ঈদ বাজার

ঢাকার ফুটপাতে কোথাও ভিড় কোথাও ফাঁকা

  যুগান্তর রিপোর্ট ১৬ মে ২০২০, ০০:০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

লালবাগের কেল্লার মোড়ে কেনাকাটা নিয়ে উপচে পড়া ভিড়। শুক্রবারের ছবি

সামনে ঈদ। প্রিয়জনের জন্য দরকার পোশাক। কারও জন্য অত্যাবশ্যক। আবার কারও প্রয়োজন না থাকলেও সন্তানের আবদারের মুখে করোনাভাইরাসের মহামারীর মধ্যেও হতে হচ্ছে বিপণিমুখী। রাজধানীর অধিকাংশ অভিজাত শপিংমল ও মার্কেট বন্ধ।

কিন্তু বিভিন্ন স্থানে ফুটপাতে ও রাস্তার পাশের দোকানে পসরা সাজিয়ে বসা হয়েছে। একান্ত প্রয়োজনে কেনাকাটায় যাওয়া ব্যক্তিদের জন্য এ দুই ধরনের ব্যবসা প্রতিষ্ঠানই ভরসা। শুক্রবার রাজধানীর গুলিস্তান, মৌচাক, যাত্রাবাড়ী, মতিঝিল, লালবাগ কেল্লা মোড়, পল্টন মোড়, এলিফেন্ট রোড ও সাইন্সল্যাব, ঢাকা কলেজের সামনে ও মিরপুর এলাকায় ঘুরে এ চিত্র দেখা গেছে।

করোনাভাইরাসের আগ্রাসন ঠেকাতে সরকার ২৬ মার্চ থেকে সাধারণ ছুটি ঘোষণা করেছে। ছুটির মধ্যে অফিস-আদালত, মার্কেট, যানবাহন বন্ধ রেখে সবাইকে ঘরে থাকতে বলা হলেও ঈদ ঘনিয়ে আসায় ১০ মে থেকে বিকাল ৪টা পর্যন্ত বিপণিবিতান খোলার অনুমতি দেয়া হয়। তবে ফুটপাত, খোলা জায়গায় হকারদের বসতে না দেয়ার নির্দেশনা থাকলেও কিছু কিছু ব্যবসায়ী বসেছেন রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায়। লালবাগ কেল্লা মোড়ে দেখা গেছে, ফুটপাত ও রাস্তার ওপর ভ্যানে করে বিভিন্ন পোশাকের পসরা সাজিয়ে বসেছেন দোকানিরা।

যেখানে ক্রেতাদের ছিল প্রচুর ভিড়। আব্বাস উদ্দিন নামে একজন জানান, যতই করোনা হোক, বাচ্চাদের আবদার তো পূরণ করতেই হবে। তাই বাচ্চাদের জন্য পোশাক কিনেছি। শিশুদের প্যান্ট-শার্ট নিয়ে বসেছিলেন সেলিম উদ্দিন। তিনি বলেন, আগের মতো বিক্রি নেই। তবে যা হচ্ছে তাও খারাপ না।

তবে উল্টো চিত্রও দেখা গেছে। গুলিস্তান ও বায়তুল মোকাররম মসজিদের উত্তর গেটের সামনের ফুটপাত অধিকাংশই খালি। বিক্ষিপ্তভাবে কিছু ব্যবসায়ী জামা-কাপড়, শার্ট-প্যান্ট, পাজামা-পাঞ্জাবি, সেলোয়ার-কামিজ, জুতা-স্যান্ডেল নিয়ে বসলেও ক্রেতার দেখা নেই।

গুলিস্তানের ফুটপাতে বড়দের প্যান্ট-শার্ট নিয়ে বসেছেন রহিম বাশার। হতাশার সুরে তিনি বলেন, ‘করোনাভাইরাস ফুটপাতেও আইছে, আকাল পড়ছে ফুটপাতে। ঈদের বাজার মনে কইরা কিছু কাপড়-চোপড় আনছি বেচতে, কাস্টমার পাই না।’

পল্টনের বাসিন্দা আপেল মাহমুদ বলেন, প্রতি ঈদেই আমি গুলিস্তান ফুটপাতে কেনাকাটা করতে আসি। এবারের মতো ফুটপাত মার্কেটের চেহারা আগে কখনই দেখিনি। একদিকে মানুষের পকেটে পয়সা নেই, কেনাকাটা করবে কীভাবে; অন্যদিকে কেনাকাটা না করলে এই ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা চলবে কীভাবে? করোনার ভয়ে মানুষজন ঘর থেকে বের হতে চাচ্ছেন না। সেজন্য ক্রেতা নেই।

ফুটপাতের ব্যবসায়ীদের বিষয়ে জানতে চাইলে মৌচাক মার্কেটের নিরাপত্তাকর্মী আমজাদ হোসেন বলেন, অধিকাংশ দোকানদার দোকানপাট বন্ধ হওয়ার পর গ্রামে চলে গেছেন। যারা আছেন, পুলিশের নিষেধ থাকায় তারাও দোকান খুলতে পারছেন না।

দুপুর ১২টায় মৌচাকের কাছে দুটি পাঞ্জাবির দোকান দেখা গেলেও ছিল ক্রেতাশূন্য। একটি দোকানের বিক্রয়কর্মী জীবন ইসলাম জানালেন- খুবই খারাপ সময় যাচ্ছে, দুই দিনে মাত্র ছয়টি পাঞ্জাবি বিক্রি করেছি।

 

সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত