অর্থমন্ত্রীকে চিঠি

বিনিয়োগকারীদের করমুক্ত লভ্যাংশ ২ লাখ টাকা চায় ডিএসই

কর্পোরেট কর ২০ শতাংশ ও ভ্যাট ৯ শতাংশ করার দাবি

  যুগান্তর রিপোর্ট ১৭ মে ২০২০, ০০:০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

বিভিন্ন কারণে আগে থেকেই মন্দা ছিল শেয়ারবাজারে। এরপর করোনার আঘাতে চরম বিপর্যয় আসে এ খাতে। এ অবস্থায় শেয়ারবাজারকে টেনে তুলতে সরকারের কাছে বেশ কিছু প্রণোদনা দাবি করেছে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) কর্তৃপক্ষ।

এর মধ্যে অন্যতম হল, বিনিয়োগকারীদের করমুক্ত লভ্যাংশ সীমা ৫০ হাজার থেকে বাড়িয়ে ২ লাখ টাকা করা। এছাড়াও তালিকাভুক্ত কোম্পানির কর্পোরেট কর ২৫ শতাংশ কমিয়ে ২০ শতাংশ, নতুন কোম্পানি তালিকাভুক্ত হলে পরবর্তী ৩ বছর ১০ শতাংশ কর ছাড় এবং মূল্য সংযোজন কর (ভ্যাট) ১৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ৯ শতাংশ করতে বলা হয়েছে। সম্প্রতি অর্থমন্ত্রীর কাছে পাঠানো এক চিঠিতে এ দাবি করা হয়।

ডিএসইর ব্যবস্থাপনা পরিচালক কাজী সানাউল হকের স্বাক্ষরে এ চিঠি পাঠানো হয়। আর অর্থনীতিবিদরা করমুক্ত লভ্যাংশ সীমা বাড়ানোর পক্ষে মত দিয়েছেন। জানতে চাইলে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক অর্থ উপদেষ্টা ড. এবি মির্জ্জা আজিজুল ইসলাম যুগান্তরকে বলেন, বাজারে আগে থেকেই বিনিয়োগকারীদের আস্থা সংকট ছিল।

এরপর করোনাভাইরাসের আক্রমণ তাতে নতুন মাত্রা যোগ করেছে। ফলে দুরবস্থা চরমে। এ সংকট কাটাতে এমন প্রণোদনা দিতে হবে, যার সুবিধা সরাসরি বিনিয়োগকারীরা পান। তিনি বলেন, লভ্যাংশের ওপর কর কমানো উচিত। কারণ তালিকাভুক্ত কোম্পানিগুলো প্রতি বছর যে টাকা মুনাফা করে, তার ওপর তারা কর্পোরেট কর দেন। আবার কর পরিশোধের পরই বিনিয়োগকারীদের লভ্যাংশ দেয়। এতে একই আয়ের ওপর দু’বার কর নেয়া উচিত নয়।

চিঠিতে ২০২০-২১ অর্থবছরের বাজেটে সরকারের বিবেচনার জন্য বেশ কিছু দাবি তুলে ধরা হয়। এর মধ্যে শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত কোম্পানির কর ৫ শতাংশ কমিয়ে ২০ শতাংশ করা। বিদ্যমান নিয়মে বর্তমানে একটি কোম্পানিকে, তার মুনাফার ওপর সরকারকে ৩৫ শতাংশ কর্পোরেট কর দিতে হয়। কিন্তু ওই কোম্পানি শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত হলে, সেক্ষেত্রে কর দিতে হয় ২৫ শতাংশ।

আগামী বাজেটে তালিকাভুক্ত কোম্পানির কর আরও ৫ শতাংশ কমানোর কথা বলা হয়েছে। অন্যদিকে ব্যাংক, বীমা, মার্চেন্ট ব্যাংক ও ব্যাংকবহির্ভূত আর্থিক কোম্পানির কর ৩৭ দশমিক ৫ শতাংশ। আগামী বাজেটে তা কমিয়ে ৩২ দশমিক ৫ শতাংশ করতে বলা হয়েছে। বর্তমানে শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত ব্যাংকের সংখ্যা ৩০টি, ব্যাংক বহির্ভূত আর্থিক প্রতিষ্ঠান ২৩টি এবং বীমা কোম্পানির সংখ্যা ৪৭।

এসব প্রতিষ্ঠান বছরে সরকারকে কয়েক হাজার কোটি টাকা কর দেয়। আর ৫ শতাংশ কর কমালে ছোট মূলধনের প্রতিষ্ঠানগুলো ৪০ থেকে ১০০ শতাংশ পর্যন্ত লভ্যাংশ ঘোষণা করতে পারবে।

এছাড়াও বর্তমানে শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত কোম্পানি থেকে একজন বিনিয়োগকারী ৫০ হাজার টাকা পর্যন্ত লভ্যাংশ পেলে, ওই লভ্যাংশের জন্য কর দিতে হয়। বিনিয়োগকারীদের প্রণোদনা দিতে আগামী বাজেটে তা বাড়িয়ে ২ লাখ টাকা করতে বলা হয়েছে।

অর্থাৎ করমুক্ত লভ্যাংশ হবে ২ লাখ টাকা। অন্যদিকে কেউ তালিকাভুক্ত কোম্পানির শেয়ার কিনলে আগামী ২ বছর তাকে ৫ শতাংশ কর অব্যাহতি দেয়ার দাবি জানিয়েছে ডিএসই। চিঠিতে আরও বলা হয়েছে, বর্তমানে ভ্যাটের হার ১৫ শতাংশ। অর্থনীতিকে গতিশীল করতে তা ৯ শতাংশ করা উচিত।

এছাড়াও ডিমিউচুয়ালাইজেশনের পর শেয়ার হস্তান্তরের জন্য ১ দশমিক ৫ শতাংশ স্ট্যাম্প শুল্ক ধার্য করা হয়েছিল। তবে ইলেকট্রনিক পদ্ধতিতে শেয়ার লেনদেনকারী কোম্পানির ক্ষেত্রে তা অব্যাহতি রয়েছে। এ বছর এই সুযোগ তালিকাভুক্ত সব কোম্পানির জন্য দেয়ার দাবি জানানো হয়েছে। অন্যদিকে বর্তমান নিয়মে স্টক এক্সচেঞ্জের সদস্যদের শেয়ার লেনদেনের জন্য শেয়ারমূল্যের ওপর দশমিক ০৫ শতাংশ হারে কর দিতে হয়। অর্থাৎ স্টক এক্সচেঞ্জের কোনো সদস্য ১ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেন করলে ৫০ টাকা কর দিতে হয়। ডিএসইর প্রস্তাবে এ সীমা দশমিক ০১৫ করা হয়েছে।

এ প্রস্তাব কার্যকর করা হলে সদস্য হাউসগুলোকে ১ লাখ টাকা লেনদেনের বিপরীতে ১৫ টাকা কর দিতে হবে। অর্থমন্ত্রীকে দেয়া চিঠিতে বাজারে গতি আনতে আরও কয়েকটি প্রস্তাব দিয়েছে ডিএসই। এর মধ্যে রয়েছে- বাজার পরিচালনা জন্য ঋণ সুবিধা আরও সহজ করা, শেয়ারবাজারে ব্যাংকের অংশগ্রহণ বাড়ানো, বাজারে সরকারি বিনিয়োগ প্রতিষ্ঠান আইসিবির সাপোর্ট বাড়ানো, বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণে উদ্যোগ নেয়া এবং বহুজাতিক কোম্পানি ও সরকারি লাভজনক কোম্পানি শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত করা।

 

সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত