আইএমএফের বিশেষ প্রতিবেদন

রফতানি-রেমিটেন্সে বিপর্যয় বাংলাদেশের বড় চ্যালেঞ্জ

  যুগান্তর রিপোর্ট ১৭ মে ২০২০, ০০:০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

করোনাভাইরাসের প্রভাবে বাংলাদেশের পোশাক শিল্পের রফতানি আয় ও প্রবাসীদের পাঠানো রেমিটেন্স খাতেই সবচেয়ে বেশি নেতিবাচক প্রভাব পড়বে। বাংলাদেশের অর্থনীতির এ দুটি বড় ভিত্তিই এখন দেশটির জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

শুক্রবার প্রকাশিত চলমান করোনায় বিশ্বের সার্বিক অর্থনীতি পরিস্থিতি নিয়ে আন্তর্জাতিক অর্থ তহবিলের (আইএমএফ) এক বিশেষ প্রতিবেদনে এমন মন্তব্য করা হয়েছে।

করোনাভাইরাসের প্রভাবে কারণে সদস্য দেশগুলোর সার্বিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতি, অর্থনৈতিক সম্ভাব্য ক্ষতি মোকাবেলায় গৃহীত কার্যক্রম, সামনের দিনগুলোতে কি ধরনের চ্যালেঞ্জ আসতে পারে অর্থনীতিতে এবং এগুলো কিভাবে মোকাবেলা করা যায়- এসব বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য-উপাত্ত ও বিশ্লেষণ উঠে এসেছে আইএমএফের প্রতিবেদনে। এতে বলা হয়, বাংলাদেশের অর্থনীতি মূলত দুটি বড় ভিত্তির ওপর দাঁড়িয়ে বিকশিত হচ্ছে।

এর একটি হল প্রবাসীদের পাঠানো রেমিটেন্স এবং অন্যটি তৈরি পোশাক রফতানি। করোনাভাইরাসের প্রভাবে অর্থনীতির এ দুটি ভিত্তিই সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। এর নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে দেশের অর্থনীতিতে।

সূত্র জানায়, করোনার প্রভাবে ইতোমধ্যে রফতানি আয় ও রেমিটেন্সে নেতিবাচক প্রভাব পড়তে শুরু করেছে। রফতানির প্রায় সব খাতেই নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে। চলতি অর্থবছরের শুরু থেকেই রফতানি আয়ে নেতিবাচক প্রভাব পড়তে শুরু করেছে। চলতি অর্থবছরের জুলাই থেকে এপ্রিল পর্যন্ত রফতানি আয় হয়েছে ২ হাজার ৯৫০ কোটি ডলারের। যা গত অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় ৫০ শতাংশ কম। আর একই সময়ের লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় ২১ দশমিক ২৪ শতাংশ কম।

এপ্রিলে রফতানি আয়ের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৩৫৫ কোটি ৪০ লাখ ডলার। এর বিপরীতে আয় হয়েছে মাত্র ৫২ কোটি ডলার। লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ৮২ শতাংশ ঘাটতি রয়েছে।

এদিকে বাংলাদেশ পোশাক প্রস্তুতকারক ও রফতানিকারক সমিতি (বিজিএমইএ) জানিয়েছে, কারোনার প্রভাবে এখন পর্যন্ত ৩১৮ কোটি ডলারের রফতানির অর্ডার বাতিল করেছেন ক্রেতারা। এর ফলে ১ হাজার ১৫০টি কারখানার ২২ লাখ ৮০ হাজার শ্রমিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন।

এদিকে রেমিটেন্স প্রবাহও কমে গেছে। এপ্রিলে রেমিটেন্স এসেছে ১০৮ কোটি ডলার। আগের বছরের এপ্রিলের চেয়ে ২৪ দশমিক ৬১ শতাংশ কম। গত বছর মে মাসে ঈদের আগে ১৭৫ কোটি ডলারের রেমিটেন্স এসেছিল। এবার একই ধারায় কমতে পারে। বিদেশে বাংলাদেশের প্রায় ৯৪ লাখ শ্রমিক কাজ করেন। এর মধ্যে ৬ লাখ শ্রমিক ইতোমধ্যে দেশে এসেছেন। মধ্যপ্রাচ্য, ইউরাপ ও আমেরিকার দেশগুলোতে যারা আছেন তাদেরও কাজ নেই। ফলে রেমিটেন্সে নেতিবাচক প্রভাব পড়বে।

আইএমএফের প্রতিবেদনে বলা হয়, বাংলাদেশ বছরে যে রফতানি আয় করে তার ৮০ শতাংশই আসে পোশাক রফতানি থেকে। তৈরি পোশাকের বড় বাজার আমেরিকা ও ইউরোপে এখন ব্যাপক মন্দা চলছে। যে কারণে ওইসব দেশগুলোতে রফতানি বাধাগ্রস্ত হবে। তবে আন্তর্জাতিক ব্র্যান্ড প্রতিষ্ঠানগুলো বাংলাদেশকে দেয়া রফতানির কার্যাদেশ ১ এপ্রিল থেকে সরবরাহ করার তাগিদ দিয়েছে। এরই পরিপ্রেক্ষিতে বাংলাদেশের যেসব গার্মেন্টে কার্যাদেশ আছে তারা কাজ শুরু করেছে।

একই সঙ্গে বাংলাদেশের প্রতি বছর গড়ে দেড় হাজার থেকে ১ হাজার ৬শ’ কোটি ডলারের রেমিটেন্স আসে। এর মধ্যে ৫৮ শতাংশই আসে মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলো থেকে। এর মধ্যে এককভাবে সবচেয়ে বেশি আসে সৌদি আরব থেকে। মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোতে করোনার কারণে বড় ধরনের মন্দা চলছে। জ্বালানি তেলের দাম কমে রেকর্ড পর্যায়ে নেমে গেছে। এ অবস্থায় দেশগুলোর আয় কমে গেছে।

যে কারণে শ্রমিক ছাঁটাই ও উন্নয়ন প্রকল্পের কাজ বন্ধ করে দেয়া এখন নিয়মিত ব্যাপার হয়ে দাঁড়িয়েছে। ইউরোপ ও আমেরিকার দেশগুলোতেও মন্দার কারণে শ্রমিকদের চাকরিচ্যুতির পাশাপাশি উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে স্থবিরতা রয়েছে। এসব কারণে রেমিটেন্সেও নেতিবাচক প্রভাব পড়বে। বাংলাদেশের জিপিডিতে পরোক্ষ ও প্রত্যক্ষভাবে এ দুটি খাতের অবদানই সবচেয়ে বেশি। ফলে এ দুই খাতে বিপর্যয় দেখা দেখা দিলে তা দেশের পুরো অর্থনীতিকে আক্রান্ত করবে।

এছাড়া করোনার প্রভাবে ইতোমধ্যে অর্থনীতির সব খাতেই নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে। এসব মোকাবেলা করতে কেন্দ্রীয় ব্যাংক ও সরকার নানামুখী পদক্ষেপ নিয়েছে। এগুলোতে অভ্যন্তরীণ খাতকে সচল রাখা সম্ভব হলেও বৈদেশিক খাতের চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করতে হবে। কেননা, বৈদেশিক খাতের ওপর বাংলাদেশের কোনো নিয়ন্ত্রণ নেই। বৈদেশিক খাত সচল না হলে বাংলাদেশের এককভাবে সচল হয়ে কোনো সুফল পাওয়া যাবে না।

 

সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত