয়ে এখন খেয়ে না খেয়ে বেঁচে আছি।’ রাসেল নামের এক রেস্তোরাঁ শ্রমিক কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশনে রাতদিন কাটাচ্ছেন। তিনি জানান, দৈনিক মজুরিতে মতিঝিলের একটি রেস্তোরাঁয় কাজ করতেন। রেস্তোরাঁ বন্ধ থাকায় কাজও বন্ধ। থাকারও জায়গা নেই। তাই স্টেশনে থাকেন। কখন কেউ খাবার নিয়ে আসবে- সে জন্য তাকিয়ে থাকেন।

প্রায়ই দিন না খেয়েই শুইয়ে থাকতে হয়। রাসেলের মতো এমন অবস্থা আরও বহু শ্রমিকের। মতিঝিল রাস্তার পাশে রাতযাপন করেন রেস্তোরাঁ শ্রমিক বিল্লাল হোসেন। তিনি জানান, রেস্তোরাঁয় যখন কাজ করতেন রেস্তোরাঁর ভেতরই রাতযাপন করতেন। কারণ ভোররাতে উঠে কাজে লেগে পড়তে হতো। পরোটা থেকে সবজি তৈরিতে ব্যস্ত হয়ে উঠতেন। রেস্তোরাঁ বন্ধ থাকায় এখন রাস্তায় থাকছেন। খাবার না পেয়ে বিল্লাল শুকিয়ে গেছেন।

জানতে চাইলে বাংলাদেশ রেস্তোরাঁ মালিক সমিতির মহাসচিব এম রেজাউল করিম সরকার রবিন যুগান্তরকে বলেন, সারা দেশে রেস্তোরাঁর সংখ্যা ৬০ হাজারের ওপরে।

এছাড়া ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনে ১০ হাজার রেস্তোরাঁ রয়েছে। এসব রেস্তোরাঁয় শ্রমিক ও বাবুর্চির সংখ্যা ২০ লাখের ওপরে। এর মধ্যে রাজধানীতে আছে ৩ লাখের মতো। অনেকেই দৈনিক মজুরিতে কাজ করত। এই শ্রমিকরা এখন খেয়ে না খেয়ে বেঁচে আছে। রেস্তোরাঁ মালিকরাও চরম সংকটে রয়েছে। কীভাবে শ্রমিকদের সাহায্য করব।

তিনি জানান, কিছু সংখ্যক শ্রমিক রেস্তোরাঁর মধ্যেই রাতযাপন করত। তাদের কেউ কেউ হয়তো গ্রামের বাড়িতে গেছে কিংবা ভবঘুরের মতো জীবনযাপন করছে। রেস্তোরাঁ মালিকদের অবস্থাও ভালো না। রেস্তোরাঁ মালিকদের সাধারণ ঋণসহ ব্যাংক ঋণ ছিল- বর্তমানে সব বন্ধ থাকায় ঋণের বোঝা বাড়ছে।

এমন দুর্যোগের সময় সমিতির পক্ষ থেকে গত ২০ মার্চ প্রধানমন্ত্রী বরাবর প্রতিকার চেয়ে পত্র দেয়া হয়েছে। ২০ মার্চ পত্র দেয়া হলেও রেস্তোরাঁ শ্রমিকদের জন্য সরকার এখনও জরুরি খাদ্য সহায়তার ব্যবস্থা করতে পারেনি।

 

সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত