স্বাস্থ্যবিধি মেনে রেলে পুরোদমে কাজ শুরু
jugantor
করোনার কবলে ৪১টি প্রকল্প
স্বাস্থ্যবিধি মেনে রেলে পুরোদমে কাজ শুরু
চরম ঝুঁকিতে শ্রমিক কর্মকর্তারা * বিদেশি শ্রমিকের অভাবে কাজে ধীরগতি

  শিপন হাবীব  

২৩ মে ২০২০, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

রেলওয়ের ৪১টি উন্নয়ন প্রকল্প প্রাণঘাতী করোনাভাইরাসের কবলে পড়েছে। সরকারের অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত রেলের দুটি মেগা প্রকল্প পদ্মা সেতু রেল সংযোগ প্রকল্প এবং চট্টগ্রাম-কক্সবাজার-রামু রেললাইন প্রকল্পে করোনার নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে। এ দুটিতে চীনের এক হাজারেরও বেশি প্রকৌশলী-শ্রমিক যুক্ত ছিলেন। চৈনিক নববর্ষ উদ্যাপনে দেশে গিয়ে তারা আর ফিরে আসতে পারেননি। দেশেও করোনা সংক্রমণ রোধে সবকিছু বন্ধ থাকে। এমন পরিস্থিতিতে দুটি মেগা প্রকল্পসহ ৪১টি প্রকল্পে স্বাস্থ্যবিধি মেনে পুরোদমে কাজ চালিয়ে যাওয়ার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। প্রকল্পগুলোয় স্বাস্থ্যবিধি মেনে কাজ শুরু করা হলেও সংশ্লিষ্টরা বলছেন, তারা চরম ঝুঁকিতে রয়েছেন। এতে কাজে গতি আসছে না।

রেলপথমন্ত্রী মো. নুরুল ইসলাম সুজন মঙ্গলবার যুগান্তরকে জানান, করোনাভাইরাসের এ কঠিন সময়েও বিশেষ করে রেলের দুই মেগা প্রকল্পের কাজ একেবারে বন্ধ করা হয়নি। বিদেশি শ্রমিক-প্রকৌশলীদের অনুপস্থিতিতেও মাঠপর্যায়ে কাজ চলেছে। এমন অবস্থায় মেগাসহ ৪১টি উন্নয়ন প্রকল্পের কাজ পুরোদমে শুরু করতে সংশ্লিষ্টদের বিশেষ নির্দেশনা দেয়া হয়। স্বাস্থ্যবিধি মেনে এখন সব প্রকল্পে কাজ চলছে। আশা করছি কাজে গতি ফিরে আসবে। নির্ধারিত সময়ে হয়তো অনেক প্রকল্পের কাজ সমাপ্ত না-ও হতে পারে।

রেলপথ সচিব মো. সেলিম রেজা মঙ্গলবার যুগান্তরকে জানান, রেলের চলমান ৪১টি উন্নয়ন প্রকল্পের কাজের গতি ফিরিয়ে আনতে মন্ত্রণালয় থেকে নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। গত সপ্তাহে রেলপথ মন্ত্রণালয়ে অনুষ্ঠিত এক বিশেষ বৈঠক থেকে বিশেষ নির্দেশনা দেয়া হয়। সংশ্লিষ্টদের নিয়েও বিশেষ বৈঠক করা হয়েছে। তিনি বলেন, রেলের উন্নয়ন প্রকল্পগুলো যথাসময়ে সমাপ্ত হলে রেলে আমূল পরিবর্তন আসবে। করোনার জন্য প্রকল্পের কাজে যতুটুক ধীরগতি কিংবা ক্ষতি হয়েছে, পুরোদমে কাজ করলে অধিকাংশ কাজ নির্ধারিত সময়ে শেষ করা যাবে।

প্রকল্প সূত্রে জানা গেছে, চলতি বছরের জানুয়ারির শেষের দিকে প্রকল্প দুটির চীনা শ্রমিক-কর্মকর্তাদের একটি অংশ চীনে গিয়ে আটকা পড়েন। পরবর্তী সময়ে মাঠ পর্যায়ে কাজ চললেও মার্চের দিকে করোনার নেতিবাচক প্রভাব পড়তে শুরু করে। স্বল্প পরিসরে কাজ চালিয়ে যান সংশ্লিষ্টরা। দুটি প্রকল্পের মধ্যে পদ্মা সেতু রেল সংযোগে এপ্রিল পর্যন্ত ২৪ দশমিক ২৩ শতাংশ এবং চট্টগ্রাম-কক্সবাজার-রামু রেললাইন নির্মাণ প্রকল্পে ৩৮ শতাংশ কাজ হয়েছে। মেগা দুই প্রকল্পের নির্মাণ ব্যয় বরাদ্দ প্রায় ৬০ হাজার কোটি টাকা।

এ বিষয়ে ম্যাক্স গ্রুপ ও এর সহযোগী ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান ম্যাক্স ইনফ্রাস্ট্রাকচারের চেয়ারম্যান প্রকৌশলী গোলাম মোহাম্মদ আলমগীর যুগান্তরকে জানান, চট্টগ্রাম-কক্সবাজার-রামু রেললাইন নির্মাণ প্রকল্প এবং ঢাকা-চট্টগ্রাম ডুয়েলগেজ ডাবল লাইন নির্মাণ প্রকল্পে তারা কাজ করছেন। আমাদের ইচ্ছে থাকলেও করোনার কারণে কাজের সুযোগ পাচ্ছিলাম না। কাজের গতি একেবারেই কমে গিয়েছিল। সম্প্রতি রেলপথ মন্ত্রণালয় থেকে নির্দেশনা পাওয়া গেছে। এখন মাঠ পর্যায়ে প্রায় ৯০ শতাংশ শ্রমিক-প্রকৌশলী পুরোদমে কাজ করছেন। স্বাস্থ্যবিধি মেনে কাজ করায় কাজের গতি বাড়ছে না। তিনি বলেন, আমাদের পর্যাপ্ত ইকুইপমেন্ট রয়েছে। জেভির (জয়েন্ট ভেনচার) মাধ্যমে কাজ করার কথা থাকলেও কিছু চীনা ঠিকাদার, প্রকৌশলী ও শ্রমিকের অনুপস্থিতিতে কাজ করতে হচ্ছে। আমার দেশের উন্নয়ন, প্রকল্প বাস্তবায়ন আমাদেরই চ্যালেঞ্জ বেশি।

পদ্মা সেতু রেল সংযোগ প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক গোলাম ফখরুদ্দিন এ চৌধুরী যুগান্তরকে জানান, আমরা পুরোদমে কাজ শুরু করছি। শ্রমিকরাও চলে এসেছে। তাদের থাকা-খাওয়ার ব্যবস্থা করা হচ্ছে। চট্টগ্রাম-কক্সবাজার-রামু রেললাইন নির্মাণ প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক মফিজুর রহমান যুগান্তরকে জানান, মেগা এ প্রকল্পে চীনাদের অনুপস্থিতি নেতিবাচক প্রভাব ফেললেও আমরা পুরোদমে কাজ শুরু করেছি। ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান দ্রুততার সঙ্গে কাজ করছে। শ্রমিক-প্রকৌশলীরা সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে কাজ করছেন।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক রেলওয়ে অর্থনীতি বিভাগের এক কর্মকর্তা জানান, ৪১টি প্রকল্পের মধ্যে অনেকগুলোর মেয়াদ ও ব্যয় বাড়ানো হয়েছে। করোনার প্রভাবে বেশ কতগুলো প্রকল্প নির্ধারিত সময়ের মধ্যে না-ও সমাপ্ত হতে পারে। কোনো কোনো প্রকল্পে চার মাস ধরে কাজ একেবারে বন্ধ ছিল। মন্ত্রণালয় থেকে নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক রেলওয়ের আরেক কর্মকর্তা জানান, নির্দেশনা অনুযায়ী প্রতিটি প্রকল্পে পুরোদমে কাজ শুরু করলে নির্ধারিত সময় ও ব্যয়ের মধ্যেই প্রকল্পগুলো শেষ করা সম্ভব হবে।

করোনার কবলে ৪১টি প্রকল্প

স্বাস্থ্যবিধি মেনে রেলে পুরোদমে কাজ শুরু

চরম ঝুঁকিতে শ্রমিক কর্মকর্তারা * বিদেশি শ্রমিকের অভাবে কাজে ধীরগতি
 শিপন হাবীব 
২৩ মে ২০২০, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

রেলওয়ের ৪১টি উন্নয়ন প্রকল্প প্রাণঘাতী করোনাভাইরাসের কবলে পড়েছে। সরকারের অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত রেলের দুটি মেগা প্রকল্প পদ্মা সেতু রেল সংযোগ প্রকল্প এবং চট্টগ্রাম-কক্সবাজার-রামু রেললাইন প্রকল্পে করোনার নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে। এ দুটিতে চীনের এক হাজারেরও বেশি প্রকৌশলী-শ্রমিক যুক্ত ছিলেন। চৈনিক নববর্ষ উদ্যাপনে দেশে গিয়ে তারা আর ফিরে আসতে পারেননি। দেশেও করোনা সংক্রমণ রোধে সবকিছু বন্ধ থাকে। এমন পরিস্থিতিতে দুটি মেগা প্রকল্পসহ ৪১টি প্রকল্পে স্বাস্থ্যবিধি মেনে পুরোদমে কাজ চালিয়ে যাওয়ার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। প্রকল্পগুলোয় স্বাস্থ্যবিধি মেনে কাজ শুরু করা হলেও সংশ্লিষ্টরা বলছেন, তারা চরম ঝুঁকিতে রয়েছেন। এতে কাজে গতি আসছে না।

রেলপথমন্ত্রী মো. নুরুল ইসলাম সুজন মঙ্গলবার যুগান্তরকে জানান, করোনাভাইরাসের এ কঠিন সময়েও বিশেষ করে রেলের দুই মেগা প্রকল্পের কাজ একেবারে বন্ধ করা হয়নি। বিদেশি শ্রমিক-প্রকৌশলীদের অনুপস্থিতিতেও মাঠপর্যায়ে কাজ চলেছে। এমন অবস্থায় মেগাসহ ৪১টি উন্নয়ন প্রকল্পের কাজ পুরোদমে শুরু করতে সংশ্লিষ্টদের বিশেষ নির্দেশনা দেয়া হয়। স্বাস্থ্যবিধি মেনে এখন সব প্রকল্পে কাজ চলছে। আশা করছি কাজে গতি ফিরে আসবে। নির্ধারিত সময়ে হয়তো অনেক প্রকল্পের কাজ সমাপ্ত না-ও হতে পারে।

রেলপথ সচিব মো. সেলিম রেজা মঙ্গলবার যুগান্তরকে জানান, রেলের চলমান ৪১টি উন্নয়ন প্রকল্পের কাজের গতি ফিরিয়ে আনতে মন্ত্রণালয় থেকে নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। গত সপ্তাহে রেলপথ মন্ত্রণালয়ে অনুষ্ঠিত এক বিশেষ বৈঠক থেকে বিশেষ নির্দেশনা দেয়া হয়। সংশ্লিষ্টদের নিয়েও বিশেষ বৈঠক করা হয়েছে। তিনি বলেন, রেলের উন্নয়ন প্রকল্পগুলো যথাসময়ে সমাপ্ত হলে রেলে আমূল পরিবর্তন আসবে। করোনার জন্য প্রকল্পের কাজে যতুটুক ধীরগতি কিংবা ক্ষতি হয়েছে, পুরোদমে কাজ করলে অধিকাংশ কাজ নির্ধারিত সময়ে শেষ করা যাবে।

প্রকল্প সূত্রে জানা গেছে, চলতি বছরের জানুয়ারির শেষের দিকে প্রকল্প দুটির চীনা শ্রমিক-কর্মকর্তাদের একটি অংশ চীনে গিয়ে আটকা পড়েন। পরবর্তী সময়ে মাঠ পর্যায়ে কাজ চললেও মার্চের দিকে করোনার নেতিবাচক প্রভাব পড়তে শুরু করে। স্বল্প পরিসরে কাজ চালিয়ে যান সংশ্লিষ্টরা। দুটি প্রকল্পের মধ্যে পদ্মা সেতু রেল সংযোগে এপ্রিল পর্যন্ত ২৪ দশমিক ২৩ শতাংশ এবং চট্টগ্রাম-কক্সবাজার-রামু রেললাইন নির্মাণ প্রকল্পে ৩৮ শতাংশ কাজ হয়েছে। মেগা দুই প্রকল্পের নির্মাণ ব্যয় বরাদ্দ প্রায় ৬০ হাজার কোটি টাকা।

এ বিষয়ে ম্যাক্স গ্রুপ ও এর সহযোগী ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান ম্যাক্স ইনফ্রাস্ট্রাকচারের চেয়ারম্যান প্রকৌশলী গোলাম মোহাম্মদ আলমগীর যুগান্তরকে জানান, চট্টগ্রাম-কক্সবাজার-রামু রেললাইন নির্মাণ প্রকল্প এবং ঢাকা-চট্টগ্রাম ডুয়েলগেজ ডাবল লাইন নির্মাণ প্রকল্পে তারা কাজ করছেন। আমাদের ইচ্ছে থাকলেও করোনার কারণে কাজের সুযোগ পাচ্ছিলাম না। কাজের গতি একেবারেই কমে গিয়েছিল। সম্প্রতি রেলপথ মন্ত্রণালয় থেকে নির্দেশনা পাওয়া গেছে। এখন মাঠ পর্যায়ে প্রায় ৯০ শতাংশ শ্রমিক-প্রকৌশলী পুরোদমে কাজ করছেন। স্বাস্থ্যবিধি মেনে কাজ করায় কাজের গতি বাড়ছে না। তিনি বলেন, আমাদের পর্যাপ্ত ইকুইপমেন্ট রয়েছে। জেভির (জয়েন্ট ভেনচার) মাধ্যমে কাজ করার কথা থাকলেও কিছু চীনা ঠিকাদার, প্রকৌশলী ও শ্রমিকের অনুপস্থিতিতে কাজ করতে হচ্ছে। আমার দেশের উন্নয়ন, প্রকল্প বাস্তবায়ন আমাদেরই চ্যালেঞ্জ বেশি।

পদ্মা সেতু রেল সংযোগ প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক গোলাম ফখরুদ্দিন এ চৌধুরী যুগান্তরকে জানান, আমরা পুরোদমে কাজ শুরু করছি। শ্রমিকরাও চলে এসেছে। তাদের থাকা-খাওয়ার ব্যবস্থা করা হচ্ছে। চট্টগ্রাম-কক্সবাজার-রামু রেললাইন নির্মাণ প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক মফিজুর রহমান যুগান্তরকে জানান, মেগা এ প্রকল্পে চীনাদের অনুপস্থিতি নেতিবাচক প্রভাব ফেললেও আমরা পুরোদমে কাজ শুরু করেছি। ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান দ্রুততার সঙ্গে কাজ করছে। শ্রমিক-প্রকৌশলীরা সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে কাজ করছেন।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক রেলওয়ে অর্থনীতি বিভাগের এক কর্মকর্তা জানান, ৪১টি প্রকল্পের মধ্যে অনেকগুলোর মেয়াদ ও ব্যয় বাড়ানো হয়েছে। করোনার প্রভাবে বেশ কতগুলো প্রকল্প নির্ধারিত সময়ের মধ্যে না-ও সমাপ্ত হতে পারে। কোনো কোনো প্রকল্পে চার মাস ধরে কাজ একেবারে বন্ধ ছিল। মন্ত্রণালয় থেকে নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক রেলওয়ের আরেক কর্মকর্তা জানান, নির্দেশনা অনুযায়ী প্রতিটি প্রকল্পে পুরোদমে কাজ শুরু করলে নির্ধারিত সময় ও ব্যয়ের মধ্যেই প্রকল্পগুলো শেষ করা সম্ভব হবে।