শেষ পর্যন্ত মৃত ভেসে এলো সেই তিমির বাচ্চাটি

  টেকনাফ (কক্সবাজার) প্রতিনিধি ২৩ জুন ২০২০, ০০:০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

শেষ পর্যন্ত মৃত ভেসে এলো সেই তিমির বাচ্চাটি। শনিবার কক্সবাজারের টেকনাফ উপজেলার শাহপরীর দ্বীপের পশ্চিম সৈকতে আটকে পড়েছিল তিমিটি।

জীবিত বিশাল জলজ প্রাণীটি দেখার জন্য মুহূর্তেই ভিড় জমে যায় সৈকতে। প্রাণীটির পেটের দিকে রক্তাক্ত দেখা যায়। স্থানীয়রা প্রথমে তাকে ডলফিন বলে ধরে নেয়। আবার কেউ হাঙ্গর মনে করে। একদল উৎসুক লোক সেটিকে রশি বেঁধে কূলে তুলতে চায়। কিন্তু বিশাল আকৃতির কারণে তা সম্ভব হয়নি। একপর্যায়ে সেটি জোয়ারের সঙ্গে আবার ভেসে যায় সাগরে। দুই দিন পর সোমবার সৈকত উপকূলে মৃত ভেসে আসে প্রাণিটি। সৈকতে ভেসে আসার পর এর আকার-আকৃতি, গঠন দেখে বিশেষজ্ঞরা নিশ্চিত হয়েছেন এটি আসলে তিমি। এর আগে দেশের উপকূলে মৃত তিমি ভেসে এলেও এই প্রথম একটি জীবিত তিমির দেখা মিলেছে।

বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র শাহপরীর দ্বীপের স্থানীয় বাসিন্দা সাদেকুল আমিন জানান, শনিবার জীবিত ভেসে এলে সেটির লেজে রশি বেঁধে উদ্ধারের চেষ্টা করেছিল স্থানীয় জেলেরা। মৃত প্রাণীটির লেজেও একই রকম রশি বাঁধা দেখা গেছে এবং আকার আকৃতিও একই। এ থেকেই মোটামুটি নিশ্চিত হওয়া গেছে এটি সেই জলজ প্রাণী।

স্থানীয় পরিবেশকর্মী ও প্রাণীবিদরা জানিয়েছেন, তিমিটি ব্রাইডস হোয়েলের বাছুর। এটি গভীর সাগরের প্রাণী। তাদের ধারণা, সাগরের জলরাশিতে ঘুরে বেড়ানোর সময় মা তিমির কাছ থেকে আলাদা হয়ে সৈকতের কাছে চলে আসে প্রাণীটি। এরপর আর গভীর সাগরে ফিরে যেতে পারেনি। পরিবেশকর্মীদের মতে, পূর্ণবয়স্ক ব্রাইডস তিমি দৈর্ঘ্যে ৩০ থেকে ৪০ ফুট হয়। শাহপরীর দ্বীপ সৈকতে মৃত তিমিটি ১৮ ফুট দীর্ঘ বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা। প্রাণীবিদদের মতে, করোনাভাইরাসের কারণে উপকূলে মানুষ ও নৌযানের চলাচল কমে যাওয়ায় এবং মাছ আহরণ নিষিদ্ধ থাকায় বঙ্গোপসাগরে ডলফিন ও তিমির বিচরণ বেড়েছে।

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সমুদ্রবিজ্ঞান ইন্সটিটিউটের অধ্যাপক সাইদুর রহমান জানান, টেকনাফ সৈকতে মারা যাওয়া জলজ প্রাণীটি তিমি, এতে কোনো সন্দেহ নেই। ছবি এবং ভিডিওতে এর বাহ্যিক গঠন দেখে নিশ্চিত হয়েছেন তিনি। তবে এটা কোন প্রজাতি, তা নিশ্চিত করতে পারেননি তিনি। একই কথা বলেছেন বাংলাদেশ ওশানোগ্রাফিক রিসার্চ ইন্সটিটিউট কক্সবাজারের প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা আবু সাঈদ মোহাম্মদ হোসেন শরীফ। তিনি জানান, এটি একটি তিমি।

টেকনাফ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম সাইফ জানান, উপকূলীয় বন বিভাগের সহায়তায় মাছের মৃতদেহটির পরবর্তী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।

সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত