করোনায় আক্রান্ত ৬৮ শ্রমিক সচল ৫৩৭ শিল্পকারখানা
jugantor
নারায়ণগঞ্জে মহাবিপর্যয়ের আশঙ্কা
করোনায় আক্রান্ত ৬৮ শ্রমিক সচল ৫৩৭ শিল্পকারখানা

  রাজু আহমেদ, নারায়ণগঞ্জ  

২৩ মে ২০২০, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

দেশের বৃহত্তম রফতানি খাত নিট সেক্টরসহ শিল্প ও বন্দরনগরী নারায়ণগঞ্জের শিল্প মালিক ও শ্রমিকদের ভাবিয়ে তুলেছে করোনার প্রকোপ। সাধারণ মানুষের পাশাপাশি প্রতিদিন এ জেলায় শ্রমিকদের মাঝে করোনা আক্রান্তের সংখ্যা আশঙ্কাজনক হারে বৃদ্ধি পাওয়ায় এ নিয়ে শঙ্কিত সবাই। জানা গেছে, নারায়ণগঞ্জের ১২টি শিল্প কারখানার ৬৮ শ্রমিকের করোনা আক্রান্ত হওয়ার খবর নিশ্চিত হয়েছে জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ। আক্রান্ত এসব শ্রমিকের সিংহভাগই গার্মেন্টকর্মী। করোনার এমন ঝুঁকির মাঝেও শুক্রবার জেলায় চালু ছিল ১৪৩টি শিল্প কারখানা। এদিকে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে মহামারী রূপধারণ করতে পারে জেলার বন্দর উপজেলায়- এমন আশঙ্কা করছেন স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মকর্তারা। বিশেষ করে ঈদ কেনাকাটা আর ফ্যাক্টরিতে কাজে যোগদানের দোহাই দিয়ে প্রতিদিন বন্দর উপজেলা থেকে প্রায় অর্ধলাখ মানুষ আসা-যাওয়া করছেন নারায়ণগঞ্জ নগরীতে। শীতলক্ষ্যার খেয়া পারাপারের ঘাটগুলোর অবস্থা এখন এতটাই মারাত্মক যে, নদীতে অতিরিক্ত যাত্রীবোঝাই নৌকা ট্রলার যেকোনো সময় দুর্ঘটনার শিকার হতে পারে।

গার্মেন্ট ও মার্কেট খুলে দেয়ার সিদ্ধান্তের পর থেকে নারায়ণগঞ্জে করোনা আক্রান্তের সংখ্যা আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে। শুক্রবার পর্যন্ত ১২টি ফ্যাক্টরির মোট ৬৮ শ্রমিকের করোনায় আক্রান্তের খবর নিশ্চিত হওয়া গেলেও বাস্তবে এ সংখ্যা কয়েকগুণ হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। কারণ করোনায় নমুনা পরীক্ষার ক্ষেত্রে পেশার উল্লেখ করতে হয় না বলে অনেকেই উপসর্গ নিয়ে নমুনা দিয়েছেন এবং পজিটিভ রিপোর্ট এলেও কে শ্রমিক বা শ্রমিক নন তা নিরূপণ করা কঠিন। জানা গেছে, গণমাধ্যমের দাবির মুখে বিষয়টি আমলে নেয় জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ। বিশেষ করে জেলা সিভিল সার্জন ও নারায়ণগঞ্জ কোভিড-১৯ হাসপাতালে নমুনা দিতে আসাদের পেশা জেনে রাখা শুরু হয় গত সপ্তাহে। নারায়ণগঞ্জ কোভিড-১৯ হাসপাতালের (খানপুর ৩শ’ শয্যা হাসপাতাল) সুপার ডা. গৌতম জানান, বিষয়টি নিয়ে আমরাও চিন্তিত ছিলাম বলে উপসর্গ নিয়ে আসা রোগীদের পেশা জানা শুরু করি। তিনি জানান, গত এক সপ্তাহে প্রায় দুই শতাধিক শ্রমিক এখানে জরুরি বিভাগের চিকিৎসাসেবা নিয়েছেন এবং অনেকেরই নমুনা আমরা পরীক্ষা করেছি। শুক্রবার দুপুরে জেলা করোনা সমন্বয় কমিটির ফোকাল পারসন ডা. জাহিদুল ইসলাম জানিয়েছেন, ১২টি শিল্পপ্রতিষ্ঠানে অর্ধশতাধিক শ্রমিক করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন। সবচেয়ে বেশি আক্রান্ত ফকির নিটওয়্যারে। এরপর আরও ১১টি প্রতিষ্ঠানের শ্রমিকরা আক্রান্ত। এছাড়া নিয়মিত করোনা হাসপাতালের জরুরি বিভাগেও শ্রমিকরা চিকিৎসাসেবা নিচ্ছেন। আক্রান্ত সব শ্রমিক আইসোলেশনে থাকবেন তবে প্রতিষ্ঠান শাটডাউন করা হবে না আপাতত। প্রতিষ্ঠানগুলো স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলবে এবং পাশাপাশি আক্রান্তদের চিকিৎসা ব্যবস্থাও গার্মেন্ট কর্তৃপক্ষ দেখভাল করবে।

শুক্রবার ১৪৩টি শিল্প কারখানা সচল ছিল বলে নিশ্চিত করেছেন নারায়ণগঞ্জ শিল্প পুলিশ-৪ এর পরিদর্শক (ইন্টেলিজেন্স) শেখ বশির আহমেদ। এর মধ্যে নারায়ণগঞ্জে বিজিএমইএ’র সদস্যভুক্ত ২৩৫ কারখানার মধ্যে ১০টি, বিকেএমইএর ৭৯২ কারখানার মধ্যে ৪৫টি, বেপজার অধীনে থাকা ইপিজেডে ৪৮ কারখানার মধ্যে ১০টি ও বিটিএমএর ১৭২টির মধ্যে ১৪টি চালু ছিল। অন্য আরও ৬৪টি কারখানা আজ খোলা ছিল।

এদিকে নারায়ণগঞ্জে গত ২৪ ঘণ্টায় ৩৯ জন করোনাভাইরাসে (কোভিড-১৯) আক্রান্ত রোগী শনাক্ত করা হয়েছে। আর এখন পর্যন্ত জেলায় মোট ৮৬০৪ জনের নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে; যার মধ্যে ১৯১৭ জনের ফলাফলে পজিটিভ এসেছে। মৃত্যু হয়েছে মোট ৬৯ জনের।

নারায়ণগঞ্জে মহাবিপর্যয়ের আশঙ্কা

করোনায় আক্রান্ত ৬৮ শ্রমিক সচল ৫৩৭ শিল্পকারখানা

 রাজু আহমেদ, নারায়ণগঞ্জ 
২৩ মে ২০২০, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

দেশের বৃহত্তম রফতানি খাত নিট সেক্টরসহ শিল্প ও বন্দরনগরী নারায়ণগঞ্জের শিল্প মালিক ও শ্রমিকদের ভাবিয়ে তুলেছে করোনার প্রকোপ। সাধারণ মানুষের পাশাপাশি প্রতিদিন এ জেলায় শ্রমিকদের মাঝে করোনা আক্রান্তের সংখ্যা আশঙ্কাজনক হারে বৃদ্ধি পাওয়ায় এ নিয়ে শঙ্কিত সবাই। জানা গেছে, নারায়ণগঞ্জের ১২টি শিল্প কারখানার ৬৮ শ্রমিকের করোনা আক্রান্ত হওয়ার খবর নিশ্চিত হয়েছে জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ। আক্রান্ত এসব শ্রমিকের সিংহভাগই গার্মেন্টকর্মী। করোনার এমন ঝুঁকির মাঝেও শুক্রবার জেলায় চালু ছিল ১৪৩টি শিল্প কারখানা। এদিকে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে মহামারী রূপধারণ করতে পারে জেলার বন্দর উপজেলায়- এমন আশঙ্কা করছেন স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মকর্তারা। বিশেষ করে ঈদ কেনাকাটা আর ফ্যাক্টরিতে কাজে যোগদানের দোহাই দিয়ে প্রতিদিন বন্দর উপজেলা থেকে প্রায় অর্ধলাখ মানুষ আসা-যাওয়া করছেন নারায়ণগঞ্জ নগরীতে। শীতলক্ষ্যার খেয়া পারাপারের ঘাটগুলোর অবস্থা এখন এতটাই মারাত্মক যে, নদীতে অতিরিক্ত যাত্রীবোঝাই নৌকা ট্রলার যেকোনো সময় দুর্ঘটনার শিকার হতে পারে।

গার্মেন্ট ও মার্কেট খুলে দেয়ার সিদ্ধান্তের পর থেকে নারায়ণগঞ্জে করোনা আক্রান্তের সংখ্যা আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে। শুক্রবার পর্যন্ত ১২টি ফ্যাক্টরির মোট ৬৮ শ্রমিকের করোনায় আক্রান্তের খবর নিশ্চিত হওয়া গেলেও বাস্তবে এ সংখ্যা কয়েকগুণ হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। কারণ করোনায় নমুনা পরীক্ষার ক্ষেত্রে পেশার উল্লেখ করতে হয় না বলে অনেকেই উপসর্গ নিয়ে নমুনা দিয়েছেন এবং পজিটিভ রিপোর্ট এলেও কে শ্রমিক বা শ্রমিক নন তা নিরূপণ করা কঠিন। জানা গেছে, গণমাধ্যমের দাবির মুখে বিষয়টি আমলে নেয় জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ। বিশেষ করে জেলা সিভিল সার্জন ও নারায়ণগঞ্জ কোভিড-১৯ হাসপাতালে নমুনা দিতে আসাদের পেশা জেনে রাখা শুরু হয় গত সপ্তাহে। নারায়ণগঞ্জ কোভিড-১৯ হাসপাতালের (খানপুর ৩শ’ শয্যা হাসপাতাল) সুপার ডা. গৌতম জানান, বিষয়টি নিয়ে আমরাও চিন্তিত ছিলাম বলে উপসর্গ নিয়ে আসা রোগীদের পেশা জানা শুরু করি। তিনি জানান, গত এক সপ্তাহে প্রায় দুই শতাধিক শ্রমিক এখানে জরুরি বিভাগের চিকিৎসাসেবা নিয়েছেন এবং অনেকেরই নমুনা আমরা পরীক্ষা করেছি। শুক্রবার দুপুরে জেলা করোনা সমন্বয় কমিটির ফোকাল পারসন ডা. জাহিদুল ইসলাম জানিয়েছেন, ১২টি শিল্পপ্রতিষ্ঠানে অর্ধশতাধিক শ্রমিক করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন। সবচেয়ে বেশি আক্রান্ত ফকির নিটওয়্যারে। এরপর আরও ১১টি প্রতিষ্ঠানের শ্রমিকরা আক্রান্ত। এছাড়া নিয়মিত করোনা হাসপাতালের জরুরি বিভাগেও শ্রমিকরা চিকিৎসাসেবা নিচ্ছেন। আক্রান্ত সব শ্রমিক আইসোলেশনে থাকবেন তবে প্রতিষ্ঠান শাটডাউন করা হবে না আপাতত। প্রতিষ্ঠানগুলো স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলবে এবং পাশাপাশি আক্রান্তদের চিকিৎসা ব্যবস্থাও গার্মেন্ট কর্তৃপক্ষ দেখভাল করবে।

শুক্রবার ১৪৩টি শিল্প কারখানা সচল ছিল বলে নিশ্চিত করেছেন নারায়ণগঞ্জ শিল্প পুলিশ-৪ এর পরিদর্শক (ইন্টেলিজেন্স) শেখ বশির আহমেদ। এর মধ্যে নারায়ণগঞ্জে বিজিএমইএ’র সদস্যভুক্ত ২৩৫ কারখানার মধ্যে ১০টি, বিকেএমইএর ৭৯২ কারখানার মধ্যে ৪৫টি, বেপজার অধীনে থাকা ইপিজেডে ৪৮ কারখানার মধ্যে ১০টি ও বিটিএমএর ১৭২টির মধ্যে ১৪টি চালু ছিল। অন্য আরও ৬৪টি কারখানা আজ খোলা ছিল।

এদিকে নারায়ণগঞ্জে গত ২৪ ঘণ্টায় ৩৯ জন করোনাভাইরাসে (কোভিড-১৯) আক্রান্ত রোগী শনাক্ত করা হয়েছে। আর এখন পর্যন্ত জেলায় মোট ৮৬০৪ জনের নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে; যার মধ্যে ১৯১৭ জনের ফলাফলে পজিটিভ এসেছে। মৃত্যু হয়েছে মোট ৬৯ জনের।