মহাদুর্যোগে ঘূর্ণিঝড়ের পর ঝড় ও শিলাবৃষ্টি

দিনাজপুরে লোকসানে আম ও লিচু বাগান মালিকরা

  দিনাজপুর ও বিরল প্রতিনিধি ২৯ মে ২০২০, ০০:০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

করোনাভাইরাসের মহাদুর্যোগে লকডাউন অবস্থায় দিনাজপুরের আম ও লিচুর বিপণন নিয়ে দুশ্চিন্তায় ছিলেন বাগান মালিকরা। এর ওপর গত সপ্তাহে ঘূর্ণিঝড় আম্পানের পর মঙ্গলবার রাতে দ্বিতীয় দফায় প্রবল ঝড়ে ভেঙে পড়েছে শত শত আম ও লিচুগাছ। ঝড়ের সঙ্গে শিলাবৃষ্টিতে ঝরে পড়েছে শত শত টন আম ও লিচু। ঘরবন্দি অবস্থায় পরপর দু’বারের প্রবল ঝড়ে চরম লোকসানের মুখে পড়েছেন এসব বাগান মালিক।

দিনাজপুর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের তথ্যমতে, দিনাজপুর জেলায় চলতি বছর ৫ হাজার ৬৯২ হেক্টর জমিতে আম এবং ৬ হাজার ৫৪৬ হেক্টর জমিতে লিচু চাষ হচ্ছে। এবার ফলন ভালো হওয়ায় ৯৬ হাজার ৭৪৬ টন আম এবং ৩৯ হাজার ২৭৬ টন লিচু উৎপাদনের আশা করেছিল কৃষি বিভাগ। কিন্তু গত এক সপ্তাহে পরপর দু’বার প্রাকৃতিক দুর্যোগে এ জেলায় আম ও লিচুর ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে।

বাজারে আসার আগ মুহূর্তে মঙ্গলবার দিবাগত রাতে দিনাজপুর জেলার ওপর দিয়ে বয়ে যাওয়া প্রবল ঝড়ে ভেঙে পড়েছে শত শত আম ও লিচুগাছ। ঝড়ের সঙ্গে শিলাবৃষ্টিতে ঝরে পড়েছে শত শত টন আম ও লিচু। যদিও কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগ বলছে, মঙ্গলবার দিবাগত রাতের ঝড়ে প্রায় ১৫ কোটি টাকার আম এবং ২ কোটি টাকার লিচু ক্ষতি হয়েছে। ২১ ও ২২ মে ঘূর্ণিঝড় আম্পানে ব্যাপক ক্ষতি হয় আম ও লিচুর। ওই সময় কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপপরিচালক তৌহিদুল ইকবাল জানান, ঘূর্ণিঝড় আম্পানের ফলে দিনাজপুর জেলার ১০ শতাংশ আম এবং ৫ শতাংশ লিচুর ক্ষতি হয়েছে। এ হিসাব অনুযায়ী, তখন ৯ হাজার ৬৭৬ টন আম এবং ২ হাজার টন লিচু নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা করা হয়।

এমনিতেই করোনাভাইরাসের মহাদুর্যোগের কারণে দিনাজপুরের আম এবং লিচুর বিপণন ও দাম নিয়ে শঙ্কায় রয়েছেন বাগান মালিকরা। এর ওপর পরপর দু’বার প্রাকৃতিক দুর্যোগে ব্যাপক ক্ষতির কারণে তারা এখন রয়েছে দুশ্চিন্তায়। বিরল উপজেলার মাধববাটী গ্রামের লিচুর বাগান মালিক আনারুল ইসলাম জানান, একমাত্র লিচুই তাদের ভরসা। এ অবস্থায় তাদের পথে বসা ছাড়া আর কোনো উপায় নেই। সাকইর গ্রামের হাসান আলী জানান, ঝড়ে তার ইজারা নেয়া ১৭৫টি আমগাছের মধ্যে ১৫টি সম্পূর্ণ উপড়ে গেছে। বাকিগুলোর ডালপালা ভেঙে গেছে। বাগান থেকে ১০ শতাংশ আমও পাবেন না তিনি।

বাগানটি ইজারা নেয়া, পরিচর্যাসহ তার খরচ হয়েছে ১৫ লাখ টাকা। ঝড়ের কারণে সবটাই লোকসান।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপপরিচালক তৌহিদুল ইকবাল জানান, মঙ্গলবার রাতে যে ঝড় বয়ে গেছে, তাতে দিনাজপুর সদর, বিরল, বীরগঞ্জ ও নবাবগঞ্জ উপজেলায় আম ও লিচুর ক্ষতি হয়েছে। বর্ষণের জন্য বেশকিছু এলাকার পাকা বোরো ধান পানিতে তলিয়ে গেছে। যদিও জেলার ১ লাখ ৭১ হাজার হেক্টর জমির বোরো ধানের মধ্যে ৬০ শতাংশ বোরো ধান ইতোমধ্যে কেটে নেয়া হয়েছে। তিনি জানান, ক্ষতিগ্রস্ত আম, লিচু এবং বোরো চাষীদের তালিকা করে তাদের প্রণোদনার আওতায় আনা হবে।

দিনাজপুর আঞ্চলিক আবহাওয়া অফিসের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা তোফাজ্জল হোসেন জানান, মঙ্গলবার সন্ধ্যা ৬টা থেকে বুধবার সন্ধ্যা ৬টায় পর্যন্ত দিনাজপুর জেলায় ১৬০ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে, যা এ সময়ে দেশের সর্বোচ্চ বৃষ্টিপাত। বুধবার রাত সোয়া ১২টায় দেড় মিনিট শিলাবৃষ্টি হয়েছে।

সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত