বাগমারায় বাড়ি ঘেরাও দিয়ে কিস্তি আদায়
jugantor
বাগমারায় বাড়ি ঘেরাও দিয়ে কিস্তি আদায়
এনজিওর বিরুদ্ধে জবরদস্তির অভিযোগ ঋণগ্রহীতাদের

  রাজশাহী ব্যুরো  

২৩ জুন ২০২০, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

রাজশাহীতে বেশ কিছু এনজিওর বিরুদ্ধে সরকারি নিষেধাজ্ঞা লঙ্ঘন করে ঋণের কিস্তি আদায়ে জবরদস্তির অভিযোগ উঠেছে। এসব এনজিওর মধ্যে জাতীয় পর্যায়ের এনজিও যেমন রয়েছে তেমনি স্থানীয় এনজিও রয়েছে।

ভুক্তভোগী ঋণগ্রহীতারা বলছেন, কিস্তি আদায়ে মাঠকর্মীরা সরকারি নিষেধাজ্ঞা ও নির্দেশনার কথা মানছেন না। তারা কিস্তি আদায়ে নানা ধরনের কৌশলও নিচ্ছেন। বিষয়টি বিভিন্ন উপজেলা ও রাজশাহী জেলা প্রশাসনের গোচরিভূত হয়েছে। এ ব্যাপারে জেলা প্রশাসন সংশ্লিষ্ট উপজেলা প্রশাসনকে জারিকৃত সরকারি নির্দেশনার আলোকে পদক্ষেপ গ্রহণের নির্দেশ দিয়েছেন। রাজশাহীর জেলা প্রশাসক মো. হামিদুল হক জানিয়েছেন, আগামী ৩০ জুন পর্যন্ত জোর করে কারও কাছ থেকে ঋণের কিস্তি আদায় করা যাবে না। এ বিষয়ে সরকারি নির্দেশনার আলোকে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাদের পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য বলা হয়েছে।

অভিযোগে জানা গেছে, রাজশাহীর বাগমারা উপজেলার হামিরকুৎসা ইউনিয়নের মাঝগ্রামের দরিদ্র দিনমজুর আবদুল হান্নান করোনার প্রকোপে কাজ হারিয়েছেন। তার আগে শাপলা গ্রামোন্নয়ন সংস্থার ভবানীগঞ্জ শাখা থেকে ক্ষুদ্রঋণ নিয়েছিলেন। কিছু পরিশোধ করেছেন কিস্তির মাধ্যমে। এখন গ্রামে কাজ নেই। তিনি বাকি টাকা পরিশোধে সময় চাইলেও শাপলা সংস্থার মাঠকর্মীরা সম্প্রতি তার বাড়ি ঘেরাও করেন।

এনজিওর লোক আসার বিষয়টি টের পেয়ে তিনি বাড়ি ছেড়ে পালিয়ে যান। কিন্তু শাপলার মাঠকর্মীরা কিস্তির জন্য রাত ১০টা পর্যন্ত তার বাড়িতে বসে থাকেন। এদিকে বাগমারার মাঝগ্রামের টিপু, আবদুল জলিল, মদন সরদার, সাইদুর রহমান, আবদুস সামাদ, রুবেল আলী, নজের আলী, ফজলুল হক, আমিনুল হকসহ ভুক্তভোগীরা আরও জানান, বাগমারা উপজেলাজুড়ে শাপলা, শতফুল বাংলাদেশ, টিএমএসএসসহ ৩০টির বেশি এনজিওর মাঠকর্মীরা করোনার মধ্যেও ক্ষুদ্রঋণের কিস্তি তুলতে তৎপর রয়েছেন। কিস্তি দিতে না পারলে তারা চাপ প্রয়োগ করছেন। আয়-রোজগার না থাকায় ঋণগ্রহীতারা এনজিওকর্মী দেখেই বাড়ি ছেড়ে পালিয়ে যাচ্ছেন।

বাগমারার তালঘরিয়া গ্রামের বাবলুর রহমান জানান, ওয়েভ ফাউন্ডেশন ও গাঙচিল নামের দুটি এনজিওর মাঠকর্মীরাও ঋণের কিস্তি তুলতে দিনরাত তৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছেন। কিন্তু করোনায় লোকজন কর্মহীন হয়ে পড়ায় তারা কিস্তি দিতে পারছেন না। অনেকেই বাড়িতে পালন করা ছাগল বা মুরগি বিক্রি করে কিস্তি পরিশোধ করছেন।

এদিকে রাজশাহী জেলাজুড়ে ব্র্যাক, আশা ও গ্রামীণ ব্যাংকের ক্ষুদ্রঋণ অধিক। সরকার করোনার কারণে এপ্রিলের প্রথম সপ্তাহে ক্ষুদ্রঋণের কিস্তি আদায় বন্ধ রাখতে পরিপত্র জারি করলেও এসব বড় এনজিও কোনো নির্দেশনা মানেনি। তারা গত দু’মাসে গ্রাহকদের নানামুখী চাপ দিয়ে কিস্তি আদায় করেই চলেছে। তালঘরিয়া গ্রামের আসমা খাতুন জানান, বড় বড় এনজিও সরকারের নির্দেশনাকে পাত্তা দিচ্ছে না। জোর করে কিস্তি আদায় করছে। কিস্তি পেতে তারা জোর করে গরু, ছাগল, মুরগি কম দামে বিক্রি করতে বাধ্য করছে। এরপর ঋণের পুরো টাকা নিয়ে যাচ্ছে।

এদিকে জোর করে কিস্তি আদায় প্রসঙ্গে শাপলা গ্রাম উন্নয়ন সংস্থার ভবানীগঞ্জ শাখার ব্যবস্থাপক সেলিম রেজা বলেন, কিস্তি আদায় করা যাবে না এমন কোনো নির্দেশনা তাদের কাছে আসেনি। তাই তারা কিস্তি আদায় করছেন। এ ব্যাপারে বাগমারা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শরীফ আহম্মেদ জানান, কোনো এনজিও গ্রাহকদের কিস্তি পরিশোধে বাধ্য করতে পারবে না। স্বেচ্ছায় কেউ চাইলে পরিশোধ করতে পারবেন। এমন নির্দেশনা সরকার আগেই জারি করেছেন। যদি কোনো এনজিও জোরজবরদস্তি করে কিস্তি তোলে তাহলে বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেয়া হবে।

বাগমারায় বাড়ি ঘেরাও দিয়ে কিস্তি আদায়

এনজিওর বিরুদ্ধে জবরদস্তির অভিযোগ ঋণগ্রহীতাদের
 রাজশাহী ব্যুরো 
২৩ জুন ২০২০, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

রাজশাহীতে বেশ কিছু এনজিওর বিরুদ্ধে সরকারি নিষেধাজ্ঞা লঙ্ঘন করে ঋণের কিস্তি আদায়ে জবরদস্তির অভিযোগ উঠেছে। এসব এনজিওর মধ্যে জাতীয় পর্যায়ের এনজিও যেমন রয়েছে তেমনি স্থানীয় এনজিও রয়েছে।

ভুক্তভোগী ঋণগ্রহীতারা বলছেন, কিস্তি আদায়ে মাঠকর্মীরা সরকারি নিষেধাজ্ঞা ও নির্দেশনার কথা মানছেন না। তারা কিস্তি আদায়ে নানা ধরনের কৌশলও নিচ্ছেন। বিষয়টি বিভিন্ন উপজেলা ও রাজশাহী জেলা প্রশাসনের গোচরিভূত হয়েছে। এ ব্যাপারে জেলা প্রশাসন সংশ্লিষ্ট উপজেলা প্রশাসনকে জারিকৃত সরকারি নির্দেশনার আলোকে পদক্ষেপ গ্রহণের নির্দেশ দিয়েছেন। রাজশাহীর জেলা প্রশাসক মো. হামিদুল হক জানিয়েছেন, আগামী ৩০ জুন পর্যন্ত জোর করে কারও কাছ থেকে ঋণের কিস্তি আদায় করা যাবে না। এ বিষয়ে সরকারি নির্দেশনার আলোকে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাদের পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য বলা হয়েছে।

অভিযোগে জানা গেছে, রাজশাহীর বাগমারা উপজেলার হামিরকুৎসা ইউনিয়নের মাঝগ্রামের দরিদ্র দিনমজুর আবদুল হান্নান করোনার প্রকোপে কাজ হারিয়েছেন। তার আগে শাপলা গ্রামোন্নয়ন সংস্থার ভবানীগঞ্জ শাখা থেকে ক্ষুদ্রঋণ নিয়েছিলেন। কিছু পরিশোধ করেছেন কিস্তির মাধ্যমে। এখন গ্রামে কাজ নেই। তিনি বাকি টাকা পরিশোধে সময় চাইলেও শাপলা সংস্থার মাঠকর্মীরা সম্প্রতি তার বাড়ি ঘেরাও করেন।

এনজিওর লোক আসার বিষয়টি টের পেয়ে তিনি বাড়ি ছেড়ে পালিয়ে যান। কিন্তু শাপলার মাঠকর্মীরা কিস্তির জন্য রাত ১০টা পর্যন্ত তার বাড়িতে বসে থাকেন। এদিকে বাগমারার মাঝগ্রামের টিপু, আবদুল জলিল, মদন সরদার, সাইদুর রহমান, আবদুস সামাদ, রুবেল আলী, নজের আলী, ফজলুল হক, আমিনুল হকসহ ভুক্তভোগীরা আরও জানান, বাগমারা উপজেলাজুড়ে শাপলা, শতফুল বাংলাদেশ, টিএমএসএসসহ ৩০টির বেশি এনজিওর মাঠকর্মীরা করোনার মধ্যেও ক্ষুদ্রঋণের কিস্তি তুলতে তৎপর রয়েছেন। কিস্তি দিতে না পারলে তারা চাপ প্রয়োগ করছেন। আয়-রোজগার না থাকায় ঋণগ্রহীতারা এনজিওকর্মী দেখেই বাড়ি ছেড়ে পালিয়ে যাচ্ছেন।

বাগমারার তালঘরিয়া গ্রামের বাবলুর রহমান জানান, ওয়েভ ফাউন্ডেশন ও গাঙচিল নামের দুটি এনজিওর মাঠকর্মীরাও ঋণের কিস্তি তুলতে দিনরাত তৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছেন। কিন্তু করোনায় লোকজন কর্মহীন হয়ে পড়ায় তারা কিস্তি দিতে পারছেন না। অনেকেই বাড়িতে পালন করা ছাগল বা মুরগি বিক্রি করে কিস্তি পরিশোধ করছেন।

এদিকে রাজশাহী জেলাজুড়ে ব্র্যাক, আশা ও গ্রামীণ ব্যাংকের ক্ষুদ্রঋণ অধিক। সরকার করোনার কারণে এপ্রিলের প্রথম সপ্তাহে ক্ষুদ্রঋণের কিস্তি আদায় বন্ধ রাখতে পরিপত্র জারি করলেও এসব বড় এনজিও কোনো নির্দেশনা মানেনি। তারা গত দু’মাসে গ্রাহকদের নানামুখী চাপ দিয়ে কিস্তি আদায় করেই চলেছে। তালঘরিয়া গ্রামের আসমা খাতুন জানান, বড় বড় এনজিও সরকারের নির্দেশনাকে পাত্তা দিচ্ছে না। জোর করে কিস্তি আদায় করছে। কিস্তি পেতে তারা জোর করে গরু, ছাগল, মুরগি কম দামে বিক্রি করতে বাধ্য করছে। এরপর ঋণের পুরো টাকা নিয়ে যাচ্ছে।

এদিকে জোর করে কিস্তি আদায় প্রসঙ্গে শাপলা গ্রাম উন্নয়ন সংস্থার ভবানীগঞ্জ শাখার ব্যবস্থাপক সেলিম রেজা বলেন, কিস্তি আদায় করা যাবে না এমন কোনো নির্দেশনা তাদের কাছে আসেনি। তাই তারা কিস্তি আদায় করছেন। এ ব্যাপারে বাগমারা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শরীফ আহম্মেদ জানান, কোনো এনজিও গ্রাহকদের কিস্তি পরিশোধে বাধ্য করতে পারবে না। স্বেচ্ছায় কেউ চাইলে পরিশোধ করতে পারবেন। এমন নির্দেশনা সরকার আগেই জারি করেছেন। যদি কোনো এনজিও জোরজবরদস্তি করে কিস্তি তোলে তাহলে বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেয়া হবে।