লঞ্চের অধিকাংশ যাত্রী মুন্সীগঞ্জের
jugantor
লঞ্চের অধিকাংশ যাত্রী মুন্সীগঞ্জের

  আরিফ উল ইসলাম, মুন্সীগঞ্জ প্রতিনিধি  

৩০ জুন ২০২০, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

ঢাকা সদরঘাটে ময়ূরী-২ লঞ্চের ধাক্কায় ডুবে যাওয়া মর্নিং বার্ড লঞ্চের অধিকাংশ যাত্রী ছিলেন মুন্সীগঞ্জের। মিরকাদিম লঞ্চঘাট থেকে প্রতিদিনের মতো সোমবারও পৌর এলাকার ফল ও সবজি ব্যবসায়ী, ছোট ছোট গার্মেন্ট ব্যবসায়ী কর্মস্থলের উদ্দেশে লঞ্চে রওনা দেন। কেউবা অসুস্থ স্বজনকে দেখতে হাসপাতালে আবার কেউবা চিকিৎসা করাতে ঢাকায় যাচ্ছিলেন। কিন্তু সদরঘাটে পৌঁছার আগেই শ্যামবাজারে বুড়িগঙ্গায় লঞ্চটি ডুবে যায়। সাঁতরে অনেকে পাড়ে উঠতে পারলেও বেশিরভাগ যাত্রীর সলিল সমাধি হয়েছে।

জানা গেছে, লঞ্চটিতে মিরকাদিম পৌরসভার কাঠপট্টি, রামসিং, রিকাবীবাজার, পশ্চিমপাড়া, গোয়ালগোনি, বজ যোগিনী ও রামপালের যাত্রী ছিল বেশি। এ পর্যন্ত মুন্সীগঞ্জের ১৯ যাত্রী শনাক্ত করা হয়েছে। মুন্সীগঞ্জের বিভিন্ন এলাকায় চলছে শোকের মাতম। বাড়ি বাড়ি চলছে কান্নার রোল। কেউ হারিয়েছেন ভাই, কেউ বোন, কেউবা আবার মা-বাবা হারিয়েছেন। কেউ স্বামী, কেউবা আবার স্ত্রী-সন্তান হারিয়েছেন। শোকে স্তব্ধ হয়ে গেছে পশ্চিম রিকাবীবাজার এলাকা। এখানে বাড়িতে বাড়িতে শোকের মাতম। রিকাবীবাজার পশ্চিমপাড়ার আবদুল রহিমের ছেলে দিদার হোসেন (৪৫) ও মেয়ে রুমা বেগম (৪০) মারা গেছেন। ওই বাড়িতে গিয়ে জানা যায়, বড় বোনের অসুস্থ স্বামীকে দেখতে ভাইবোন ঢাকায় যাচ্ছিলেন।

পশ্চিমপাড়ার পরশ মিয়ার স্ত্রী সুফিয়া বেগম (৫৫) ও তার মেয়ে সুমা বেগম (২৫) যাচ্ছিলেন সদরঘাটের সুমনা ক্লিনিকে চিকিৎসক দেখাতে। সুফিয়া বেগম মারা গেলেও প্রাণে বেঁচে গেছেন সুমা। তাদের বাড়িতে চলছে শোকের মাতম। একই এলাকার শাহজাহান শরীফের ছেলে শিপলু শরীফ ঢাকায় যাচ্ছিলেন তার ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের জন্য হার্ডওয়্যারের মালামাল আনতে। কিন্তু তার আর ফেরা হল না।

আবদুল্লাহপুর ছলিমাবাদ এলাকার মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান মনির (৪৫) ঢাকার ইসলামপুরে নিজের ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে যাচ্ছিলেন। পরিবারের সদস্যরা তার মরদেহ শনাক্ত করেছেন। লঞ্চ দুর্ঘটনা থেকে বেঁচে ফিরে আসা জাহাঙ্গীর হেসেন ও নাসিমা আক্তার বলেন, লঞ্চে ৮০ থেকে ১০০ যাত্রী ছিল। তারা আরও জানান, ডুবে যাওয়া লঞ্চটি থেকে আমরা কয়েকজন যাত্রী সাঁতরে পাড়ে উঠলেও অনেকে লঞ্চের মধ্যে রয়ে গেছে। জেলা প্রশাসক মো. মনিরুজ্জামান তালুকদার জানান, লাশ দাফনের জন্য জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে নগদ অর্থ সহায়তা দেয়া হবে। এছাড়া প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

লঞ্চের অধিকাংশ যাত্রী মুন্সীগঞ্জের

 আরিফ উল ইসলাম, মুন্সীগঞ্জ প্রতিনিধি 
৩০ জুন ২০২০, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

ঢাকা সদরঘাটে ময়ূরী-২ লঞ্চের ধাক্কায় ডুবে যাওয়া মর্নিং বার্ড লঞ্চের অধিকাংশ যাত্রী ছিলেন মুন্সীগঞ্জের। মিরকাদিম লঞ্চঘাট থেকে প্রতিদিনের মতো সোমবারও পৌর এলাকার ফল ও সবজি ব্যবসায়ী, ছোট ছোট গার্মেন্ট ব্যবসায়ী কর্মস্থলের উদ্দেশে লঞ্চে রওনা দেন। কেউবা অসুস্থ স্বজনকে দেখতে হাসপাতালে আবার কেউবা চিকিৎসা করাতে ঢাকায় যাচ্ছিলেন। কিন্তু সদরঘাটে পৌঁছার আগেই শ্যামবাজারে বুড়িগঙ্গায় লঞ্চটি ডুবে যায়। সাঁতরে অনেকে পাড়ে উঠতে পারলেও বেশিরভাগ যাত্রীর সলিল সমাধি হয়েছে।

জানা গেছে, লঞ্চটিতে মিরকাদিম পৌরসভার কাঠপট্টি, রামসিং, রিকাবীবাজার, পশ্চিমপাড়া, গোয়ালগোনি, বজ যোগিনী ও রামপালের যাত্রী ছিল বেশি। এ পর্যন্ত মুন্সীগঞ্জের ১৯ যাত্রী শনাক্ত করা হয়েছে। মুন্সীগঞ্জের বিভিন্ন এলাকায় চলছে শোকের মাতম। বাড়ি বাড়ি চলছে কান্নার রোল। কেউ হারিয়েছেন ভাই, কেউ বোন, কেউবা আবার মা-বাবা হারিয়েছেন। কেউ স্বামী, কেউবা আবার স্ত্রী-সন্তান হারিয়েছেন। শোকে স্তব্ধ হয়ে গেছে পশ্চিম রিকাবীবাজার এলাকা। এখানে বাড়িতে বাড়িতে শোকের মাতম। রিকাবীবাজার পশ্চিমপাড়ার আবদুল রহিমের ছেলে দিদার হোসেন (৪৫) ও মেয়ে রুমা বেগম (৪০) মারা গেছেন। ওই বাড়িতে গিয়ে জানা যায়, বড় বোনের অসুস্থ স্বামীকে দেখতে ভাইবোন ঢাকায় যাচ্ছিলেন।

পশ্চিমপাড়ার পরশ মিয়ার স্ত্রী সুফিয়া বেগম (৫৫) ও তার মেয়ে সুমা বেগম (২৫) যাচ্ছিলেন সদরঘাটের সুমনা ক্লিনিকে চিকিৎসক দেখাতে। সুফিয়া বেগম মারা গেলেও প্রাণে বেঁচে গেছেন সুমা। তাদের বাড়িতে চলছে শোকের মাতম। একই এলাকার শাহজাহান শরীফের ছেলে শিপলু শরীফ ঢাকায় যাচ্ছিলেন তার ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের জন্য হার্ডওয়্যারের মালামাল আনতে। কিন্তু তার আর ফেরা হল না।

আবদুল্লাহপুর ছলিমাবাদ এলাকার মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান মনির (৪৫) ঢাকার ইসলামপুরে নিজের ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে যাচ্ছিলেন। পরিবারের সদস্যরা তার মরদেহ শনাক্ত করেছেন। লঞ্চ দুর্ঘটনা থেকে বেঁচে ফিরে আসা জাহাঙ্গীর হেসেন ও নাসিমা আক্তার বলেন, লঞ্চে ৮০ থেকে ১০০ যাত্রী ছিল। তারা আরও জানান, ডুবে যাওয়া লঞ্চটি থেকে আমরা কয়েকজন যাত্রী সাঁতরে পাড়ে উঠলেও অনেকে লঞ্চের মধ্যে রয়ে গেছে। জেলা প্রশাসক মো. মনিরুজ্জামান তালুকদার জানান, লাশ দাফনের জন্য জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে নগদ অর্থ সহায়তা দেয়া হবে। এছাড়া প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।