কুমিল্লায় শতবর্ষী বৃদ্ধার দায়িত্ব নিচ্ছে না ছেলেমেয়ে
jugantor
কুমিল্লায় শতবর্ষী বৃদ্ধার দায়িত্ব নিচ্ছে না ছেলেমেয়ে

  আবুল খায়ের, কুমিল্লা ব্যুরো  

১৮ জুন ২০২০, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

কুমিল্লার দাউদকান্দিতে সুফিয়া খাতুন নামে শতবর্ষী এক বৃদ্ধার ভরণপোষণের দায়িত্ব নিচ্ছেন না তার ছেলে ও মেয়ে।

অভাবের তাড়নায় চার মাস আগে সুফিয়া খাতুনকে তার বয়োবৃদ্ধ মেয়ে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের গৌরীপুর বাসস্ট্যান্ড এলাকায় ফেলে পালিয়ে যান। পরে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) কামরুল ইসলাম খান তাকে উদ্ধার করে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করান।

পাশাপাশি বয়স্ক ভাতা ও হুইলচেয়ারের ব্যবস্থা করা হয়। এখন শারীরিকভাবে কিছুটা সুস্থ সুফিয়া খাতুন। চার মাস পেরিয়ে গেলেও তার দায়িত্ব নিতে এগিয়ে আসছেন না ছেলেও। ফলে করোনাভাইরাসের এ সংকটে তাকে নিয়ে বিপাকে পড়েছে উপজেলা স্বাস্থ্য বিভাগ।

জানা যায়, দাউদকান্দি উপজেলার নছরুদ্দি গ্রামের মৃত কালাই মিয়ার স্ত্রী সুফিয়া। সহায়-সম্বল ও ভূমিহীন এ পরিবারের একমাত্র ছেলে মোখলেছুর রহমান বর্তমানে বয়োবৃদ্ধ। তিনি বসতভিটার নিজের অংশটি পাঁচ বছর আগে বিক্রি করে দেন। এরপর থেকে তিনি থাকেন তার মেয়ের শ্বশুরবাড়িতে। মোখলেছুর রহমান জানান, অভাবের সংসারে ৯ বছর আগে তার স্ত্রী সৌদি আরবে চলে গেছেন। এখন আর তার সঙ্গে যোগাযোগ রাখেন না। তিনি যাত্রীবাহী বাসে চানাচুর বিক্রি করে জীবিকা নির্বাহ করেন। এমন পরিস্থিতিতে মাকে নিজের কাছে রাখতে পারবেন না।

সুফিয়ার একমাত্র মেয়ে মিনাও এখন বয়োবৃদ্ধা। তিনি পরিবার নিয়ে থাকেন উপজেলার গঙ্গাপ্রসাদ গ্রামে। বাপের ভিটা বিক্রি করে দিয়েছেন তিনিও। তার কাছেই এতদিন ছিলেন সুফিয়া। অভাবের কারণে তিনি তার মাকে মহাসড়কের পাশে ফেলে পালিয়ে যান।

এ বিষয়ে ইউএনও বলেন, সুফিয়া খাতুনের ছেলে মোখলেছুর রহমানকে তার মায়ের দায়িত্ব নেয়ার কথা বললেও তিনি অপারগতা প্রকাশ করেন। এ মুহূর্তে তাকে বৃদ্ধাশ্রমেও দেয়া যাচ্ছে না। ঢাকার আগারগাঁও সরকারি বৃদ্ধাশ্রমে তাকে নেয়ার বিষয়ে কথা হয়েছে। তবে স্বেচ্ছায় কেউ সুফিয়া খাতুনের দায়িত্ব নিতে চাইলে তাকে এক লাখ টাকায় একটি ঘর নির্মাণ করে দেয়াসহ অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা দেয়া হবে।

কুমিল্লায় শতবর্ষী বৃদ্ধার দায়িত্ব নিচ্ছে না ছেলেমেয়ে

 আবুল খায়ের, কুমিল্লা ব্যুরো 
১৮ জুন ২০২০, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

কুমিল্লার দাউদকান্দিতে সুফিয়া খাতুন নামে শতবর্ষী এক বৃদ্ধার ভরণপোষণের দায়িত্ব নিচ্ছেন না তার ছেলে ও মেয়ে।

অভাবের তাড়নায় চার মাস আগে সুফিয়া খাতুনকে তার বয়োবৃদ্ধ মেয়ে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের গৌরীপুর বাসস্ট্যান্ড এলাকায় ফেলে পালিয়ে যান। পরে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) কামরুল ইসলাম খান তাকে উদ্ধার করে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করান।

পাশাপাশি বয়স্ক ভাতা ও হুইলচেয়ারের ব্যবস্থা করা হয়। এখন শারীরিকভাবে কিছুটা সুস্থ সুফিয়া খাতুন। চার মাস পেরিয়ে গেলেও তার দায়িত্ব নিতে এগিয়ে আসছেন না ছেলেও। ফলে করোনাভাইরাসের এ সংকটে তাকে নিয়ে বিপাকে পড়েছে উপজেলা স্বাস্থ্য বিভাগ।

জানা যায়, দাউদকান্দি উপজেলার নছরুদ্দি গ্রামের মৃত কালাই মিয়ার স্ত্রী সুফিয়া। সহায়-সম্বল ও ভূমিহীন এ পরিবারের একমাত্র ছেলে মোখলেছুর রহমান বর্তমানে বয়োবৃদ্ধ। তিনি বসতভিটার নিজের অংশটি পাঁচ বছর আগে বিক্রি করে দেন। এরপর থেকে তিনি থাকেন তার মেয়ের শ্বশুরবাড়িতে। মোখলেছুর রহমান জানান, অভাবের সংসারে ৯ বছর আগে তার স্ত্রী সৌদি আরবে চলে গেছেন। এখন আর তার সঙ্গে যোগাযোগ রাখেন না। তিনি যাত্রীবাহী বাসে চানাচুর বিক্রি করে জীবিকা নির্বাহ করেন। এমন পরিস্থিতিতে মাকে নিজের কাছে রাখতে পারবেন না।

সুফিয়ার একমাত্র মেয়ে মিনাও এখন বয়োবৃদ্ধা। তিনি পরিবার নিয়ে থাকেন উপজেলার গঙ্গাপ্রসাদ গ্রামে। বাপের ভিটা বিক্রি করে দিয়েছেন তিনিও। তার কাছেই এতদিন ছিলেন সুফিয়া। অভাবের কারণে তিনি তার মাকে মহাসড়কের পাশে ফেলে পালিয়ে যান।

এ বিষয়ে ইউএনও বলেন, সুফিয়া খাতুনের ছেলে মোখলেছুর রহমানকে তার মায়ের দায়িত্ব নেয়ার কথা বললেও তিনি অপারগতা প্রকাশ করেন। এ মুহূর্তে তাকে বৃদ্ধাশ্রমেও দেয়া যাচ্ছে না। ঢাকার আগারগাঁও সরকারি বৃদ্ধাশ্রমে তাকে নেয়ার বিষয়ে কথা হয়েছে। তবে স্বেচ্ছায় কেউ সুফিয়া খাতুনের দায়িত্ব নিতে চাইলে তাকে এক লাখ টাকায় একটি ঘর নির্মাণ করে দেয়াসহ অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা দেয়া হবে।