করোনা পরিস্থিতি মোকাবেলা

মানবিকতার প্রতিচ্ছবি শেরপুরের পুলিশ

  শেরপুর প্রতিনিধি ২৯ মে ২০২০, ০০:০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

মানবিকতার প্রতিচ্ছবি হয়ে উঠেছেন শেরপুর জেলায় নিয়োজিত পুলিশ বাহিনীর সদস্যরা। করোনার এ মহামারীর সময় মৃত্যুঝুঁকি উপেক্ষা করে তারা মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছেন। মানুষকে সচেতন করার পাশাপাশি কর্মহীন ও অসহায়দের মধ্যে খাদ্য সহায়তা পৌঁছে দেয়া এবং কৃষকের ধান কেটে দেয়ার মতো নানামুখী কাজ করে চলেছেন তারা। আর তাদের এ কাজ সবার কাছে প্রশংসা কুড়িয়েছে।

জেলা পুলিশের এ কাজে নেতৃত্ব দিচ্ছেন সুপার কাজী আশরাফুল আজীম। করোনা সংক্রমণ শুরু হওয়ার পর থেকে কখনও গ্রাম, কখনও গারো পাহাড়ের নির্জন বন, আবার কখনও চরাঞ্চলে ছুটছেন তিনি। ছুটছেন জেলার একপ্রান্ত থেকে অন্যপ্রান্তে। কখনও কখনও নিজের পকেটের টাকায় খাবার ও ওষুধ কিনে তুলে দিচ্ছেন কর্মহীন মানুষের হাতে। এ কারণে জেলায় ব্যাপক আলোচিত এই মুক্তিযোদ্ধার সন্তান।

জেলা পুলিশ কীভাবে করোনা পরিস্থিতি মোকাবেলা করছে জানতে চাইলে কাজী আশরাফুল আজীম বলেন, জেলাবাসীর জানমালের নিরাপত্তার পাশাপাশি মানবিক সাহায্যের বিষয়টি মাথায় রেখে আমরা কাজ করে যাচ্ছি। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ও আইজিপি মহোদয়ের আহ্বান- পুলিশকে মানবিক হতে হবে এবং মানবিক আচরণ করতে হবে। আমরা সেই নির্দেশ মতো কাজ করে যাচ্ছি।

পুলিশ সুপার বলেন, প্রচারপত্র বিলি করে মানুষকে করোনা সম্পর্কে সচেতন করার চেষ্টা করেছি। মসজিদ, বাজার এবং গুরুত্বপূর্ণ জনসমাগম স্থলে সাইনবোর্ড, ব্যানার ও ফেস্টুন টাঙিয়ে করোনা সম্পর্কিত বিভিন্ন সতর্ক বার্তা, বিভিন্ন নির্দেশনা, স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার জন্য জনসাধারণকে আহ্বান জানাচ্ছি। লকডাউন নিশ্চিত করার জন্য জেলার গুরুত্বপূর্ণ প্রবেশ দ্বারগুলোতে চেকপোস্ট বসিয়েছি। জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে আমরাই প্রথম করোনা ইমার্জেন্সি রেসপন্স টিম গঠন করি। এ রকম ১৪টি টিমের মাধ্যমে আমরা খাদ্যসামগ্রী ও ওষুধ অসহায় মানুষের কাছে পৌঁছে দিচ্ছি।

পুলিশ সুপার বলেন, ‘শেরপুর কৃষিপ্রধান খাদ্য উদ্বৃত্ত এলাকা। এটা মাথায় রেখে কৃষিজাত পণ্য পরিবহন সুনিশ্চিত করা হয়েছে। আমরাই প্রথম বোরো মৌসুমে ধানকাটা উৎসব শুরু করেছি। এখানে শ্রমিকের সংকট রয়েছে। তাই করোনা ইমার্জেন্সি রেসপন্স টিমের মাধ্যমে এপ্রিলের তৃতীয় সপ্তাহ থেকে আমরা কৃষকের ধান কেটে দেয়ার কাজ শুরু করেছি। এই ধান ঘরে উঠলেই খাদ্যের নিরাপত্তা নিশ্চিত হবে। আর খাদ্যের নিরাপত্তা নিশ্চিত হলে জনগণের জানমালের নিরাপত্তা ও আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণ সম্ভব হবে।’ তিনি বলেন, ‘ক্ষুদ্র নৃ-তাত্ত্বিক গোষ্ঠীকে টার্গেট করে সীমান্তবর্তী নালিতাবাড়ী, শ্রীবরদী ও ঝিনাইগাতী উপজেলায় খাদ্যসামগ্রী পৌছে দেয়ার কাজও চলমান রয়েছে। এছাড়া মহান মুক্তিযুদ্ধের মর্মস্পর্শী স্মৃতিবাহী নালিতাবাড়ী বিধবা পল্লীর বিধবাদেরও খাদ্যসামগ্রী পৌঁছে দেয়া হয়েছে।’ এক প্রশ্নের জবাবে পুলিশ সুপার বলেন, জীবন এবং জীবিকা নিয়েই আমাদের চলতে হবে। করোনার এ সংকট কবে কাটবে তা কেউ জানে না। কিন্তু আমাদের জীবিকা তো থামিয়ে রাখলে চলবে না।

তাই জীবন এবং জীবিকাকে সমন্বয় করতে হবে। সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে জীবিকা নির্বাহের ব্যবস্থা করতে হবে। ঈদ উপলক্ষে যদি কিছু কিনতেই হয় সেটি সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে করতে হবে।

অপর এক প্রশ্নের জবাবে কাজী আশরাফুল আজীম বলেন, আমারা পেশাগত দায়বদ্ধতার জায়গা থেকেই সব কিছু করছি। আমি এই দেশ ও মাটির সন্তান। মাটির কাছে আমার অনেক ঋণ। করোনার এ সময়ে আমি যদি নিজেকে গুটিয়ে রাখি তাহলে নিজের সঙ্গে নিজের প্রতারণা করা হবে। এ প্রতারণা দেশদ্রোহিতার শামিল। আমরা বঙ্গবন্ধুর রক্তের উত্তরসূরি জননেত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে কাজ করছি। এ সংকট অবশ্যই আমরা মোকাবেলা করতে পারব।

সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত