রাজশাহীতে আম পাকতে লাগবে আরও দু’সপ্তাহ
jugantor
অসময়ে আম পাড়া ঠেকাতে নির্ধারিত সময় শুরু
রাজশাহীতে আম পাকতে লাগবে আরও দু’সপ্তাহ

  রাজশাহী ব্যুরো  

১৬ মে ২০২০, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

রাজশাহীতে গাছে এখনও আম পাকেনি। গুটি আম পাকতে আরও অন্তত দু’সপ্তাহ সময় লাগবে। গুটি আমের কেবল আঁটি হয়েছে; পরিপক্ব হয়নি। অসময়ে আম নামানো ঠেকাতে গেল চার বছরের মতো এবারও আম পাড়ার সময় নির্ধারণ করে দিয়েছে রাজশাহী জেলা প্রশাসন। ১৫ মে বেঁধে দেয়া সময় শুরু হয়েছে। পাকলেই শুক্রবার থেকে চাষীরা সব ধরনের গুটি জাতের আম গাছ থেকে পেড়ে বাজারে তুলতে পারতেন।

রাজশাহীর বিভিন্ন এলাকায় খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, এখন করোনার সংকটকালে বাজার না পাওয়ার আশঙ্কায় চাষীদের তড়িঘড়ি করে আম নামানোরও ব্যস্ততা নেই। অথচ আগের বছরগুলোতে চাষীরা এ দিনটির জন্য অপেক্ষা করতেন। বাগানে বাগানে শুরু হতো আম নামানোর উৎসব।

রাজশাহীর পবা উপজেলার আলীমগঞ্জ এলাকার চাষী আবুল কালাম আজাদ বলেন, আমার গুটি আম খুব বেশি নেই। আম এখনও পাড়ার মতো হয়নি। গুটি আম আরও অন্তত ১০-১৫ দিন পর নামানোর উপযুক্ত হবে। এবার বাজারের যে অবস্থা তাতে আম কখন নামালে ঠিক হবে সেটিও বুঝতে পারছি না। এবার আম পাড়ার সময়ও ঠিকমতো নির্ধারণ হয়নি।

জেলা প্রশাসক হামিদুল হক বলেন, কৃষি বিভাগ, ফল গবেষণা কেন্দ্র এবং চাষীদের মতামতের ভিত্তিতেই সময় নির্ধারণ করা হয়েছিল। এখন আম যদি না পাকে তাহলে গাছ থেকে নামাবেন না চাষীরা। আর কেউ যদি অপরিপক্ব আম নামায় তাহলে আমরা দেখব, তিনি আমগুলো কেন নামাচ্ছেন। যদি আচারের জন্য নামান, তাহলে কিছু বলার নেই; কিন্তু পাকানোর উদ্দেশ্যে আম নামাতে হলে পরিপক্ব অবস্থাতেই নামাতে হবে। আমরা এ বিষয়টি নিশ্চিত করব।

রাজশাহী ফল গবেষণা কেন্দ্রের মুখ্য বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. আলীম উদ্দিন বলেন, গেল বছরও আম পাড়ার সময় নির্ধারণ করে দেয়া হয়েছিল; কিন্তু চাষী আম হাতে নিয়ে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে গিয়ে বললেন, আম পেকে গেছে, তারা নামাতে পারছেন না সময় বেঁধে দেয়ার কারণে। তাই এবার একটু আগেই সময় দেয়া হয়েছিল; কিন্তু আবহাওয়া ঠাণ্ডা। সেজন্য আম নাও পাকতে পারে।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপপরিচালক শামছুল হক বলেন, রাজশাহীর কোথাও গাছে আম পেকেছে বলে তিনি খবর পাননি। চাষীদের আম নিয়ে শঙ্কার বিষয়ে বলেন, কৃষিপণ্য লকডাউনের বাইরে। তাই বাজারজাত করতে সমস্যা হবে না। গাছে যখন আম পাকবে তখনই চাষীরা বাজারে নিতে পারবেন।

রাজশাহী জেলায় আমবাগান রয়েছে ১৭ হাজার ৬৮৬ হেক্টর জমিতে। এবার আম উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ২ লাখ ১০ হাজার টন। শুক্রবার থেকে গুটি আম পাড়ার সময় শুরু হয়েছে। ২০ মে থেকে গোপালভোগ নামানো যাবে। এছাড়া রানীপছন্দ ও লক্ষণভোগ বা লখনা ২৫ মে, হিমসাগর বা ক্ষীরশাপাত ২৮ মে, ল্যাংড়া ৬ জুন, আম্রপালি ১৫ জুন এবং ফজলি ১৫ জুন থেকে নামানো যাবে। সবার শেষে ১০ জুলাই থেকে নামবে আশ্বিনা এবং বারী আম-৪ জাতের আম। সম্প্রতি জেলা প্রশাসন এ সময় নির্ধারণ করে দেয়।

অসময়ে আম পাড়া ঠেকাতে নির্ধারিত সময় শুরু

রাজশাহীতে আম পাকতে লাগবে আরও দু’সপ্তাহ

 রাজশাহী ব্যুরো 
১৬ মে ২০২০, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

রাজশাহীতে গাছে এখনও আম পাকেনি। গুটি আম পাকতে আরও অন্তত দু’সপ্তাহ সময় লাগবে। গুটি আমের কেবল আঁটি হয়েছে; পরিপক্ব হয়নি। অসময়ে আম নামানো ঠেকাতে গেল চার বছরের মতো এবারও আম পাড়ার সময় নির্ধারণ করে দিয়েছে রাজশাহী জেলা প্রশাসন। ১৫ মে বেঁধে দেয়া সময় শুরু হয়েছে। পাকলেই শুক্রবার থেকে চাষীরা সব ধরনের গুটি জাতের আম গাছ থেকে পেড়ে বাজারে তুলতে পারতেন।

রাজশাহীর বিভিন্ন এলাকায় খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, এখন করোনার সংকটকালে বাজার না পাওয়ার আশঙ্কায় চাষীদের তড়িঘড়ি করে আম নামানোরও ব্যস্ততা নেই। অথচ আগের বছরগুলোতে চাষীরা এ দিনটির জন্য অপেক্ষা করতেন। বাগানে বাগানে শুরু হতো আম নামানোর উৎসব।

রাজশাহীর পবা উপজেলার আলীমগঞ্জ এলাকার চাষী আবুল কালাম আজাদ বলেন, আমার গুটি আম খুব বেশি নেই। আম এখনও পাড়ার মতো হয়নি। গুটি আম আরও অন্তত ১০-১৫ দিন পর নামানোর উপযুক্ত হবে। এবার বাজারের যে অবস্থা তাতে আম কখন নামালে ঠিক হবে সেটিও বুঝতে পারছি না। এবার আম পাড়ার সময়ও ঠিকমতো নির্ধারণ হয়নি।

জেলা প্রশাসক হামিদুল হক বলেন, কৃষি বিভাগ, ফল গবেষণা কেন্দ্র এবং চাষীদের মতামতের ভিত্তিতেই সময় নির্ধারণ করা হয়েছিল। এখন আম যদি না পাকে তাহলে গাছ থেকে নামাবেন না চাষীরা। আর কেউ যদি অপরিপক্ব আম নামায় তাহলে আমরা দেখব, তিনি আমগুলো কেন নামাচ্ছেন। যদি আচারের জন্য নামান, তাহলে কিছু বলার নেই; কিন্তু পাকানোর উদ্দেশ্যে আম নামাতে হলে পরিপক্ব অবস্থাতেই নামাতে হবে। আমরা এ বিষয়টি নিশ্চিত করব।

রাজশাহী ফল গবেষণা কেন্দ্রের মুখ্য বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. আলীম উদ্দিন বলেন, গেল বছরও আম পাড়ার সময় নির্ধারণ করে দেয়া হয়েছিল; কিন্তু চাষী আম হাতে নিয়ে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে গিয়ে বললেন, আম পেকে গেছে, তারা নামাতে পারছেন না সময় বেঁধে দেয়ার কারণে। তাই এবার একটু আগেই সময় দেয়া হয়েছিল; কিন্তু আবহাওয়া ঠাণ্ডা। সেজন্য আম নাও পাকতে পারে।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপপরিচালক শামছুল হক বলেন, রাজশাহীর কোথাও গাছে আম পেকেছে বলে তিনি খবর পাননি। চাষীদের আম নিয়ে শঙ্কার বিষয়ে বলেন, কৃষিপণ্য লকডাউনের বাইরে। তাই বাজারজাত করতে সমস্যা হবে না। গাছে যখন আম পাকবে তখনই চাষীরা বাজারে নিতে পারবেন।

রাজশাহী জেলায় আমবাগান রয়েছে ১৭ হাজার ৬৮৬ হেক্টর জমিতে। এবার আম উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ২ লাখ ১০ হাজার টন। শুক্রবার থেকে গুটি আম পাড়ার সময় শুরু হয়েছে। ২০ মে থেকে গোপালভোগ নামানো যাবে। এছাড়া রানীপছন্দ ও লক্ষণভোগ বা লখনা ২৫ মে, হিমসাগর বা ক্ষীরশাপাত ২৮ মে, ল্যাংড়া ৬ জুন, আম্রপালি ১৫ জুন এবং ফজলি ১৫ জুন থেকে নামানো যাবে। সবার শেষে ১০ জুলাই থেকে নামবে আশ্বিনা এবং বারী আম-৪ জাতের আম। সম্প্রতি জেলা প্রশাসন এ সময় নির্ধারণ করে দেয়।