আম্পান বিধ্বস্ত এলাকায় খাবার-পানির হাহাকার

  আহমদ মুসা রঞ্জু, খুলনা ব্যুরো ০৩ জুন ২০২০, ০০:০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

ঘূর্ণিঝড় আম্পানের আঘাতে বেড়িবাঁধ ভেঙে লবণপানি ঢুকে ৫৮ গ্রামের মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে খুলনার কয়রা উপজেলায়। স্থানীয়দের প্রচেষ্টায় রিংবাঁধ দিয়ে লবণপানি প্রবেশ আটকানো সম্ভব হলেও দুর্ভোগ পিছু ছাড়ছে না মানুষের। তীব্র খাওয়ার পানির সংকট এবং খাবারের জন্য অনেকটা হাহাকার সৃষ্টি হয়েছে। দুর্গম এলাকার মানুষ আরও বেশি দুর্ভোগে পড়েছে। স্থানীয় প্রশাসন ও বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনের সহায়তায় কিছু কিছু এলাকায় সরকারি ত্রাণ পৌঁছলেও বেশির ভাগ দুর্গত এলাকায় তা পৌঁছাচ্ছে না বলে অভিযোগ ভুক্তভোগীদের। রিংবাঁধ সংরক্ষণ করা না হলে আসছে জোয়ারে আবারও প্লাবিত হওয়ার শঙ্কা দেখা দিয়েছে।

কয়রা উপজেলার সর্বদক্ষিণে অবস্থিত দক্ষিণ বেদকাশী ইউনিয়ন। বেড়িবাঁধ ভেঙে পানি ঢোকার পর পুরো ইউনিয়ন উপজেলা সদর থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। এখানকার মানুষ পানি ও খাবারের জন্য সব থেকে বেশি কষ্টে রয়েছে। এ ইউনিয়নের স্বাধীন সমাজকল্যাণ যুব সংস্থার সভাপতি আবু সাঈদ খান জানান, স্থানীয় মানুষ অস্থায়ী ভিত্তিতে রিংবাঁধ দিয়ে আপাতত পানি আটকাতে পেরেছে। তবে সামনের পূর্ণিমায় জোয়ারে এ বাঁধ টেকানো মুশকিল হবে। পানি উন্নয়ন বোর্ডসহ সরকারী দফতরগুলো থেকে সেভাবে তদারকি হচ্ছে না। দুই সপ্তাহে এসব শ্রমিকদের জন্য বরাদ্দ হয়েছে মাত্র ৫ কেজি করে চাল। এ ছাড়াও ইউনিয়নের ৫২শ’ পরিবারের জন্য ২৫০ প্যাকেট খাবার বিতরণ করা হয়েছে প্রশাসনের পক্ষ থেকে।

এসব প্যাকেটে ১৬ কেজি পরিমাণে চাল-ডাল-আলুসহ অন্যান্য খাদ্য ছিল।

এ ইউনিয়নের চেয়ারম্যান জিএম কবি শামসুর রহমান যুগান্তরকে জানান, খাবারের পাশাপাশি মানুষের মধ্যে পানির সংকট প্রকট। স্থানীয় গোলখালী, মাটিয়াভাঙ্গা ও ঘড়িলাল এলাকার মানুষদের ৩-৪ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়ে পানি আনতে হয়। ভেতরের রাস্তা পানির তোড়ে বিলীন হয়ে যাওয়ায় পানি বা অন্য মালামাল আনা-নেয়ায় সীমাহীন দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে মানুষের।

কয়রা সদর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান হুমায়ুন কবির জানান, পানিতে সদর ইউনিয়নের ৮০ ভাগ তলিয়ে গেছে। পানি ও খাবার সংকট এখানে ততটা নেই। তবে যে বাঁধ মেরামত করা হয়েছে, তা রক্ষণাবেক্ষণ করা না হলে আসছে জোয়ারে আবারও ভেঙে যাবে। তখন আর দুর্ভোগের সীমা থাকবে না। উত্তর বেদকাশী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান নুরুল ইসলাম কোম্পানি বলেন, নোনা পানিতে বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হয়েছে। এখন দরকার টেকসই বাঁধ। অবিলম্বে বাঁধ মেরামত কার্যক্রম চালু করা জরুরি।

কয়রা উন্নয়ন সংগ্রাম সমন্বয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক ইমতিয়াজ উদ্দিন জানান, ত্রাণ ও সহযোগিতা প্রদানে সুষম বণ্টন প্রয়োজন। যেসব এলাকায় যাতায়াতের সুবিধা সেসব এলাকার মানুষ সাহায্য পাচ্ছে বেশি। দুর্গম এলাকার মানুষ সে সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। তিনি বলেন, এখন বিপদ দেখা দিয়েছে বাঁধ সংরক্ষণ নিয়ে। পরবর্তী জোয়ারে বাঁধ টিকবে না। মানুষ এখন স্বেচ্ছায় শ্রম দিচ্ছে। বিনা পারিশ্রমিকে বেশি দিন কাজ করবে না। সরকারের উচিত এখনই পদক্ষেপ নেয়া। অন্যথায় সব পণ্ডশ্রম হবে।

পাউবোর নির্বাহী প্রকৌশলী আরিফুজ্জামান খান বলেন, আমরা এস্টিমেট পাঠিয়েছি। বরাদ্দ হলেই কাজ শুরু করব।

কয়রা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শিমুল কুমার সাহা বলেন, ত্রাণ নিয়ে কেউ কোনো অভিযোগ করেনি। বাঁধ মেরামতের জন্য সংশ্লিষ্ট দফতরে বলা হচ্ছে। তারা অচিরেই কাজ শুরু করবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত