চাটমোহরে শত শত হেক্টর জমির বোরো ধান পানিতে

বিপাকে কৃষক

  চাটমোহর (পাবনা) প্রতিনিধি ৩০ মে ২০২০, ০০:০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

ঘূর্ণিঝড় আম্পান ও বৃষ্টির পানিতে তলিয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে পাবনার চাটমোহর উপজেলার শত শত হেক্টর বোরো ধানের ক্ষেত। জলাবদ্ধতার কারণে পাকা বোরো ধান কাটা নিয়ে বিপাকে পড়েছেন চলনবিল অধ্যুষিত এ অঞ্চলের কৃষকরা। সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগের শিকার হতে হচ্ছে বিলে যাওয়া-আসার কোনো সংযোগ সড়ক না থাকায়। বাধ্য হয়ে কাদা পানির মধ্য দিয়ে অনেক কষ্টে পাকা ধান কেটে ঘরে তুলছেন এ অঞ্চলের কৃষকরা।

সরেজমিন উপজেলার কুকড়াগাড়ি বিল, ডিকশির বিল, চিরইল বিল, ধলার বিল, জিয়াল বিলসহ বেশ কয়েকটি বিল ঘুরে দেখা গেছে, কোথাও হাঁটু পানি, আবার কোথাও বা কোমর পর্যন্ত পানিতে নেমে পাকা বোরো ধান কাটছেন কৃষকরা। পানিতে তলিয়ে যাওয়ার কারণে জমিতেই ধান পচে নষ্ট হচ্ছে। তাই চিটা হওয়ার ভয়ে কোনোমতে ঘরে তোলার জন্য পাকা বোরো ধান কাটছেন সবাই। পরে নৌকায় ও মহিষের গাড়িতে করে কাটা ধান শুকনো জায়গায় এনে রাখা হচ্ছে।

সবচেয়ে বেশি ক্ষতির শিকার হয়েছে উপজেলার হরিপুর ইউনিয়নের ধুলাউড়ি-বেলুড়ি মৌজার খলিশাগাড়ি বিলের প্রায় ১০০ হেক্টর জমিতে লাগানো পাকা বোরো ধানের ক্ষেত। ওই এলাকার জমিতে সৃষ্টি হয়েছে জলাবদ্ধতা। হাঁটু ও কোমর পানিতে নেমে ধান কাটছেন কৃষকরা। জমিতে যাওয়ার নেই কোনো সড়ক। বাধ্য হয়ে পানিতে ভেজা ধান নৌকায়, মহিষের গাড়ি বা মাথায় করে মূল সড়কে নিয়ে আসছেন সবাই। এতে খরচ বাড়ার পাশাপাশি পাকা ধান ব্যাপকহারে নষ্ট হচ্ছে।

উপজেলার ধুলাউড়ি গ্রামের একাধিক বোরো চাষী যুগান্তরকে জানান, বিলের মধ্যে দিয়ে যাওয়া খাল সংস্কার না করায় পানি বের হতে না পেরে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। এতে বেশিরভাগ ধানের ক্ষেত তলিয়ে গেছে। বিলের মধ্যে নেই কোনো পাকা সড়ক। অনেক কষ্টে মাঠ থেকে ধানের বোঝা নিয়ে মূল সড়কে আসতে হচ্ছে। এতে খরচ যেমন বেড়েছে, তেমনি ধান নষ্টও হচ্ছে। কাটা ধানের গাছগুলো গবাদি পশুকে খাওয়ানো ছাড়া আর কোনো কাজে আসবে না বলে জানান তারা।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা এ এ মাসুম বিল্লাহ যুগান্তরকে জানান, বৃষ্টির পানিতে বিলের তলদেশের কিছু জমিতে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। এতে কিছু কৃষক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। তবে ক্ষতি নিরূপণ করে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের সহায়তা করা এবং খাল খননের ব্যাপারে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানোর আশ্বাস দেন তিনি।

বিষয়টি চাটমোহর উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান আবদুল হামিদ মাস্টারকে জানালে তিনি যুগান্তরকে বলেন, বিষয়টি শোনার পর খলিশাগাড়ি বিল এলাকা পরিদর্শন করে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের সঙ্গে কথা বলেছি। উপজেলা পরিষদের পক্ষ থেকে জরুরিভিত্তিতে বিলের মধ্যে যাওয়া-আসার অস্থায়ী সড়ক তৈরির কাজ শুরুর উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। এছাড়া অন্য সমস্যাগুলোও পরবর্তীতে সামাধান করা হবে বলে আশ্বাস দেন তিনি।

সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত