নমুনা সংগ্রহের কিট তৈরি করল ডিআরআইসিএম

  যুগান্তর রিপোর্ট ২৯ মে ২০২০, ০০:০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

দেশে করোনাভাইরাস মোকাবেলায় নমুনার সঠিক পরীক্ষার জন্য সঠিক পদ্ধতিতে নমুনা সংগ্রহ করা অত্যন্ত জরুরি হয়ে পড়েছে। এমন অবস্থায় করোনা আক্রান্তদের নমুনা সঠিকভাবে সংগ্রহের জন্য একটি সরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান অনেক কম মূল্যের ভিটিএম (ভাইরাল ট্রান্সপোর্ট মিডিয়া) কিট তৈরি করেছে।

বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের সংস্থা বিসিএসআইআরের গবেষণাগার ডেজিগনেটেড রেফারেন্স ইন্সটিটিউট ফর কেমিক্যাল মেজারমেন্টসের (ডিআরআইসিএম) একদল গবেষক আন্তর্জাতিক মানের গবেষণাগারে ভিটিএম কিটটি তৈরি করেছে। এতে নেতৃত্ব দেন ডিআরআইসিএমের পরিচালক ড. মালা খান। ভিটিএম হল- লবণ, প্রোটিন এবং অ্যান্টিবায়োটিকের সমন্বয়ে তৈরি বিশেষ ধরনের দ্রবণ। এর মাধ্যমে ভাইরাসের নমুনা সংগ্রহ, পরিবহন এবং দীর্ঘ সময় সংরক্ষণ করা যায়। করোনাভাইরাসের (সার্স কোভ-২) নমুনা সংগ্রহের জন্য বিশেষ ধরনের ভিটিএম তৈরির গাইডলাইন দিয়েছে সেন্টার ফর ডিসিজ কন্ট্রোল (সিডিসি, ইউএসএ) এবং বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও)।

ভিটিএম কিট তৈরি সম্পর্কে ড. মালা খান যুগান্তরকে বলেন, কমিউনিটি পর্যায়ে কোভিড-১৯ ছড়িয়ে পড়ার কারণে এখন ব্যাপক ভিত্তিতে পরীক্ষার কোনো বিকল্প নেই। দেশে অনেক সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান ও বিশ্ববিদ্যালয় ‘কোভিড-১৯’ পরীক্ষার সক্ষমতা অর্জন করেছে। কিন্তু মাঠ পর্যায়ে সঠিক উপায়ে ও পর্যাপ্ত নমুনা সংগ্রহের সীমাবদ্ধতার কারণে পরীক্ষায় ধীরগতি রয়েছে।

ড. মালা খান আরও বলেন, করোনার আরটি-পিসিআর পরীক্ষায় ভিটিএম কিটের অপর্যাপ্ততা একটি বড় বাধা। যথাযথ উপায়ে ও দ্রুততম সময়ে নমুনা সংগ্রহ ও দীর্ঘ সময় সংরক্ষণ- এসব কিছু বিবেচনা করে ডিআরআইসিএম ‘কোভিড-১৯’ পরীক্ষার একটি আদর্শ ভিটিএম কিট তৈরি করেছে। এ ভিটিএমে সংগৃহীত নমুনা চার ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রায় সহজে তিন দিন পর্যন্ত সংরক্ষণ করা যায়। ফলে নমুনা বাতিল হওয়া বা একজনের কাছ থেকে একাধিকবার নমুনা সংগ্রহ এবং পরীক্ষা করার দীর্ঘ প্রক্রিয়া এড়ানো সম্ভব হবে। তিনি বলেন, বিভিন্ন দিক বিবেচনা করে কিটটিতে সল্যুশন রাখার জন্য টিউব নির্বাচন করা হয়েছে। নমুনা হ্যান্ডলিংয়ের সময় ক্রস-কন্টামিনেশন যেন না হয় সে বিষয় বিবেচনা করে টিউব নির্বাচন করা হয়েছে। টিউবটি হালকা, এক হাতে সহজে ধরা যায় এবং এতে রবার স্টপার্স সংবলিত মুখ থাকায় চুইয়ে পড়ার কোনো আশঙ্কা নেই। মূলত তিনটি স্থান নাকের দুটি ছিদ্র ও গলা থেকে ‘কোভিড-১৯’ রোগীর নমুনা সংগ্রহ করতে হয়। নাকের মধ্যে একটি নমুনা হল ন্যাজাল সোয়াব এবং অপরটি হল শেষ প্রান্তে গলার পেছনের দেয়াল থেকে নেয়া নাসোফারিঞ্জিয়াল (Nasopharyngeal) সোয়াব। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি কার্যকর হচ্ছে নাসোফারিঞ্জিয়াল নমুনা সংগ্রহ পদ্ধতি। এ পদ্ধতিতে নমুনা সংগ্রহের পদ্ধতি একটু জটিল। তাই এ পদ্ধতিকে সহজ করার জন্য কিটটিতে স্যাম্পল কালেকশনের উপযুক্ত সোয়াব স্টিক দেয়া হয়েছে। এছাড়া গলার অরোফারিঞ্জিয়াল (Oropharyngeal) স্যাম্পল কালেকশন করার ক্ষেত্রে রোগীকে যেন দীর্ঘক্ষণ মুখ খোলা রাখতে না হয় সেজন্য কিটটিতে রয়েছে একটি ‘টাং হোল্ডার’। যা ব্যবহার করে সহজেই ডিপ থ্রট থেকে নমুনা সংগ্রহ করা সম্ভব। এছাড়া কিটটিতে সিডিসি’র গাইডলাইন অনুযায়ী ছবিযুক্ত একটি নির্দেশনালিপি দেয়া হয়েছে। এতে খুব সহজে মাঠপর্যায়ের কর্মীরা অনুসরণ করতে পারবেন। কিটটি ব্যবহারের জন্য স্বাস্থ্য অধিদফতর ইতোমধ্যে সবুজ সংকেত দিয়েছে।

মঙ্গলবার স্বাস্থ্য অধিদফতরের ভারপ্রাপ্ত মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. নাসিমা সুলতানার কাছে ডিআরআইসিএম পরিচালক ড. মালা খান ভিটিএম কিট উপহার দিয়েছেন। বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রী স্থপতি ইয়াফেস ওসমানের নির্দেশে ও প্রত্যক্ষ তত্ত্বাবধানে ভিটিএম কিট তৈরির কর্মসূচি পরিচালিত হয়েছে।

সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত